Advertisement
Advertisement
Shashi Panja

অভয়ার মাকে প্রার্থী হিসেবে দেখে ভালো লাগছে, তবে ভদ্রমহিলা খুব অসত্য বলেছেন: শশী পাঁজা

'আমার ধারণা, এবার ভোটের হার অন্তত ৬০% বাড়বে। মানুষ প্রতিবাদের ভাষা হিসেবে ভোট দিতে বেরবে। বর্তমানে এমন ন্যারেটিভ তৈরি করা হয়েছে যে, ভোটার তালিকায় নাম নেই মানেই আপনি দেশের নাগরিক নন! এই আতঙ্কেও মানুষ এবার বুথমুখী হবে।' শশী পাঁজা।

Advertisement
রমেন দাস
রমেন দাস

শেষ আপডেট: এপ্রিল ২১, ২০২৬, ১৬:৫৯

link
রমেন দাস
রমেন দাস

শেষ আপডেট: এপ্রিল ২১, ২০২৬, ১৬:৫৯

options
link
অভয়ার মাকে প্রার্থী হিসেবে দেখে ভালো লাগছে, তবে ভদ্রমহিলা খুব অসত্য বলেছেন: শশী পাঁজা zoom

তিনি রাজ্যের মন্ত্রী। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে শ্যামপুকুর কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী। সংবাদ প্রতিদিন ডট ইন-এর সঙ্গে অকপট সাক্ষাৎকারে ধরা দিলেন ডা. শশী পাঁজা (Shashi Panja)

প্রশ্ন: আপনাকে মূলত দু’টি কঠিন ইস্যুর মুখোমুখি হতে হচ্ছে— একদিকে আপনি শিল্পমন্ত্রী। বিরোধীদের দাবি, রাজ্যে শিল্পের হাল বেহাল। অন্যদিকে আপনি নারী ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রী, আর জি করের প্রাক্তনি। আর জি কর কাণ্ডের প্রতিবাদে আপনার ভূমিকা নিয়েও বিরোধীরা প্রশ্ন তুলেছেন। বিশেষ করে যেখানে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে ‘অভয়ার মা’ পানিহাটি কেন্দ্রের প্রার্থী।
উত্তর: এখানে আলাদা করে রাখঢাক করার কিছু নেই। দুই প্রশ্নের উত্তর নিয়েই আমরা আত্মবিশ্বাসী। আর জি কর প্রসঙ্গে বলব, আমরা দলগতভাবে এই ঘটনার নিন্দা করেছি। মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি এই বিষয়টি নিজের হাতে নিয়েছেন। সেখানে শশী পাঁজা কী করলেন, তা গৌণ। পুলিশ দ্রুত তদন্ত শুরু করেছিল। একপ্রকার ঝাঁপিয়ে পড়েই অভিযুক্তকে অ্যারেস্ট করেছিল। তারপর ঘটনা সিবিআই-এর হাতে চলে যায়। সুপ্রিম কোর্ট বিষয়টির তত্ত্বাবধান করে। মানুষ আন্দোলনে স্বতঃস্ফূর্তভাবে নেমেছে, তাতে কোনও অসুবিধা নেই। কিন্তু আমরা আন্দোলনের রাজনীতিকরণের প্রতিবাদ করি। যাঁরা আন্দোলন শুরু করলেন, তাঁদের মধ্যে বিভাজন এল। কোটি কোটি টাকার ‘ক্রাউড ফান্ডিং’ দেখা গেল। আন্দোলনের মোড় ঘুরে যেন দলীয় ব্র্যান্ডিং হয়ে দাঁড়াচ্ছিল সমস্তটাই।

Advertisement

“অভয়ার মাকে প্রার্থী হিসেবে দাঁড়াতে দেখে আমার ভালো লাগছে। কারণ মহিলারা রাজনীতিতে আসবে, এমনটা বিজেপির ক্ষেত্রে খুব একটা দেখা যায় না। দুঃখের কথা এটাই যে, ভদ্রমহিলা অত্যন্ত অসত্য কথা বলেছেন।”

