BREAKING NEWS

১৫ অগ্রহায়ণ  ১৪২৭  বৃহস্পতিবার ৩ ডিসেম্বর ২০২০ 

Advertisement

‌পাঞ্জাবের বিরুদ্ধে আজ গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে নামার আগে কেকেআরের চিন্তা দলের ধারাবাহিকতা

Published by: Abhisek Rakshit |    Posted: October 26, 2020 1:38 pm|    Updated: October 26, 2020 1:39 pm

An Images

সৌরাশিস লাহিড়ী:‌ দিল্লি (Delhi Capitals) জয় সেদিন সহজ ছিল না। লিগ টেবিলে এক নম্বরে থাকা দলকে নিজেদের দিনেও হারানো যে কঠিন। কিন্তু শনিবার কঠিন কাজটা কত সহজে করেছিল KKR। রানা ও নারিনের ব্যাটিং। পার্টনারশিপে ১১৫ রান। এরপর কামিন্স, বরুনের বোলিং দাপটে একবারও মাথা তুলতে পারল না শ্রেয়সরা। টিম গেমের দুর্দান্ত উদাহরণ দেখে মনে হয়েছিল, এটাই তো ওদের কাছ থেকে ফ্যানরা চান। কেন এটা বারবার হয় না? পাঞ্জাবের বিরুদ্ধে সোমবার আর একটি কঠিন ম্যাচ খেলতে নামার আগে যে কথা সবার আগে মাথায় আসছে, তা হল কেকেআরের (Kolkata Knight Riders) খেলায় ধারাবাহিকতার বড়ই অভাব। এর জন্য ওদের ফেভারিট বলতে পারছি না। কেকেআর হয়তো জিতবে। আবার হারতেও পারে। কিন্তু নিশ্চিত করে একবারও কি আমরা বলতে পারছি, পাঞ্জাবকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দেবেন মর্গানরা?

পারছি না। কারণ একটা ম্যাচে দারুণ খেলার পর টিম গুটিয়ে যায়। এটা মুম্বইয়ের (Mumbai Indians) ক্ষেত্রে বলি না। ওরা সব ম্যাচ জেতে না। কিন্তু ওদের শরীরীভাষায় পজিটিভ ব্যাপার দেখা যায়। তাই চারবার IPL জিতেছে রোহিতরা। অন্যদের মধ্যে এ সব নেই। তাই আবেগ বললেও যুক্তি দিয়ে কেকেআরকে ফেভারিট বলতে গিয়ে আটকে যাচ্ছি।

[আরও পড়ুন: অবশেষে ভারতীয় দলে ডাক পেতে চলেছেন সূর্যকুমার! নেওয়া হতে পারে এক নাইট পেসারকেও]

দিল্লির বিরুদ্ধে কেকেআর জিতেছিল প্রথমত নারিনের দাপুটে ব্যাটিংয়ের জন্য। নীতিশ রানার ৮১ রানের থেকেও নারিনের ৩২ বলে ৬৪ রান খেলা ঘুরিয়ে দিয়েছিল। নারিন শুরুতে আটকে গেলে ম্যাচ অন্যরকম হত। ১৯৪ রানের বদলে ১৬০ টার্গেট দিলে দিল্লি ব্যাটিংয়ের ট্যাকটিস বদলাত। সহজে ম্যাচ বের করে নিত। হ্যাঁ, কেকেআর বোলিংও হয়তো আটকাতে পারত না।

সে যাই হোক, পাঞ্জাবের (Kings Xi Punjab) বিরুদ্ধে আইপিএল ডার্বিতে জিততে গেলে কি করতে হবে কেকেআরকে? আমার খেলোয়াড় জীবনে দেখেছি, বড় একটা ম্যাচ জেতার পর মানসিক কাঠিন্য হারিয়ে যায়। রিল্যাক্স হয়ে পড়তাম। সেই কারণে পরের ম্যাচ কঠিন হয়ে পড়ত। এটা টিম ম্যানেজমেন্টকে দেখতে হবে। ক্রিকেটারদের শান্ত রাখতে হবে। কেউ যেন চাপে না পড়ে। প্রত্যেককে বুঝিয়ে দিতে হবে কার কি কাজ। আগের ম্যাচে কোথাও আটকে যাওয়ার পর টিম কী করে বেরিয়ে এসেছে, এসব চোখের সামনে নিয়ে আসতে হবে। বড় ম্যাচের আগে এ নিয়ে বেশি আলোচনা করতে হয়। কেকেআরকেও তাই করতে হবে।

