Advertisement
Advertisement
Saptarshi Deb

মসজিদ তৈরির জন্য হুমায়ুন খারাপ হলে সরকারি টাকায় কেন দুর্গাঙ্গন গড়বেন মমতা? অকপট সপ্তর্ষি

এই নির্বাচনে বামপন্থীদের প্রত্যাবর্তন হবেই, মনে করছেন রাজারহাট নিউটাউন এলাকার সিপিআইএম প্রার্থী সপ্তর্ষি দেব। রইল একান্ত সাক্ষাৎকার।

Advertisement
সোমনাথ রায়
সোমনাথ রায়

শেষ আপডেট: এপ্রিল ১১, ২০২৬, ২০:১০

link
সোমনাথ রায়
সোমনাথ রায়

শেষ আপডেট: এপ্রিল ১১, ২০২৬, ২০:১০

options
link
মসজিদ তৈরির জন্য হুমায়ুন খারাপ হলে সরকারি টাকায় কেন দুর্গাঙ্গন গড়বেন মমতা? অকপট সপ্তর্ষি zoom

তিনি রাজারহাট নিউটাউন এলাকার রূপকার গৌতম দেবের সুপুত্র। তিনিই এবার রাজারহাট নিউটাউনের সিপিআইএম প্রার্থী। সংবাদ প্রতিদিন ডট ইন-এর সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে সপ্তর্ষি দেব (Saptarshi Deb)।

প্রশ্ন: প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পর বাবার সঙ্গে কী কথা হল?
উত্তর: মানুষের কাছে যেতে হবে। তৃণমূলের জৌলুস থাকবে, বিজেপির মেরুকরণ করার চেষ্টা থাকবে। কিন্তু মানুষের কাছে গিয়ে, মানুষের ভাষায় মানুষের কথা বলতে হবে। এই রাজারহাট নিউটাউনের বিভিন্ন দাবি রয়েছে। এমন বৈচিত্রপূর্ণ অ্যাসেম্বলি পশ্চিমবাংলায় খুব কম। একদিকে ভেরি আছে, মাছ চাষ হয়। অন্যদিকে আইটিও রয়েছে। একদিকে বিধাননগর পৌরনিগমের ওয়ার্ড রয়েছে, অন্যদিকে পাঁচটা গ্রাম পঞ্চায়েত। আবার এরই মধ্যে দাঁড়িয়ে একেবারে মডার্ন শহর ‘জ্যোতি বসু নগর নিউটাউন’। সুতরাং এই তিন-চারটে সেগমেন্টকে নির্দিষ্টভাবে অ্যাড্রেস করে আমাদের বার্তা পৌঁছে দিতে হবে।

Advertisement

“আমি বিশ্বাস করি, ধর্মের রাজনীতির একটা লিমিট থাকে। পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে সেই লিমিট ছুঁয়ে গিয়েছে। আজ মানুষ রুজিরুটির লড়াইয়ে কে সঙ্গে থাকবে, সেটা বেছে নিতে চাইছেন। এবং সেই লড়াইতে বামপন্থীদের জুড়ি মেলা ভার।”

