BREAKING NEWS

৯ আশ্বিন  ১৪২৭  সোমবার ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০ 

Advertisement

শৃঙ্খলা না মানলে দরজা খোলা: মমতা

Published by: Sangbad Pratidin Digital |    Posted: July 3, 2016 1:16 pm|    Updated: July 3, 2016 1:16 pm

An Images

স্টাফ রিপোর্টার: এককভাবে ২১১ আসনে জয়৷ সর্বকালীন রেকর্ড৷ তার পরে মানুষের আশীর্বাদকে মর্যাদা দিতে নেতৃত্বকে কীভাবে চলতে হবে, সেই ‘নীতি’ নির্ধারণ করে দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ শনিবার কালীঘাটের অফিসে তৃণমূলের ‘নীতি নির্ধারণ কমিটি’র প্রথম বৈঠকে নেত্রী ছিলেন নিজের মেজাজে৷ তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন,
১. দলে থেকে উপদলীয় কোন্দল বরদাস্ত করা হবে না৷ দলের নিয়ম যে অমান্য করবে, দরজা খোলা আছে৷ অন্য অনেক দলও আছে, সেখানে সে চলে যেতে পারে৷ ভোটে যাঁরা দলের প্রার্থীর বিরোধিতা করেছেন, তাঁদের চিহ্নিত করা হচ্ছে৷ বিশ্বাসঘাতকদের ক্ষমা নেই৷
২. স্বয়ং তিনি মুখ্যমন্ত্রী৷ তিনি অভিভাবক৷ ফলে প্রশাসন চলবে প্রশাসনের মতো৷ দল দলের মতো৷ পুলিশের কাজে নাক গলানোর প্রয়োজন নেই৷ সমস্যা হলে তিনি আছেনই৷
৩. ২০১৮-এ পঞ্চায়েত ভোট৷ তার পরের বছর লোকসভা৷ এখন ছাত্র সংগঠন মজবুত করতে হবে৷ মিনমিনে নয়, ডাকাবুকো ও মেধাবীদের সংগঠনের শীর্ষে আনতে হবে৷ কলেজ রাজনীতিতে বহিরাগত হস্তক্ষেপ নয়৷
৪. কোনও এলাকায় বেআইনি চোরাচালান, গরু পাচার বা আইনশৃঙ্খলার অবনতির মতো বিষয়ে দলের কেউ জড়িত থাকতে পারবে না৷ তৃণমূলে তাঁর জায়গা নেই৷

mamata_web

বৈঠক শেষের পর মুখ্যমন্ত্রী। শনিবার কালীঘাটে।

৫. সামনে ২১ জুলাই৷ বিধানসভা ভোটে তৃণমূলের বিপুল জয়ের পর মা-মাটি-মানুষ দিবসে হবে বিজয়োৎসব৷ ধর্মতলায় সমাবেশ৷ সুষ্ঠুভাবে দিনটি পালন করতে হবে৷
৬. পঞ্চায়েতে অনাস্থা আনছে কেউ কেউ৷ এ ব্যাপারে নেত্রী কঠোর৷ নির্দিষ্টভাবে সেইসব এলাকা চিহ্নিত করতে বলেছেন৷ অভিযোগ, মান-অভিমান থাকতেই পারে৷ সুব্রত বক্সির কাছে সেসব জানাতে হবে৷ কিন্ত্ত দলের প্রার্থীর বিরু‌দ্ধে অনাস্থা নয়৷ মুকুল রায় এই কাজটি এখন থেকে দেখবেন৷
৭. ২৮ আগস্ট দলের ছাত্র সংগঠনের বার্ষিক সমাবেশ৷ এ বছর দিনটি রবিবার৷ কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ৷ ছাত্র-ছাত্রীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতেই সমাবেশ হবে ২৬ আগস্ট৷
দ্বিতীয় ইনিংসের শুরু থেকেই দল ও প্রশাসনে কঠোর বার্তা দিচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী৷ নেতাজি ইন্ডোরের কর্মশালায় ঘোষণা অনুযায়ী এদিন ছিল দলের নীতি নির্ধারণ কমিটির প্রথম বৈঠক৷ পরবর্তী বৈঠক হবে ৬ আগস্ট৷ জেলা সভাপতি বাদ দিলে জনা কুড়ি নেতৃত্ব৷ সব মিলিয়ে ৪০ জনের টিম৷ এটাই তৃণমূলের কার্যত কোর-গ্রূপ৷ সব সিনিয়র নেতাই ছিলেন বৈঠকে৷
এদিন খারাপ ফল হওয়া মালদহ, আসানসোল, বাঁকুড়া ও দক্ষিণ দিনাজপুরে সভাপতিদের তুলোধোনা করেন মুখ্যমন্ত্রী৷ মালদহের সভাপতিকে বলেন, চোরাচালান, গরুপাচার, আফিমের চাষ চলছে ওই জেলায়৷ সেই জন্যই জেতা যায়নি৷ নেতৃত্ব ব্যর্থ৷ নিজেদের মধ্যে খেয়োখেয়ি করেছে৷ আসানসোলের গোষ্ঠীকোন্দলের উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, এ জিনিস বন্ধ করতে না পারলে অন্য দলে চলে যান৷ ছাত্র-নেত্রী জয়া দত্ত সদ্য দায়িত্ব পেয়েছেন৷ নেত্রী তাঁকে মনে করিয়ে দিয়েছেন, টিভি চ্যানেলে মুখ না দেখিয়ে কাগজে বিবৃতি না দিয়ে কলেজের সংগঠনের কাজে মন দিতে৷ একাধিক জেলায় কিছু সাংগঠনিক সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে৷ উত্তর কলকাতায় জেলা সভাপতির নতুন দায়িত্ব দেওয়া হল জীবন সাহাকে৷ এই পদে ছিলেন মৌসুমি দে৷ দক্ষিণ দিনাজপুরে দলের মহিলা সংগঠনের সভানেত্রী করা হল মামুদা বেগমকে৷ এই পদে ছিলেন কৃষ্ণা দত্ত৷ এদিন বৈঠকে কলেজের গভর্নিং বডিতে বিধায়কদের না থাকার পক্ষেই মত দেন দলনেত্রী৷ কিন্তু নেতৃত্ব বলে, এলাকার স্বার্থেই বিধায়কদের সেই কমিটিতে থাকা উচিত৷ মুখ্যমন্ত্রী তা মেনে নেন৷

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement