ট্রফিটা নিয়ে অসম্ভব তৃপ্ত দেখাচ্ছিল ঝুলন গোস্বামীকে। প্রখম মহিলা আইপিএল জেতা। তবে ক্রিকেটার হিসাবে নয়, ঝুলনের দায়িত্বটা মাঠের বাইরের ছিল। মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের মেন্টর হিসাবে সাফল্যের সঙ্গে কাজ করেছেন। কীভাবে সামলালেন সবকিছু? আইপিএল জেতার চব্বিশ ঘণ্টা পর সংবাদ প্রতিদিনকে একান্ত সাক্ষাৎকারে বললেন ঝুলন গোস্বামী। শুনলেন রাজর্ষি গঙ্গোপাধ্যায়।
প্রশ্ন: ক্রিকেটার ঝুলন গোস্বামী যেখানে শেষ করেছিলেন, মেন্টর ঝুলন গোস্বামী (Jhulan Goswami) তো সেখান থেকেই শুরু করলেন! প্রথম বারই মুম্বই ইন্ডিয়ান্স মেন্টর হিসেবে আইপিএল চ্যাম্পিয়ন।
ঝুলন: আমি ঠিক এ ভাবে ভাবিনি কখনও। তবে এটা সম্পূর্ণ অভিজ্ঞতা বলতে পারেন। খেলতাম যখন, মাঠে কী করছি না করছি, তার নিয়ন্ত্রণ আমার হাতে থাকত। কিন্তু কোচ বা মেন্টর হিসেবে মাঠে নেমে কিছু করা যায় না। মাঠে যারা আছে, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তাদের।
প্রশ্ন: মেন্টরশিপ সম্পূর্ণ নতুন চ্যালেঞ্জের ময়দান ছিল আপনার কাছে। কী কী করবেন, ঠিক করেছিলেন?
ঝুলন: দেখুন, এর আগে বাংলার মেন্টর হিসেবে কাজ করেছি। কিন্তু মহিলা আইপিএল অনেক বড় টুর্নামেন্ট। দেখতে হয়েছে যে, টিমে ভাল ঘরোয়া ক্রিকেটার যেমন থাকে। তেমনই টিমে যাতে ভাল বিদেশি ক্রিকেটারও থাকে। একটা জিনিস বুঝেছি যে, নিলাম-শাস্ত্র বোঝা বেশ কঠিন। কারণ আপনি যাদের টার্গেট করছেন, তারা বিশ্বের সেরা সমস্ত ক্রিকেটার, যাদের বাকিরাও নিতে ঝাঁপাবে।
প্রশ্ন: টুর্নামেন্টে খেলার চেয়েও বেশি কঠিন ছিল বলছেন নিলাম-যুদ্ধ জেতা?
ঝুলন: আমার কাছে তো তাই। এর আগে নিলাম যা দেখেছি, বুঝেছি, সবই টিভিতে। প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা তেমন ছিল না বিশেষ। বললাম না যে, নিলামে আপনার মতো বাকিরাও পার্স নিয়ে বসবে। তাদেরও নির্দিষ্ট বাজেট রয়েছে। ধরুন, আপনি কোনও প্লেয়ারের জন্য একটা দাম ভেবে রেখেছেন। গিয়ে দেখলেন, তার দাম বেশি উঠছে। কারণ, বাকি টিমের বাজেট সেই ক্রিকেটারের জন্য বেশি।
[আরও পড়ুন: সাহস জোগাতে তান্ত্রিকের নির্দেশে গাঁজা খেয়ে খুন! তিলজলায় শিশুবলির ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য]
প্রশ্ন: নিলাম থেকে আপনারা একজনও অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটার নেননি। যাঁরা কি না বিশ্বসেরা। কেন?
ঝুলন: নেব না ভেবে নিইনি, তা একদমই নয়। অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটার কে না নিতে চায় বলুন? বিশ্বসেরা তালিকায় ওরাই তো প্রথমে। কিন্তু ওই যে বললাম, বাজেট। সব সময় চাইবেন যাদের, পাবেন না। তখন সম মানের অন্য বিদেশি খুঁজতে হয়। তবে আমরা একটা নির্দিষ্ট মডেল ধরে এগোতে চেয়েছিলাম।
প্রশ্ন: যেমন?
