বিতর্কবিদ্ধ হয়ে রইল ভারত-জাপানের ঐতিহাসিক টি-২০ ম্যাচ। একে তো আন্তর্জাতিক স্তরের ওই ম্যাচে কোনও থার্ড আম্পায়ার ছিলেন না। ছিল না কোনও রিপ্লের ব্যবস্থা। তার উপর আবার খেলা চলাকালীন দেখা গেল, মাঠের আম্পায়াররা নিজেদের সিদ্ধান্ত নিজেরাই পালটে দিলেন। যা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বিরল। প্রশ্ন উঠছে, এভাবে মাঠের আম্পায়রা কোনও রিভিউ ছাড়া নিজেদের সিদ্ধান্ত বদলাতে পারেন কিনা।
ভারত-জাপান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ৭৫ বছর পূর্তি। কূটনৈতিক এই সাফল্যকে স্মরণীয় করে রাখতে জাপানের সানো ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট গ্রাউন্ডে জাপানের বিরুদ্ধে একটি টি-২০ ম্যাচ খেলেছে টিম ইন্ডিয়া। সেদিক থেকে দেখতে গেলে জাপানের এই ক্রিকেটাররা টিম ইন্ডিয়ার তথাকথিত সুপারস্টারদের সামনে দুগ্ধপোষ্য শিশুসম। কিন্তু সেই শিশুরাই শ্রেয়স আইয়ারদের রীতিমতো কালঘাম ছুটিয়ে দিলেন। ভারত শেষ পর্যন্ত ম্যাচের শেষ বলে গিয়ে জিতল মাত্র ২ রানে। সেটাও সম্ভব হত না, যদি না আম্পায়ারা নিজেদের দেওয়া একটি বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিজেরাই বদলে দিতেন।
আরও পড়ুন:
ঠিক কী হয়েছিল? ম্যাচের শেষ ওভারে জাপানের দরকার ছিল ৮ রান। সমীকরণটা ৪ বলে ৭-এ নেমে আসার পর অক্ষর প্যাটেলের করা তৃতীয় বলে রিভার্স-হিটের চেষ্টা করেন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান আলেকজান্ডার শিরাই-প্যাটমোর। বলটি লেগ স্ট্যাম্পের বাইরে চলে যায়। আম্পায়ার ক্রিস থারগেট সেটিকে ওয়াইড বল হিসাবে ঘোষণা করেন। পরের বলটিও একইভাবে তিনি ওয়াইড দেন। জাপানের এই আম্পায়ার এর আগে ১৭টি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে আম্পায়ারিং করেছেন। কিন্তু তাঁর ওই সিদ্ধান্তে ক্ষেপে লাল হয়ে যায় ভারতীয় শিবির। অক্ষর প্যাটেল, শ্রেয়স আইয়াররা প্রবল আপত্তি জানান। মজার কথা হল, ওই ম্যাচে কোনও থার্ড আম্পায়ার ছিল না। ফলে রিভিউ করার উপায় ছিল না। শেষে অপর আম্পায়ার ক্রিস ব্রাউনের কাছে সিদ্ধান্ত বদলের আবেদন জানান ভারতীয়রা। আসলে নিয়ম অনুযায়ী ব্যাটার রিভার্স সুইপ করার চেষ্টা করলে এই ধরনের বল ওয়াইড দেওয়া হয় না। শেষে আইসিসির এলিট প্যানেলের আম্পায়ার ব্রাউন হস্তক্ষেপ করেন। তিনি থরগেটের সঙ্গে কথা বলেন। থরগেট সিদ্ধান্ত ফিরিয়ে নেন। বলটি ওয়াইড দেওয়া হয়নি।
এখানে তিনটি প্রশ্ন। এক, ম্যাচে থার্ড আম্পায়ার কেন ছিল না? দুই, বলটি কি ওয়াইড ছিল? তিন, এভাবে মাঠের আম্পায়াররা কি নিজেদের সিদ্ধান্ত বদলাতে পারেন? প্রথম প্রশ্নের উত্তর, জাপানের ওই মাঠে রিপ্লে দেখানোর মতো প্রযুক্তি ছিল না। রিপ্লে দেখানোর জন্য যে Upstairs Review System প্রয়োজন, সেটা ওই মাঠে ছিল না। ফলে দুই আম্পায়ারকে খালি চোখেই সব সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তর, নিয়ম অনুয়ায়ী বলটি ওয়াইড ছিল না। নিয়ম অনুযায়ী, ব্যাটার রিভার্স-হিট বা সুইচ-হিটের চেষ্টা করলে উইকেটের দুই পাশকেই অফ সাইড হিসেবে বিবেচনা করতে হয়। অর্থাৎ, বলটি বাইরের স্টাম্প থেকে ৭৫ সেন্টিমিটারের বেশি দূরে গেলে তবেই সেটিকে ওয়াইড বলা যাবে। তৃতীয় প্রশ্নের উত্তর, হ্যাঁ মাঠের আম্পায়ারের যদি সিদ্ধান্ত ঘোষণার পর মনে হয়, বড়সড় কোনও ভুল করে ফেলেছেন তিনি, তাহলে সেই সিদ্ধান্ত বদলে নিতে পারেন তিনি। তবে সেটা করতে হয়, পরের বলটি হওয়ার আগেই। আইসিসির নিয়মে তেমনটাই বলা হয়েছে। এর আগে ২০২৪ সালে নিউজিল্যান্ড এবং অস্ট্রেলিয়ার মহিলা দলের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এভাবে মাঠের আম্পায়ারকে সিদ্ধান্ত বদলে দিতে দেখা গিয়েছে। অর্থাৎ জাপানের বিরুদ্ধে ভারত কোনও নিয়মবিরুদ্ধ কাজ করেনি। তবে জয় পেতে যেভাবে কালঘাম ছুটল শ্রেয়সদের তাতে জাপানিদের বাহবা প্রাপ্য।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
‘হয় চুক্তি করবে, নতুবা নরকে পাঠাব’, এবার রাষ্ট্রসংঘের মঞ্চ দাঁড়িয়ে ইরানকে হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের
-
হকিতে ১৬-১ ব্যবধানে জয়, পদকের লক্ষ্যভেদ লক্ষ্য সেনদের, এশিয়ান গেমস পদক তালিকায় কোথায় ভারত?
-
ঘুরে ফিরে একটাই প্রশ্ন, নেতাজি এতখানি উপেক্ষিত কেন?
-
পড়ুয়াহীন স্কুলে কি তালা ঝুলবে? বিরোধীদের ‘অপপ্রচারের’ মধ্যে কী জানালেন মন্ত্রী
-
সুদিন নয়, দুর্দিনেরও বন্ধু! কঠিন সময়ে মাতৃহারা রানির পাশে থাকতে ছুটে গেলেন শাহরুখ