প্রশ্ন: বারেবারে যে প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়, আপনারা তো শূন্য! মানুষ কেন ভোট (Bengal Election 2026) দেবে?
উত্তর: কারণ মানুষের কথা আমরা বলছি। সত্যিই পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে তৃণমূলের বিরুদ্ধে একটা মত তৈরি হয়েছে। গত তিনটে নির্বাচনে বিজেপির ভোট কিছুটা বেড়েছে। তা সত্ত্বেও বাংলার মানুষ দেখছে যে, আক্ষরিক অর্থে বিরোধীদলের কাজ বামপন্থীরাই করছে। বিজেপি বিধানসভায় আছে, কিন্তু রাস্তার লড়াইতে মমতা বন্দোপাধ্যায়ের চুরি-দুর্নীতির বিরুদ্ধে আওয়াজ তারাই তুলছে। আমি বিশ্বাস করি, ধর্মের রাজনীতির একটা লিমিট থাকে। পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে সেই লিমিট ছুঁয়ে গিয়েছে। আজ মানুষ রুজিরুটির লড়াইয়ে কে সঙ্গে থাকবে, সেটা বেছে নিতে চাইছেন। যদি নির্দিষ্টভাবে নিউটাউনের ক্ষেত্রে বলি, নিউটাউনের পৌর অঞ্চলগুলোতে জলনিকাশী ব্যবস্থা, অবৈধ নির্মাণ, পুকুর ভরাটের সমস্যা রয়েছে। এসবের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলতে হবে। নিউটাউনে হিডকোর কোটি কোটি টাকায় ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান তৈরি হচ্ছে। বাবরি মসজিদ নির্মাণের কারণে যদি হুমায়ুন কবীর খারাপ হন, তাহলে মমতা বন্দোপাধ্যায় সরকারি টাকায় দুর্গাঙ্গন বা জগন্নাথ মন্দির কেন করতে পারবেন? একটা সরকারি হাসপাতাল প্রয়োজন। একটা সরকারি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল প্রয়োজন, কমিউনিটি সেন্টার প্রয়োজন। বামফ্রন্ট থাকাকালীন হিডকো ও এনকেডিএ শুধুমাত্র নিউটাউনের কাজ করত না। শহর ঘিরে যে-গ্রামাঞ্চল রয়েছে, সেগুলোতে ‘নেবারহুড ডেভেলপমেন্ট কমিটি’র মাধ্যমে টাকা খরচা করত। সেই কাজ প্রায় বন্ধ। তৃণমূল কংগ্রেসের দুর্নীতি, মমতা বন্দোপাধ্যায়ের ভাঁওতাবাজি, বিজেপির ধর্মকে হাতিয়ার করে মানুষকে বিভাজন করা- এইসব বিষয় নিয়ে মানুষের কাছে আমাদের যেতে হবেই।

“বিজেপি বাংলাবিরোধী দল। পশ্চিমবঙ্গ থেকে মমতা বন্দোপাধ্যায়ের কারণে পরিযায়ী শ্রমিক হয়ে অন্য রাজ্যে চলে যাওয়া মানুষকে, শুধু বাংলা ভাষায় বলার অপরাধে ‘বাংলাদেশী’ বলে বিজেপির হাতে আক্রান্ত হতে হচ্ছে। সেই বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে এসে ভোট চাইবে?”

প্রশ্ন: আপনারই দলের প্রবীণ নেতা অশোক দেব প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন, গত তিনটি নির্বাচনে বামের ভোট রামে গিয়েছে। তাহলে তো তৃণমূলের অভিযোগই সত্যি। রাম থেকে বামে ভোট ফেরানো কীভাবে সম্ভব বলে মনে করেন?
উত্তর: কোন ভোট কার কাছে গিয়েছে, সেটা প্রাসঙ্গিক নয়। গত তিনটে নির্বাচনে মানুষ তৃণমূলকে হারাতে বিজেপিকে ভরসা করেছে। কিন্তু বিজেপি হ্যাজ ফেইলড মিজারেবলি। নরেন্দ্র মোদির থেকে বড় ‘ক্রাউডপুলার’ কে রয়েছে বিজেপির কাছে? প্রধানমন্ত্রী ব্রিগেড করলেন, কটা লোক গেল? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ব্রিগেড করার রিস্ক নেন না। উত্তর ভারতের সংস্কৃতি আমদানি করা হচ্ছে। বিহারে মাছ মাংসের দোকান বন্ধ করতে চাইছে। এদের হাত শক্ত করলে বাঙালির খাদ্যাভ্যাসের উপর আক্রমণ নেমে আসতে পারে। খুব স্পষ্টভাবে বলতে চাই, বিজেপি বাংলাবিরোধী দল। পশ্চিমবঙ্গ থেকে মমতা বন্দোপাধ্যায়ের কারণে পরিযায়ী শ্রমিক হয়ে অন্য রাজ্যে চলে যাওয়া মানুষকে, শুধু বাংলা বলার অপরাধে ‘বাংলাদেশি’ বলে বিজেপির হাতে আক্রান্ত হতে হচ্ছে। সেই বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে এসে ভোট চাইবে?

প্রশ্ন: সাম্প্রতিককালে এই ‘বাংলাবিরোধী’ টার্মটা তৃণমূলকেও বারবার ব্যবহার করতে দেখা যাচ্ছে। আপনারাও এসআইআর-এর বিরুদ্ধে পথে নেমেছেন, তৃণমূল কংগ্রেসও নেমেছে। শক্তিশালী তৃণমূল ছেড়ে আপনাদের বাছবে কেন?
উত্তর: তৃণমূল আধিপত্যবাদ কায়েম করতে চাইছে। নির্বাচনকে প্রহসনে পরিণত করতে চাইছে। বিধাননগর পৌরনিগমের নির্বাচনে রাজারহাটের মধ্যে যে ওয়ার্ডগুলো রয়েছে, এক একটা ওয়ার্ডে তৃণমূল প্রার্থীরা ৯৭ শতাংশ ভোট পেয়েছে। এমন ভোটের মানে কী? দু’টো রাজনৈতিক দল যদি অন্য আরেকটি রাজনৈতিক দলের ব্যাপারে এক কথা বলে, তার মানে এই নয় যে তারা এক হয়ে গিয়েছে! কিন্তু এটাও ঠিক যে, যে-বিজেপি আজ সিঙ্গুরে কর্মসংস্থানের দাবি নিয়ে সভা করল, সেই বিজেপিই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে ছিল, যখন তিনি সিঙ্গুরের কারখানা বন্ধ করবার জন্য অনশন করছিলেন। মমতা বন্দোপাধ্যায় অনশন ভাঙলেন রাজনাথ সিংহের খাওয়ানো জুসে!

West Bengal Assembly Election: Exclusive Interview with Saptarshi Deb

প্রশ্ন: জনতা বলছে, বামপন্থী দলের মধ্যে পরিবারতন্ত্র দেখা যাচ্ছে। পদবিতে ‘দেব’ থাকা কি পজিটিভভাবে কাজে লাগে?
উত্তর: যদি কোনও বামপন্থীকে জিজ্ঞেস করেন, সে বলবে যে তার পরিবার সিপিআইএম পার্টি। পদবী তো কিছু না কিছু হবেই। কিন্তু আমাদের পার্টি পরিবারতন্ত্রের দ্বারা পরিচালিত নয়। বরং মমতা বন্দোপাধ্যায় তাঁর উত্তরসূরি হিসেবে অভিষেক বন্দোপাধ্যায়কে বাছলেন। শুভন্দু অধিকারী এই জায়গা পেলেন না বলে দুঃখে বিজেপিতে চলে গেলেন। যদি আমাদের দলে শুধুই ‘সপ্তর্ষি দেব’ হাইলাইটেড হত, তাহলে এমন অভিযোগ করতে পারতেন। কিন্তু একঝাঁক তরুণ-তরুণীকে সিপিআইএম তুলে আনছে। তাদের কারও বাবাই তো সিপিআইএম-এর মন্ত্রিসভার মন্ত্রী ছিলেন না! পার্টি তাদেরকে যে চোখে দেখছে, আমাকেও একইভাবে দেখছে।

প্রশ্ন: মানুষের অভিযোগ, সিপিআইএম ‘বুড়োদের পার্টি’। আবার ঋতব্রত বন্দোপাধ্যায়-প্রতীক উর রহমান দল পালটে শত্রু তৃণমূলে চলে গিয়েছেন। তাহলে কি তরুণদের উপর ভরসা রাখা যাবে? 
উত্তর: আমাদের পার্টি নীতিগতভাবে তরুণ প্রজন্মকে সামনে নিয়ে আসতে চাইছে। তার অনেক কারণ। পশ্চিমবঙ্গ-সহ ভারতবর্ষের জনসংখ্যার সবচেয়ে বেশি অংশ আজ ৪০ বছরের নিচে। এই অংশকে যদি ভারতবর্ষের সরকার কাজে লাগাতে চাইত, তবে দেশের অর্থনীতি লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ত। একে ইংরেজিতে ‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড’ বলে। পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে কর্মসংস্থান এক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। যুবসাথী প্রকল্পের প্রসঙ্গে মমতা বন্দোপাধ্যায় বললেন, “আমরা বেকার ভাতা দিলাম।” আমার দুটো প্রশ্ন। প্রথমত, বেকার ভাতা অন্তত ৬০০০ টাকা হওয়া উচিত। আপনি দিলেন ১৫০০ টাকা, আর আপনারই দলের নেতা অন-রেকর্ড বললেন, “ওটা গুটকা খাওয়ার টাকা দিদি দিয়েছে।” দ্বিতীয়ত, বেকার ভাতা দেওয়ার আগে, কর্মসংস্থান সুনিশ্চিত করার জন্য কী করেছেন? একটা সরকার ১০০জনের মধ্যে ৬০জনকে দিতে পারল, ৪০জনের ক্ষেত্রে পারল না। সেই ৪০জনের জন্য সরকার বেকার ভাতা দিল, আর বলল যে, “যতদিন না তোমাদের জন্য কর্মসংস্থান সুনিশ্চিত করতে পারছি, ততদিন তোমরা এটা নাও। তারপর তোমাদের চাকরি হবে।“ কিন্তু মমতা বন্দোপাধ্যায়ের রাজনীতিতে আসাই তো শিল্পায়নের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে।