[আরও পড়ুন: স্বজন হারিয়ে মাঠে নেমেও দুর্দান্ত পারফরম্যান্স, নীতিশ রানা ও মনদীপ সিংকে কুর্নিশ শচীনের]

কেকেআরের দু’জন ক্রিকেটারের দিকে চোখ রাখতে বললে শুভমান ও কামিন্সের কথা বলব। শুভমন বড় ম্যাচের মানসিকতা তৈরি করে ফেলেছে। এবারও রান করেছে। রানা যাই করুক, শুভমনের ব্যাটে রান চাই। কামিন্সকে দিল্লি ম্যাচের মতো শুরুতে উইকেট নিতে হবে। ওদের ওপেনিং জুটি এবারের টুর্নামেন্টে সেরা। কামিন্স ওদের ফেরাতে পারলে ম্যাচের রাশ মর্গানের হাতে আসবে। নারিন দিল্লি ম্যাচে বড় রান করলেও ওর উপর বাজি লাগাব না। হলে ভাল। না হলে! আর বরুণের পাঁচ উইকেটের কথা বলতেই হবে। এই ছেলেটাকে টিম আত্মবিশ্বাস দিয়েছে। টানা খেলিয়ে ওকে ভরসা দিয়েছে। তাই এবার নজরে পড়ছে। মিডল ওভারে দিল্লি হাওয়ায় ব্যাট ঘুরিয়ে ওকে উইকেট দিয়েছে। কেকেআরের রান দেড়শোর কিছু বেশি হলে বরুণের কাজ সহজ হত না। তাই আমার কাছে শুভমন ও কামিন্স আসল ঘোড়া। ওরা টিমকে জেতাতে পারে। না পারলে হারাতেও পারে।

এবার পাঞ্জাবের কথায় আসি। ওদের ওপেনারদের কথা বলেছি। তবে গেইল টিমে আসায় ব্যালান্স অন্যরকম হয়েছে। টানা চার ম্যাচ জিতে ওরা কেকেআরের বিরুদ্ধে নামবে। এমন দলের কাছে কঠিন ম্যাচও সহজ হয়। দল ছন্দে থাকায় মানসিকতা অন্যরকম হয়ে যায়। একসময় সামি বোলিংয়ে নেতৃত্ব দিচ্ছিল। এখন সঙ্গে অনেকে এসেছে। বাঁহাতি পেসার অর্শদীপকে ভাল লাগছে। এই ছেলেটাকে কোচ কুম্বলে কনফিডেন্স দিয়েছে। তাই নিজেকে সেভাবে মেলে ধরেছে। আর একজনের কথা না বললে ভুল হবে। লেগ স্পিনার বিষ্ণোই। দারুণ বোলিং করছে। নিজেকে ধরে রাখতে পারলে অনেকদূর যাবে। এদের নিয়ে পাঞ্জাব বোলিং দাঁড়িয়ে গিয়েছে। তাই ওরা ভাল খেলছে।  এই ম্যাচ দু’দলের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। কেকেআর জিতলে প্লে অফের দিকে আরও এক পা রাখবে। ১২ ম্যাচে ১৪ পয়েন্ট করে ভাল জায়গায় থাকবে। কেকেআর হারলে ১২ ম্যাচে ১২ পয়েন্টে থাকবে। উল্টোদিকে পাঞ্জাব ১২ ম্যাচ সমসংখ্যক পয়েন্ট নিয়ে কেকেআরের ঘাড়ে নিশ্বাস ফেলবে। তাই এই ম্যাচ মর্গানকে বের করতে হবে। না হলে অনেক কিছু গোলমাল হয়ে যাবে।

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement