তিনি কলকাতা পৌরসভার বর্তমান মেয়র। আবার কলকাতা বন্দর বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থীও। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অন্যতম ভরসার জায়গা তিনি। একরাশ কঠিন প্রশ্নের মুখোমুখি ফিরহাদ হাকিম (Firhad Hakim), জবাব দিলেন সংবাদ প্রতিদিন ডট ইন-কে।
প্রশ্ন: একদিকে তুমি মন্ত্রী, আরেকদিকে মহানাগরিক। ঠিক একইভাবে, তুমি কলকাতা বন্দরে প্রার্থী আবার ভবানীপুরের দায়িত্বে। এই মাল্টিটাস্কিংয়ের পিছনে সিক্রেটটা কী?
উত্তর: আসলে ভবানীপুর এলাকায় আমি এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, দু’জনেই জন্ম থেকে বড় হয়েছি। এখানে বেশিরভাগ মানুষের সঙ্গে আমাদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক। ছোটবেলা থেকে রাজনীতি করার আগে থেকেও সমাজসেবা করি। ক্লাব, পাড়া, হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া, শ্মশানে নিয়ে যাওয়া, রক্ত লাগলে সেটা নিজেরা দেওয়া। সেই জায়গা থেকেই ভবানীপুরের কাজ করছি। আর, কলকাতা বন্দরে যেহেতু আমি ১৫ বছর বিধায়ক, সেখানেও আমি নিয়মিত যাই, বসি, মানুষের সঙ্গে রেগুলার যোগাযোগ থাকে। তবে, আমি বন্দরের থেকে বেশি ভবানীপুরে সময় দিচ্ছি, কারণ, ভবানীপুরের সঙ্গে বাংলার সম্মান জড়িত। বন্দরে জিতলে নেত্রীর হাত শক্ত হবে, কিন্তু ভবানীপুর আমাদের কাছে, আমার কাছে প্রায়োরিটি।
আরও পড়ুন:
প্রশ্ন: শুধু এবারের প্রচার বা ভবানীপুরের দায়িত্ব নয়, নেত্রী কিন্তু বিগতদিনেও বারংবার তোমার উপর ভরসা রেখেছেন। এই বিশ্বাস গড়ে উঠল কী করে?
উত্তর: অনেক ছোটবেলা থেকেই যাওয়া আসা। আসলে আমাদের পাশাপাশি পাড়া। যখন মমতাদির উত্থান হল, স্বাভাবিকভাবেই আমারও রাজনীতিতে গুরুত্ব বাড়ল। এই তিরিশ বছরের বেশি যে-সম্পর্ক, সেই থেকেই বিশ্বাস এসেছে।
প্রশ্ন: কলকাতা বন্দরে তোমার বিরুদ্ধে বিজেপি প্রার্থী করেছে রাকেশ সিংকে। সে তো তোমার বিরুদ্ধে অল-আউট যাচ্ছে। ইকবালপুর থানায় হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ। প্রতিপক্ষকে কেমন দেখছ?
উত্তর: আমি যতদূর শুনেছি, ইনি আগেও আমার বিরুদ্ধে অন্য দল থেকে দাঁড়িয়েছিলেন। আমার মনে হয়, বিজেপি হয়তো এবার প্রার্থী পায়নি, তাই ওঁকেই দিয়েছে। কিন্তু আমি মনে করি, গুন্ডামি ও সাম্প্রদায়িকতার রাজনীতিতে স্থান নেই। বাংলায় রাজনীতি করতে গেলে অসাম্প্রদায়িক হতে হবে, সহিষ্ণুতা রাখতে হবে। মানুষের সমস্যার সমাধান করতে হবে। আমি কত বড় নেতা বাড়িতে বা দলে, সেই মস্তানি করে মানুষের সমর্থন পাওয়া যায় না। ঠান্ডা মাথায়, ব্যবহার ভাল রেখে, মানুষকে পরিষেবা দিতে হয়। তাই এরা সাকসেসফুল হতে পারে না।
“আমরা চৌত্রিশ বছর দিদির নেতৃত্বে লড়াই করেছি। সেই লড়াই সিপিএমের বিরুদ্ধে ছিল, মানুষের বিরুদ্ধে ছিল না। বিজেপি যতবার বাংলাকে টাইট দিতে চেষ্টা করেছে, ততবার মানুষের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। সিএএ, এসআইআর, নোটবন্দির নামে মানুষকে লাইনে দাঁড় করিয়ে দেওয়া। প্রতিবার টার্গেট মানুষ। দেশের প্রধানমন্ত্রীকে মানুষ ভয় পাচ্ছে।”
প্রশ্ন: জেল থেকে জামিন পাওয়ার পরেরদিনই বিজেপি তাঁকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করল।
উত্তর: (থামিয়ে) কী আর করবে বলো, বিজেপি এমন একটা দল, যার নিজের কাছে প্রার্থী নেই। চাতক পাখির মতো জেলের গেটের দিকে তাকিয়ে থাকতে হয়, কখন বিভিন্ন কেসের ক্রিমিনালগুলো বেরবে, আর বিজেপি তাঁদের প্রার্থী করবে। এটাই ওদের কালচার। রাজ্য বিজেপির পায়ের তলায় মাটি নেই, তাই এদের মতো লোকেদের প্রার্থী করতে হচ্ছে, সেটাই দুর্ভাগ্যের।
প্রশ্ন: এটা কি তোমায় অ্যাডভান্টেজ দেবে বন্দরে?
উত্তর: আমার কিছু এসে যায় না। আমি কোনও প্রার্থীর নাম মুখেও আনি না, আক্রমণও করি না। আমার কাজ আর পরিষেবা নিয়ে আমি মানুষের কাছে যাই। আমার কাছে কে প্রার্থী হল, সেটা ম্যাটার করে না। মানুষের কী প্রত্যাশা আছে আমার থেকে, আর আমি সেটা পূরণ করতে পারব কি-না, সেটাই আমার কাছে মূল বিষয়।
প্রশ্ন: তুমি কলকাতা বন্দরের বিধায়ক হওয়ার পর, তোমার কেন্দ্রের আর্থ-সামাজিক পরিবর্তন এনেছো। স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল বানিয়েছো। পরিকাঠামোগত উন্নতি হয়েছে। আরও কিছু কাজ করা কি বাকি থেকে গিয়েছে?
উত্তর: এখনও অনেক কাজ বাকি। কলকাতা বন্দরের একটা বড় সমস্যা হল বেকারত্ব। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা। এবার একটা টেকনিক্যাল সেন্টার খুলে, সেখানে ট্রেনিং দিয়ে, সরাসরি চাকরির ব্যবস্থা করব। আমার আসলে কাজ ভাগ করা থাকে। প্রথম পাঁচ বছর পরিকাঠামো, পরের পাঁচ বছরে শিক্ষা, তারপরের পাঁচ বছর স্বাস্থ্য পরিষেবা আর এবার আমার মূল কাজ হবে কর্মসংস্থান। তাই, এই কাজটা আমার কাছে যেমন চ্যালেঞ্জিং, তেমনই উৎসাহের।
প্রশ্ন: একাধিক ওয়ার্ডে প্রচার করছ। মানুষের কিছু ক্ষোভ তো আছেই। কোথাও রাস্তা খোঁড়া, কোথাও জলের সমস্যা। মানুষ প্রশ্ন করছে। কীভাবে দেখছ, সামলাচ্ছো?
উত্তর: আশীর্বাদ হিসেবে দেখছি। কারণ, মানুষের সমস্যার সম্মুখীন যদি না হই, তাহলে তো সমস্যার সমাধান হবে না। আমি যদি ভাবি আমার যারা তাঁবেদার, তারাই আমার চারপাশে থাকবে, তাহলে তাঁদের কথায় বিশ্বাস করে একদিন ধ্বংসের মুখে চলে যাব। বরং মানুষের কাছে সরাসরি কথা বললে, সমস্যার কথাগুলো শুনে সেগুলোর সমাধান করে দিলে, তাঁরা খুশি হন। এটা আমার চিরকালের থিওরি। আমার কর্পোরেশনে যারা বিরোধী আর সংবাদমাধ্যম, আমার কাছে বন্ধু। কারণ, বিরোধীরা অনেক বাজে কথা বলে, কিন্তু তার মধ্যেও যদি কোনও অভিযোগ করে, সেটা সত্যি হয়েছে কিনা, বা সংবাদমাধ্যম যদি আমার বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ করে, সেটা যদি সত্যি হয়, তাহলে সেটা আমাকে নিজেকে ঠিক করতে সাহায্য করে। আত্মতুষ্টির জায়গা নেই।
প্রশ্ন: সাম্প্রতিককালে তুমি বলেছ, দিলীপ ঘোষ নাকি তৃণমূলে আসতে চেয়েছিলেন। এবং তিনি পালটা তৃণমূল একটা ডাস্টবিন, যেখানে মাছের বাজারের মতো এতটাই দুর্গন্ধ ছড়ায়, যে বেশিদিন কেউ থাকতে পারে না।
উত্তর: দিলীপদার ভালই লেগেছে, যে মোদিজি ওর কাঁধে হাত রেখে মিষ্টি খেতে চেয়েছেন। সেদিন থেকেই দিলীপদার উত্থান হয়েছে। তার আগে ও দুঃখ পেয়েছিল, বসে যাচ্ছিল এবং একটা ইচ্ছে প্রকাশও করেছিল, যদি কেউ তাকে রাজনৈতিকভাবে একটু গুরুত্ব দেয়। তাই মনে হয়, বিজেপি ভয় পেয়ে ওর কাঁধে হাত রেখেছে।

প্রশ্ন: কিন্তু আসতে চেয়েছিল, এটা কি সত্যি?
উত্তর: তাই জন্যেই তো কাঁধে হাত দিয়ে বিয়ের মিষ্টি খেতে চেয়েছে। হয় কাঁধে হাত দাও, নাহলে আমি চললাম।
প্রশ্ন: তুমি বিজেপিকে হঠাৎ ‘বেনিয়া পার্টি’ বলতে গেলে কেন?
উত্তর: বিজেপি হচ্ছে বেনিয়াদের দল। দাও-নাও। গিভ অ্যান্ড টেক। মানুষের জন্য নিঃস্বার্থভাবে কাজ করা বিজেপির কালচারে নেই। যারা ব্যবসায়ী মানসিকতার নেতা, তারাই বিজেপি করে। আমাদের মতো, যারা ছোটবেলা থেকে সমাজসেবা করে বড় হয়েছি, তাদের সঙ্গে বিজেপির সংস্কৃতি ম্যাচ করে না।
প্রশ্ন: বিজেপির উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ বাংলায় এসে, নাম না করে তোমাকেই আক্রমণ করে গেলেন। তিনি বললেন, যে বাংলায় আর উর্দু বলা যাবে না।
উত্তর: (থামিয়ে) তুমি দেখো, কত বড় মুর্খের দল! এরা একবার বলে ঘুসপেটিয়াদের ভাষা। আবার ঘুসপেটিয়া বলতে এরা বাংলাদেশীদের বোঝায়। তাহলে বাংলাদেশ তো উর্দু ভাষার বিরুদ্ধেই ভাষা আন্দোলন করেছে। সেই ইতিহাস তাঁরা জানে না। আর, উর্দু ভাষা হল শায়েরির ভাষা। সেই ভাষায় অটল বিহারী বাজপেয়ীও প্রচুর লেখালিখি করেছেন। আমি যেমন বাংলা জানি, হিন্দি-ইংরেজি জানি, তেমন উর্দুও জানি। ভাষা কোনও ধর্মের হয় না। আমি জানি মনমোহন সিংয়ের বোন বেহালায় থাকতেন। তাঁরা একে অপরকে উর্দুতে চিঠি লিখতেন, কারণ, তাঁরা যে-জায়গায় বড় হয়েছেন, সেখানে উর্দুই বলত মানুষ। উত্তর ভারতের বহু মানুষ আজও উর্দুতে কথা বলেন, লেখেন।
প্রশ্ন: ‘মিনি পাকিস্তান’ থেকে ‘উর্দু বলা’, সারা বছর বিরোধীরা এগুলোকে ইস্যু করে আক্রমণ করে। এগুলোকে কীভাবে সামলাও?
উত্তর: এগুলোর কোনও উত্তর দিতে হয় না। কারন, বিজেপির বলা সব মিথ্যে অমিত মালব্যর ক্রিয়েট করা। এবং তিনি সবসময় মিথ্যে কথাই বলেন, আর সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। আমি কোনওদিন পাকিস্তানে যাইনি। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী প্লেন ঘুরিয়ে, বিনা নোটিসে নওয়াজ শরিফকে জড়িয়ে ধরেছিলেন। তারপর ধরো, পাকিস্তানের সঙ্গে প্রায় যুদ্ধ জিতে যাওয়ার মুহুর্তে, কারও ফোনে তিনি যুদ্ধ বন্ধ করে দিলেন। সুতরাং, এদের সঙ্গে ভিতরে কী গট-আপ, কাকে বলে কোন কাগজে লেখাচ্ছে, আমি জানি না। কিন্তু আমি ভারতীয়। ভারতের শত্রু, আমার শত্রু। এই দেশে থেকে, আমি মরে গেলেও সমর্থন করতে পারব না। মুসলমান মানেই সে পাকিস্তানি নয়। অনেক দেশপ্রেমিক আছে। ‘মিনি পাকিস্তান’ আমি কোনওদিন বলিনি। পাকিস্তানের কোন সংবাদপত্র লিখেছিল, সেই সংবাদপত্র আবার বিজেপি অফিসে আসে। কারণ পাকিস্তানের সঙ্গে ওদের দোস্তি বেশি। এই রটনাগুলো লোকের মুখে বসিয়ে দেওয়াটাই বিজেপির মিথ্যাচার।
প্রশ্ন: হুমায়ুন কবীর একটা সময়ে তোমার দলের সতীর্থ। তারপর তুমিই তৃণমূল ভবনে বসে তাঁকে সাসপেন্ড করেছিলে। এখন তিনি নিজে একটা দল গড়ে মুর্শিদাবাদে প্রার্থী দিয়েছেন।
উত্তর: ও বেচারার প্রবলেম হচ্ছে, স্টেবিলিটির অভাব। একবার বিজেপি, একবার কংগ্রেস, আবার তৃণমূলে আসে। এখন আবার শুনছি, বিজেপির থেকে টাকা নিয়ে বাবরি মসজিদের নামে মুসলিম ভোট ভাগ করার জন্য অর্থসাহায্য পেয়েছে। এদের রাজনীতিতে বা সমাজে কোনও স্থান হওয়া উচিত নয়। যেরকম বিজেপি সাম্প্রদায়িক, হুমায়ুনও তা-ই। ধর্মীয় আবেগকে বিক্রি করা বড় পাপ। মসজিদ বানান, সেখানে আল্লাহর নামে নিজেকে সমর্পন করুন। বিজেপির কাছে ধর্মের নামে আত্মসমর্পন করার থেকে বড় পাপ কিছু হয় না।
প্রশ্ন: বাবরি মসজিদের আবেগ দিয়ে কি হুমায়ুন সংখ্যালঘু ভোট ভাগ করতে পারবেন?
উত্তর: আমার মনে হয় না। সংখ্যালঘুদের কেউ যদি বোকা ভাবে, তাঁদের থেকে বোকা কেউ নেই।
প্রশ্ন: হুমায়ুন কবীরের যে স্টিং অপারেশন হয়েছে, সেটাকে উনি বলছেন এআই দিয়ে তৈরি আর সেটা নাকি তুমি বানিয়েছো!
উত্তর: তাহলে ও কোর্টে মামলা করুক। তারপর সেই ভিডিও আমরা টেস্ট করতে দেব। রিপোর্ট যদি বলে এই ভিডিও মিথ্যে, তাহলে আমরা সব শাস্তির অধিকারী। হুমায়ুন একটা বড় ক্লেম করুক। যদি হেরে যাই, তাহলে গাড়ি বাড়ি বিক্রি করে ওকে টাকা দেব। আর যদি না করতে পারে, তাহলে ও জেলে যাক।
প্রশ্ন: মসজিদটার নাম বাবরি না দিয়ে যদি অন্য কোনও নাম দিত তাহলে…
উত্তর: (থামিয়ে) বাবরি মসজিদ, যেটা ধ্বংস করেছে, সেটা নিয়ে ধর্মীয় সম্প্রদায়ের একটা আবেগ যে আছে, তা অস্বীকার করার কিছু নেই। কিন্তু সেই আবেগটাকে এখানে এনে ভোটের ময়দানে বিক্রি করবে, এটাই সবচেয়ে বড় পাপ। বিজেপিকে যেমন আমরা বলি, রামের নাম বদনাম না করতে, ঠিক তেমনই ধর্ম নিয়ে ব্যবসা করে বিজেপিকে বিক্রি করা অন্যায়। রাজনীতির একটা সীমারেখা থাকা উচিত। সব কাজ হয়তো পূরণ করা সম্ভব হয়ে ওঠে না, কিন্তু আবেগকে বিক্রি করে দেওয়া ঠিক নয়।
প্রশ্ন: এবারের নির্বাচনে এসআইআরের প্রভাব কতটা?
উত্তর: মানুষের মনে প্রচণ্ড দুঃখ আছে। তাঁদের আত্মসম্মানে আঘাত লেগেছে, যে তাঁদের নিজেদেরকে এই দেশের নাগরিক প্রমান করতে হবে, নাহলে ভোটার লিস্ট থেকে নাম কেটে যাবে। প্রায় ২০০ লোকের প্রাণ গেছে। বিজেপি ৪ তারিখ এটার ফল বুঝতে পারবে। আমরা সিপিএমের বিরুদ্ধে লড়াই করেছি চৌত্রিশ বছর। দিদির নেতৃত্বে লড়াই করেছি। সেই লড়াই সিপিএমের বিরুদ্ধে ছিল, মানুষের বিরুদ্ধে ছিল না। বিজেপি যতবার বাংলাকে টাইট দিতে চেষ্টা করেছে, ততবার মানুষের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। কখনও সিএএ, কখনও এসআইআর, আবার কখনও নোটবন্দির নামে মানুষকে লাইনে দাঁড় করিয়ে দেওয়া। প্রতিবার টার্গেট মানুষ। দেশের প্রধানমন্ত্রীকে মানুষ ভয় পাচ্ছে। শোলে সিনেমার গব্বর সিং-এর মতো!
“আমি যখন প্রচারে বেরোই, তখন আমার সঙ্গে যারা লড়াই করে, তাঁদের নিয়ে আমি আমার সংগঠন করি। বিজেপির পায়ের তলায় মাটি নেই। লোক নেই। সংগঠন নেই। তাই কেন্দ্রীয় এজিন্সিগুলোকে ওরা নিজেদের শাখা-সংগঠন বানিয়েছে।”
প্রশ্ন: রাস্তাঘাটে লোকজন বলছে, আবার নাকি বামেদের ভোট বাড়বে। রামের থেকে বাম যদি তাঁর ভোটটা ফিরিয়ে আনতে পারে, তাহলে কি তৃণমূল লাভবান হবে?
উত্তর: তৃণমূলের নিজের যা ভোটব্যাঙ্ক আছে, নেত্রী যা কাজ করেছেন, আর্থ-সামাজিকভাবে গরীব মানুষের পাশে থেকেছেন, লক্ষ্মী ভাণ্ডার থেকে শুরু করে যা যা প্রকল্প এনেছেন, তাতে মানুষ খুশি। দ্বিতীয় হওয়ার জন্য কাদের মধ্যে লড়াই, সেই নেই আমরা ভাবিত নই। আমরা ভাবছি, মানুষকে আমরা সেবা দিতে পেরেছি কি-না, আর তার বদলে মানুষ আমাদের আশীর্বাদ করছেন কি-না।
প্রশ্ন: ভোটের মাত্র কিছুদিন আগেই প্রার্থী দেবাশিস কুমারের বাড়িতেও আয়কর হানা। তৃণমূল ঘনিষ্ঠদের বাড়িতেও রেড হয়েছে। ভোটের আগে এতটা সক্রিয় হওয়ার কারণ কী?
উত্তর: আমি যখন প্রচারে বেরোই, তখন আমার সঙ্গে যারা লড়াই করে, তাঁদের নিয়ে আমি আমার সংগঠন করি। বিজেপির পায়ের তলায় মাটি নেই। লোক নেই। সংগঠন নেই। তাই কেন্দ্রীয় এজিন্সিগুলোকে ওরা নিজেদের শাখা-সংগঠন বানিয়েছে। নির্বাচন এলেই এরা সক্রিয় হয়। মানুষ ভয় পায়, চমকায়। যারা ভয়ে পেয়ে পালটি খেয়ে যাবে তাদের আবার ক্লিনচিট দিয়ে দেবে। আর যারা যাবে না, তারা আমার মতো কিছুদিন জেলে কাটাবে।
প্রশ্ন: ভয়ের যে পরিবেশ তৈরি হয়েছে, সেটার কোনও প্রভাব নেই?
উত্তর: মানুষকে কেউ চিরদিন ভয় পাইয়ে রাখতে পারে? সবার ওপর মানুষ সত্য, তাহার ওপর নাই। মানুষকে চমকে-ধমকে কিছু হয় না। আমার কাছে আমার আদর্শ-জীবনদর্শনের থেকে বড় পৃথিবীতে কিছু নেই। আমাকে একজন বলছিল, যোগী আদিত্যনাথ নাকি এসে বলেছে, বিজেপি এলে আজাম খানের থেকে খারাপ অবস্থা হবে ফিরহাদ হাকিমের। আমি যোগীর উদ্দেশ্যে বলি, তুমি বর্বর মুখ্যমন্ত্রী হতে পারো উত্তরপ্রদেশে, কিন্তু এটা বাংলা। ফিরহাদ হাকিম বাংলার ছেলে। আমি একমাত্র ভয় পাই ওপরওয়ালাকে। আমার ক্ষতি করার ক্ষমতা তোমার নেই। আর যদি করো, আমরাও লড়তে জানি। একসময় মুজিবের নেতৃত্বে বাংলাদেশের মানুষ রাজাকারদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছিল।
প্রশ্ন: কলকাতায় ১১টা সিট। কী ফলাফল হবে?
উত্তর: কলকাতার মানুষকে আমি যতটা চিনি, সারাবছর ‘টক টু মেয়র’ অনুষ্ঠানে বসে, তাতে আমি বুঝেছি মানুষ পৌর-পরিষেবায় সন্তুষ্ট। ১১টার মধ্যে ১১টাই তৃণমূল পাবে। গতবার বিধানসভা ভোট ও লোকসভা ভোটেও পেয়েছিল। এবারেও তাই পাবে।
সর্বশেষ খবর
-
১৫ ঘণ্টার পাওয়ার ব্লকে ভোগান্তিতে যাত্রীরা, দ্রুত পরিষেবা স্বাভাবিকের চেষ্টায় রেল
-
‘ভারতের যুবসমাজ হাতের পুতুল নয়’, ককরোচ পার্টিকে তোপ নীতীন নবীনের
-
সময় দিতে নারাজ পুলিশ, মেসিকাণ্ডে অরূপ বিশ্বাসকে সোমবারই ফের তলব, বাড়ছে গ্রেপ্তারির সম্ভাবনা
-
তরুণীকে নিগ্রহ! অভিযোগ করায় ‘মারধর’, কলেজ স্ট্রিটে তৃণমূল কাউন্সিলরের বাড়ি ঘিরল বাহিনী
-
বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ম্যাচে স্বস্তির জয় মেসিহীন আর্জেন্টিনার, জিতলেও চোট চিন্তায় ব্রাজিল
নিবেদিত


