ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্টের চেয়ারম্যান। ভাঙড়ের বিদায়ী বিধায়ক। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনেও একই আসনে প্রার্থী তিনি। বিতর্ক ও অভিযোগের নানা প্রশ্নের উত্তর নিয়ে সংবাদ প্রতিদিন ডট ইন-এর মুখোমুখি নওশাদ সিদ্দিকি (Nawsad Siddique)।
প্রশ্ন: গত বিধানসভা নির্বাচনে আপনি প্রার্থী হওয়ার পর থেকে শান্তি ও সম্প্রীতির যে বার্তা দিয়েছেন, তা মানুষের মনে গভীরভাবে প্রভাব ফেলেছে। তবে বিরোধীদের দাবি, বিষয়টা নাকি ‘হাতির দাঁতের’ মতো। খাওয়ার ও দেখানোর আলাদা!
উত্তর: ওসব কথায় আমি গুরুত্ব দিই না। আমার কাজই আমাকে সার্টিফিকেট দেবে। গত পাঁচ বছরে আমি কখনও এমন কোনও কথা বলিনি যা সম্প্রীতি-ঐক্য নষ্ট করতে পারে। বরং সবসময় চেষ্টা করে গিয়েছি, যেন দুই ভিন্ন সম্প্রদায় ও জাতির মানুষের মধ্যে ঐক্য বজায় থাকে।
আরও পড়ুন:
প্রশ্ন: আপনার বিরোধী দলের প্রার্থী আপনাকে নিয়ে নানা ধরনের অভিযোগ তুলছেন। এমনকী এ কথাও বলেছেন যে আপনি নাকি জেহাদি তৈরি করছেন!
উত্তর: আসলে মানুষ রাজনৈতিকভাবে না পারলে ব্যক্তিগত আক্রমণের পথ বেছে নেয়। যদি আমি কাউকে দিয়ে অন্যায় কাজ করাতাম, তাহলে বিষয়টি তো অনেক আগেই সামনে আসত। পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ তো রয়েছেই তা দেখার জন্য। বরং ন্যাশনাল হিউম্যান রাইটস কমিশন ঘোষিত ‘নটোরিয়াস ক্রিমিনাল’ কারা, তা আমরা সবাই জানি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, আমি নাকি বোমা মারি! দেখুন, মিথ্যে মামলা দিয়ে আমাকে আটকানো সম্ভব নয়। আমার ভাবমূর্তি নষ্টের জন্য বহু চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু মানুষ আমার আসল চরিত্র জেনে গিয়েছে। ফলে এসবে কাজ হওয়ার নয়।
“আমার এলাকায় প্রায় সাড়ে এগারো হাজার নাম ‘আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন’ ছিল। তার মধ্যে বেশ কিছু বৈধ নাম বাদ গিয়েছে। ট্রাইবুনালের মাধ্যমে নাম ফিরিয়ে আনতে গেলে কী করতে হবে, তা সাধারণ মানুষ জানে না। তাই আমি বিভিন্ন জায়গায় ক্যাম্প করছি, মানুষকে আতঙ্কমুক্ত করার চেষ্টা করছি।”
প্রশ্ন: ভাবমূর্তি রক্ষা প্রসঙ্গে বলি, আপনার সঙ্গে আপনার দলে নতুন যোগ দেওয়া আরাবুলের ইমেজ একেবারে খাপ খায় না। তিনি কলেজের অধ্যাপককে জগ ছুড়ে মেরেছিলেন। বিষয়টিকে আপনি কীভাবে দেখেন?
উত্তর: তৃণমূল কংগ্রেস তাঁকে খারাপ কাজে ব্যবহার করেছিল। এখন তিনি মূল স্রোতে ফিরে এসে স্বাভাবিক ও ভালোভাবে জীবনযাপন করতে চাইছেন। আপনি তাঁকে সংশোধনের সুযোগ দেবেন না?
প্রশ্ন: আপনার গতবারের হলফনামার সঙ্গে এবারের হলফনামা মেলালে দেখা যায়, স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ দিনে দিনে কমে গিয়েছে। বিধায়ক হওয়ার পর সম্পত্তির পরিমাণ বেড়েই চলে, এমনটাই দেখে সকলে অভ্যস্ত। আপনার ক্ষেত্রে উলটো কেন?
উত্তর: আমি বারবার একই কথা বলব, রাজনীতিতে আমি নিজের জন্য কিছু গোছাতে আসিনি। আমি এসেছি মানুষের জন্য কাজ করতে, সমাজকে কিছু দিতে।

প্রশ্ন: তবে আপনার বিরুদ্ধে একখানি ফৌজদারি মামলার সংখ্যা বেড়েছে। এর কারণ কী?
উত্তর: আমি রাজনীতির শিকার। যখন প্রথম হলফনামা জমা করেছিলাম, তখন আমার বিরুদ্ধে একটি মামলাও ছিল না। আর এখন সেই মামলার সংখ্যা বেড়ে ১৭-তে দাঁড়িয়েছে।
প্রশ্ন: এবারের নির্বাচনে অন্যতম জ্বলন্ত ইস্যু এসআইআর। বহু মানুষ আপনার কাছে অভিযোগ আনছে যে, তাদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। আপনার কেন্দ্রে এসআইআরের কতখানি প্রভাব অনুভব করছেন?
উত্তর: আমার এলাকায় প্রায় সাড়ে এগারো হাজার নাম ‘আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন’ ছিল। তার মধ্যে বেশ কিছু ক্লিয়ার হয়েছে। আবার কিছু বৈধ নামও বাদ গিয়েছে। যেহেতু ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে তাদের নাম পুনরায় দাখিল করার সুযোগ রয়েছে, তাই এ নিয়ে পরবর্তীকালে আইনি লড়াই অবশ্যই হবে। কিন্তু ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে নাম ফিরিয়ে আনতে গেলে কী করতে হবে, তা সাধারণ মানুষ জানে না। তাই আমি বিভিন্ন জায়গায় ক্যাম্প করছি, মানুষকে আতঙ্কমুক্ত করার চেষ্টা করছি।
“গতবারে বিজেপি-তৃণমূলের বাইনারি ছিল। বিজেপি চলে আসবে, তাকে রুখতে যাবতীয় লড়াই। আমরা রাজনৈতিকভাবে একেবারেই নতুন ছিলাম, মানুষও আমাদের রাজনীতিগত অবস্থান সম্পর্কে একেবারেই ওয়াকিবহাল ছিল না। এখন তারা জানতে পেরেছে যে গত পাঁচ বছর ধরে মানুষের স্বার্থে আমরা কীভাবে লড়াই করেছি।”
প্রশ্ন: আপনার দলের এক প্রার্থীকে কালিয়াচকের ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
উত্তর: সম্পূর্ণ রাজনৈতিক হিংসা চরিতার্থ করতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এ কাজ করা। আমার দলের কর্মী-প্রার্থীরা কখনও হিংসাত্মক কাজ করে না। তারা সবসময় মানুষের পাশে থাকে। যা কিছু হয়েছে, আমরা তা আইনি পথে বুঝে নেব।
প্রশ্ন: আপনি সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, গতবারের তুলনায় এবারের লড়াইটা সহজ। কেন এমন মনে করেন?
উত্তর: গতবারে বিজেপি-তৃণমূলের বাইনারি ছিল। বিজেপি চলে আসবে, তাকে রুখতে যাবতীয় লড়াই। আমরা রাজনৈতিকভাবে একেবারেই নতুন ছিলাম, মানুষও আমাদের রাজনীতিগত অবস্থান সম্পর্কে একেবারেই ওয়াকিবহাল ছিল না। এখন তারা জানতে পেরেছে যে গত পাঁচ বছর ধরে মানুষের স্বার্থে আমরা কীভাবে লড়াই করেছি। তাই এবারের নির্বাচন অপেক্ষাকৃত সহজ বলে মনে করি।
প্রশ্ন: গত পাঁচ বছরে আপনাদের সংগঠন অনেকখানি শক্তিশালী হয়েছে। শুধু ভাঙড় নয়, বাংলার বিভিন্ন জায়গায় আপনাদের সংগঠনের বিস্তার দেখা যাচ্ছে। আপনার দলের, এবং বামফ্রন্টের সঙ্গে হওয়া জোটের ফলাফল সম্পর্কে আপনি কতটা আশাবাদী?
উত্তর: ব্যাপক আকারে ভালো ফল বলে মনে করি। কেবল আইএসএফ নয়, বামফ্রন্টের ফল সামগ্রিকভাবে ভালো হবে। বিজেপি, তৃণমূল— দুই দলই পরাস্ত হবে।
প্রশ্ন: ৪ মে সরকার গঠন করতে চলেছে কারা?
উত্তর: স্বচ্ছভাবে ভোট হলে নিঃসন্দেহে বামফ্রন্ট ও আইএসএফ মিলেই সরকার গঠন করবে।
প্রশ্ন: এবারের নির্বাচনে সাম্প্রদায়িক মেরুকরণের রাজনীতি চলছে। আসাদউদ্দিন ওয়েইসি বারবার আসছেন, অন্যদিকে বাবরি মসজিদের মতো বিষয়ও রয়েছে। এই বিষয়গুলো কতটা প্রভাব ফেলতে পারে?
উত্তর: আমরা মানুষের জন্য রাজনীতি করি এবং ভবিষ্যতেও মানুষের জন্যই কাজ করে যাব। অন্য কারও বিষয় নিয়ে মন্তব্য করে বিতর্কে জড়াতে চাই না।
প্রশ্ন: বাবরি মসজিদ নির্মাণের বিষয়টি নিয়ে অনেক আলোচনা হচ্ছে। বলা হচ্ছে এখানে ‘আল্লার ঘর’ তৈরি হলেই জন্নতের পথ সুগম হবে। এক্ষেত্রে আপনি কি কন্ট্রিবিউট করছেন?
উত্তর: আমি একজন ধর্মবিশ্বাসী মানুষ। এখানে হিন্দু-মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের মানুষই মন্দির-মসজিদকে সম্মান করে, প্রয়োজনে সহযোগিতা করে। আমরা ধার্মিক, তাই যে কোনও ধর্মস্থানেই যেতে পারি।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
‘পার্লামেন্টে বসে নজর কাড়তে লিপস্টিক পরি না’, দিল্লি থেকে ফিরেই মাঠের কাজে সাংসদ, কাকে বিঁধলেন?
-
ইয়ামাল নামতেই বিধ্বংসী স্প্যানিশ আর্মাডা, সৌদিকে গোলের বন্যায় ভাসিয়ে বিশ্বকাপে প্রথম জয় স্পেনের
-
মেয়ে পরকীয়ায় জড়িয়েছে মানতে নারাজ মা! জামাইয়ের নালিশের প্রতিবাদ করায় শুরু হাতাহাতি, তারপর…
-
রয়েছে সোনালী খেঁকশিয়াল থেকে ভল্লুক, এবার কনজারভেশন রিজার্ভের তকমা পাচ্ছে কোটশিলা-ঝালদা বনাঞ্চল!
-
কাপের দাপুটে ব্যাটিং, টি-২০ বিশ্বকাপে প্রোটিয়াদের কাছে হেরে সেমির দৌড়ে অঙ্ক জটিল ভারতের
নিবেদিত