প্রশ্ন: দু’টো ফেসবুক পোস্ট পড়ে শোনাই। প্রথম, ২০২১ সালের নভেম্বর। আপনার প্রাক্তন সতীর্থ প্রতীক উর রহমান লিখছেন, ‘মেরুদণ্ড কেনা যায় না, আর যেটা কেনা যায় সেটা মেরুদণ্ডই না।’ দ্বিতীয়, চলতি বছরের পয়লা ফেব্রুয়ারি। তিনি লিখছেন, ‘নীতি-নৈতিকতা ছাড়া আর যাই হোক, কমিউনিস্ট পার্টি করা যায় না।’ কী বলবেন?
উত্তর: একদম ঠিক বলেছে, নীতি-নৈতিকতা ছাড়া কমিউনিস্ট পার্টি করা যায় না। ও মেরুদণ্ড বিক্রি করে দিল বলেই কমিউনিস্ট পার্টি করতে পারল না। যারা আজ পার্টিতে রয়েছে, নীতি-নৈতিকতা নিয়েই রয়েছে।

“তৃণমূল কংগ্রেস তো নিজেদেরকে ‘অসাম্প্রদায়িক’ বলে বিজেপির প্রতিদ্বন্দী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে। তারা যখন সাম্প্রদায়িক বিজেপি থেকে আসা হুমায়ুন কবির, রাজীব বন্দোপাধ্যায়, সব্যসাচীদের দলে আবার ফেরত নিতে পারে, তখন প্রশ্নটা তাদের নৈতিকতার উপর দাঁড়িয়ে থাকে।”

প্রশ্ন: বামপন্থী-সিপিআইএম মানেই মেহনতী মানুষের দল। অসাম্প্রদায়িক। তাহলে কী এমন হল যে, আপনার দলের রাজ্য সম্পাদককে নামী হোটেলে গিয়ে এমন একজনের সঙ্গে বৈঠক করতে হচ্ছে, যার দলটির জন্মই সাম্প্রদায়িক উদ্দেশ্যে?
উত্তর: হুমায়ুন কবীরের ব্যাপারে বলছেন যখন, আমিও দু’টো কথা বলি। হুমায়ুন কবীরের রাজনৈতিক জন্ম কংগ্রেস পার্টির মধ্য দিয়ে। কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে যাওয়ার সময় জানি না তৃণমূল নেতারা তাঁর সঙ্গে কোথায় মিটিং করেছিল। অথবা যখন বিজেপিতে গেলেন, বিজেপি নেতারা তাঁর সঙ্গে কোথায় মিটিং করেছেন। আবার যখন তৃণমূল কংগ্রেসে প্রত্যাবর্তন করলেন, তখনও কোথায় মিটিং হয়েছে, জানি না। তবে এইটা আমি জানি যে, আমাদের পার্টি, হুমায়ুনের পার্টির সঙ্গে কোনও নির্বাচনী বোঝাপড়ায় যায়নি। আমাদের নেতা বলেছেন, তার মন বুঝতে গেছিলেন। তাতে কী অপরাধ? সেই সাম্প্রদায়িক রাজনীতি করা হুমায়ুনের দলকে সিপিআইএম সঙ্গে নিল কি না, সেইটাতে বিচার হওয়া উচিত। তৃণমূল কংগ্রেস তো নিজেদের ‘অসাম্প্রদায়িক’ বলে বিজেপির প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে। তারা যখন সাম্প্রদায়িক বিজেপি থেকে আসা হুমায়ুন কবীর, রাজীব বন্দোপাধ্যায়, সব্যসাচীদের দলে ফেরত নিতে পারে, তখন প্রশ্নটা তাদের নৈতিকতার উপর দাঁড়িয়ে থাকে। 

প্রশ্ন: মানুষের সঙ্গে কথা বলে কী বুঝছেন? ৪ মে ক’টা আসন পেতে পারেন?
উত্তর: মানুষ তৃণমূলকে আর দেখতে চাইছে না। ওরা যাই বলুক, এই বার্গেনিং সরকারি প্রকল্প কেউ ভালোভাবে নেবে না। কেউ বলছে না লক্ষীর ভাণ্ডার, যুবসাথী, কন্যাশ্রী বন্ধ করব। বরং আমরা বলছি, বাড়িয়ে দেব। কিন্তু যে বুথে তৃণমূল হারে, সেই বুথে কন্যাশ্রীর টাকা, লক্ষীর ভাণ্ডারের টাকা যায় না। যে ছেলেরা ডিওয়াইএফআই করে, সে যুবসাধী পাবে না কেন? মমতা বন্দোপাধ্যায়ের দলের টাকা তো নয়! আমাদের করের টাকা। গ্যাসের দাম বাড়ছে, বিজেপি-ওয়ালারা বলছে যে, “গ্যাসের দাম ৫০০০ হলেও আমরা বিজেপি করব!” কিন্তু মমতা বন্দোপাধ্যায় গ্যাসের ক্ষেত্রে কিছু ভর্তুকি দিক না মানুষকে! কেন দিচ্ছেন না? নির্বাচনের আগে শুধু ২৫% ডিএ দেবেন বললেন। পুরোহিত আর ইমামসাহেবদের ভাতা ১০০০ টাকা করে বাড়ালেন। উন্নয়নের রাজনীতিতে ডাহা ফেল করেছেন বলেই ধর্মের রাজনীতিতে নির্ভরশীল হচ্ছেন। সেই ফেলের মার্কশিটই মানুষ দেবে।

প্রশ্ন: র‍্যাপিড ফায়ারে যাওয়া যাক। বাবা গৌতম দেব, নাকি নেতা গৌতম দেব?
উত্তর: বাবা গৌতম দেব।
প্রশ্ন: বাবা গৌতম দেব, নাকি মন্ত্রী তথা এই এলাকার রূপকার গৌতম দেব?
উত্তর: বাবা গৌতম দেব।
প্রশ্ন: আসন্ন নির্বাচনে সরকার কারা গঠন করবে? আপনারা কি আদৌ কাছাকাছি যেতে পারবেন, নাকি তৃণমূল অথবা বিজেপি এগিয়ে যাবে?
উত্তর: মানুষ গঠন করবে।
প্রশ্ন: আপনার দুই প্রাক্তন সতীর্থ, ঋতব্রত না প্রতীক উর?
উত্তর: কেউই নয়! প্রাক্তন মানেই চ্যাপ্টার ক্লোজ। ঋতদার চ্যাপ্টার বহু বছর আগেই ক্লোজ হয়েছে, প্রতীক উরের কয়েকদিন আগে। 
প্রশ্ন: শূন্যের গেরো কাটবে?
উত্তর: অবশ্যই!

প্রশ্ন: ক’টা সিট পেতে পারেন?
উত্তর: আমি গণৎকার নই। কিন্তু বহু রাজনৈতিক দল লাফাচ্ছে, তাদের রাজনৈতিকভাবে শূন্য করে দিয়ে এই নির্বাচনে বামপন্থীদের প্রত্যাবর্তন হবে, এ কথা আমি বলছি। নির্বাচনে প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করল বিজেপি। চেয়ার ভাঙাভাঙি হচ্ছে উত্তরবঙ্গে। দলবদলের রাজনীতি তো পশ্চিমবঙ্গে আমদানি করেছে তৃণমূলই। একাধিকজনকে টিকিট দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে রাখবে। কিন্তু একজনকেই তো দাঁড় করাতে পারবে। যাঁকে পারবে না, তাঁকে বিজেপি নিয়ে নেবে! মানুষ বুঝে গিয়েছে, দুই রাজনৈতিক দলের মধ্যে সেটিং রয়েছে। আরএসএসের পত্রিকা আমরাও পড়ি। ‘সিপিআইএম যেন শক্তিশালী না হয়, প্রয়োজনে তৃণমূল থাক।’ আরএসএস জানে, বিজেপিকে দিয়ে হবে না পশ্চিমবঙ্গে। কিন্তু সিপিআইএম যেন নতুন করে শক্তি না পায়! ওদের বোঝাপড়া, ও দিল্লিতে থাকবে, এ পশ্চিমবঙ্গে থাকবে। কিন্তু দেখে নিন, ও দিল্লিতেও থাকবে না, পশ্চিমবঙ্গেও থাকবে না, দু’টোতেই পরিবর্তন হবে।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.