ঝুলন: অলরাউন্ডার মডেল। পুরুষদের ক্রিকেটের নিলাম আর মহিলাদের ক্রিকেটের নিলাম নীতিতে তফাত আছে কিছুটা। পুরুষদের টিমে স্পেশ্যালিস্ট ক্রিকেটার বেশি। কিন্তু আমাদের আবার অলরাউন্ডার বেশি। অস্ট্রেলিয়া টিমে দেখেন না? সাত থেকে আট জন অলরাউন্ডার খেলে। আমরাও তাই যত বেশি সম্ভব অলরাউন্ডার নিতে চেয়েছি।
প্রশ্ন: বুঝলাম। কিন্তু একই সঙ্গে ভাল ভারতীয় ক্রিকেটারও নিতে হত। কারণ, আইপিএল (Women’s IPL) তো আর বিদেশিরা জেতায় না। জেতায় ভারতীয়রা।
ঝুলন: নিয়েছি তো। দেখুন, আমি বহু বছর বাংলা ক্রিকেটের সঙ্গে যুক্ত। বাংলার হয়ে খেলব বলে আমি বিগ ব্যাশ কখনও খেলিনি। আর প্লেয়ার চিনতে পারি আমি। ঠিক চোখে পড়ে যায়। ২০১৭ সালে যেমন যস্তিকা ভাটিয়াকে বল করছিলাম আমি। তখন বাচ্চা মেয়ে একদম। হঠাৎ ও এমন একটা শট মারল যে দেখে মনে হল, আরে এ তো আন্তর্জাতিক মানের শট খেলল! ঘরোয়া পর্যায়ের নয়! সঙ্গে সঙ্গে আমি ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্টকে গিয়ে বলছিলাম যে, একে দেখো। সঠিক ভাবে গাইড করলে, একদিন দেশের হয়ে খেলবে।
প্রশ্ন: বাংলার বাঁ হাতি স্পিনার সাইকা ইশাককেও তো আপনিই আলোয় তুলে আনলেন। যিনি মহিলা আইপিএলের সেনসেশন হয়ে গিয়েছেন।
ঝুলন: সাইকাকে আমি ছোটবেলা থেকে চিনি। ওকে জীবনে অনেক কিছুর সঙ্গে লড়তে হয়েছে। কিন্তু সেই লড়াই লড়ে ও জিতে বেরিয়ে এসেছে। সাইকার উপর সব সময় আমি ভরসা করে এসেছি। যখনই উইকেট দরকার হয়েছে, সাইকাকে বল দিয়ে নিশ্চিন্ত থাকতাম। খারুশ ক্রিকেটার পুরো। আর আমাদের বাঁ হাতি স্পিনার লাগত। কারণ, মহিলা ক্রিকেটে ক্রস ব্যাটে শট বেশি খেলে ব্যাটাররা। সাইকা আমাদের প্ল্যানে ছিলই এমনিতে। আর নিলামে দেখলাম যখন ছিলাম কেউ নিচ্ছে না, আমরা নিয়ে নিলাম।
প্রশ্ন: কত দূর যেতে পারেন সাইকা?
ঝুলন: ভবিষ্যদ্বাণী করতে পারব না। কিন্তু এটুকু বলব, ওকে তৈরি থাকতে হবে। ডাক যখনই আসুক, তৈরি থাকতে হবে।
প্রশ্ন: মুম্বই (Mumbai Indians) একটা সময় লিগ পর্বে ভাল খেলতে খেলতে হঠাৎ হারতে শুরু করে। কিন্তু পরে আবার ঠিক পিক আপ করে নেয়। সফরটা একটু বলুন।
ঝুলন: আমাদের টার্গেট সবার আগে ছিল প্লে অফে যাওয়া। প্রথম দিকে আমরা দারুণ জিতছিলাম। সব একপেশে জিতছিলাম। তার পর হঠাৎ ইউপি আর দিল্লির কাছে হেরে যাই। এখন মনে হচ্ছে, তাতে শাপে বরই হয়েছে। দেখুন, আইপিএলের মতো লম্বা টুর্নামেন্টে সব ম্যাচ জিতবেন না আপনি। কিন্তু হারের পর কামব্যাক করাটাই আসল।
প্রশ্ন: মুম্বই অধিনায়ক হরমনপ্রীত কৌরের সঙ্গে আপনার রসায়নটাও তো একটা ফ্যাক্টর ছিল। বাকিদের চেয়ে আপনাদের এগিয়ে রেখেছিল।
ঝুলন: আমি হরমনপ্রীতকে বহু দিন চিনি। জানি যে, ও আগ্রাসী অধিনায়কত্ব করতে ভালবাসে। আমার কাজ ছিল, ওর যা দরকার সেই মতো প্ল্যাটার সাজিয়ে দেওয়া। এবার কোনটা নেবে, কোনটা নেবে না, সেটা ওর সিদ্ধান্ত। তবে হ্যাঁ, এটা বলতে পারেন হরমনের কোনটা পছন্দ আর কোনটা নয়, সেই মতো প্ল্যাটার সাজাতে জানি আমি। যা অ্যাডভান্টেজ।
প্রশ্ন: শচীন তেণ্ডুলকর, জসপ্রীত বুমরাহরা এসেছিলেন গতকাল ফাইনাল দেখতে। চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর কিছু বললেন শচীন টিমকে?
ঝুলন: দুর্ভাগ্যবশত শচীন স্যরের সঙ্গে আমাদের দেখা হয়নি।
প্রশ্ন: বুমরাহ?
ঝুলন: হ্যাঁ, বুমরাহর সঙ্গে হয়েছে। অনেকে ওর কাছে গিয়ে পরে পরামর্শও চেয়েছে। চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর আমরা মুম্বই ইন্ডিয়ান্স পরিবার সবাই একই সঙ্গে উৎসব করি। পুরুষ টিমের ক্রিকেটাররাও ছিল পরিবারের সমেত। সত্যিই দারুণ গেল সফরটা।
[আরও পড়ুন: ফের প্যান-আধার সংযুক্তিকরণের সময়সীমা বাড়ছে? নয়া সিদ্ধান্তের পথে কেন্দ্র]
সর্বশেষ খবর
-
দলে ভাঙনের মধ্যেই সোনিয়া সাক্ষাতে মমতা, কী কথা হল?
-
রাজ্য মন্ত্রিসভার দপ্তর বণ্টন মুখ্যমন্ত্রীর, কে কোন বিভাগের মন্ত্রী হচ্ছেন?
-
অন্ধকারে আলোর রেখা! প্রীতি ম্যাচ ৩৬ ধাপ উপরে থাকা তাজিকিস্তানের বিরুদ্ধে ড্র ভারতের
-
সুজিত বসুর পর উজ্জ্বল বিশ্বাস, গ্রেপ্তার আরও এক প্রাক্তন মন্ত্রী, এবার ত্রাণচুরির অভিযোগ
-
রাজস্থানে বেআইনি বাজি কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ! ঝলসে মৃত অন্তত ৭