নিহত সন্তানের মা-বাবা নানাভাবে আমাদের দায়ী করেছেন। তা নিয়ে আমরা কিছুই বলিনি কখনও। কারণ ধর্ষণ-খুনে সন্তানকে হারিয়ে বাবা-মায়ের যে শোক ও ক্ষোভ, তা সত্যিই অতুলনীয়। অভয়ার মা দিল্লিতে গিয়েছিলেন, সিবিআই তদন্ত ইত্যাদি কোনও কিছু নিয়ে মন্তব্য করব না। কিন্তু সত্যি বলতে গেলে, এর জন্য রাজ্য সরকার তথা মুখ্যমন্ত্রীকে অনেক অপমানের সম্মুখীন হতে হল। যে-আন্দোলনের মুখ অভয়া ছিল, তাঁকে সরিয়ে যেভাবে অন্যরা সেই জায়গা নিয়ে নিল, গোটা দেশের জনতাই তা দেখল। তবে অভয়ার মাকে প্রার্থী হিসেবে দেখে আমার ভালো লাগছে। কারণ মহিলারা রাজনীতিতে আসবে, এমনটা বিজেপির ক্ষেত্রে খুব একটা দেখা যায় না। দুঃখের কথা এটাই যে, ভদ্রমহিলা অত্যন্ত অসত্য কথা বলেছেন। আমার নামে নারীপাচারের অভিযোগ করেছেন, যেখানে কিনা নারী সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আমরা কত কাজই না করেছি! শিল্প প্রসঙ্গে বলব… ২০১৪ থেকে কেন্দ্রে ক্ষমতায় থাকা বিজেপি বাংলার জন্য কী করেছে? সারা ভারতে বেকারত্ব সর্বোচ্চ হয় ওদের মেয়াদকালেই। ৬৪২ কোটি টাকা প্রধানমন্ত্রী নিজের বিদেশ সফরে খরচ করেছেন। কিন্তু এ থেকে ‘ফরেন ডিরেক্ট ইনভেস্টমেন্ট’ কী এসেছে বলতে পারেন? বিজেপির হাবভাব এমন যেন পশ্চিমবঙ্গে সফরে এসেই নরেন্দ্র মোদি সিঙ্গুরে কারখানা বসিয়ে দিয়ে যাবেন! আগেই কেন করেননি তাহলে? ২০১১ সালে সিঙ্গুরে সুপ্রিম কোর্টের রায় মেনে অনিচ্ছুক কৃষকদের যে জমি ফেরত দেওয়া হল, তা তো তৃণমূল সরকারের সবচাইতে উল্লেখযোগ্য কাজগুলির মধ্যে অন্যতম।

West Bengal Assembly Election: Exclusive Interview with Shashi Panja

বামেরা আজ চেঁচামেচি করছেন, বিশেষ করে মহম্মদ সেলিম এবং সুজন চক্রবর্তী। তারাই তো ধ্বংসাত্মক ‘ট্রেড ইউনিয়নিজম’ করেছিলেন। মানুষ ভরসা করবে কীভাবে? পাটশিল্পকে ওঁরা ধ্বংস করে দিলেন। কত কারখানায় তালা পড়ে গিয়েছিল। পশ্চিমবঙ্গে এই ধারণাই হয়ে গিয়েছিল যে এখানে শিল্প সম্ভব নয়! এখানে বারেবারে লোডশেডিং হয়, কর্মদিবস নষ্ট হয়, কর্মী হরতাল হয়। কত শিল্পপতির উপর আক্রমণ হয়েছিল, তাঁরা পালিয়ে গেলেন, অন্যান্য জায়গায় নিজেদের প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করতে লাগলেন। এই সবটা কাটিয়ে বাংলাতেও যে শিল্প করা যায়, এই ধারণা মানুষের মধ্যে তৈরি করতেই এখন সময় লেগে যাচ্ছে। এখন কর্মীদের স্কিল বাড়ানোর জন্য দিদি ‘উৎকর্ষ বাংলা’র মতো স্কিম তৈরি করেছেন। অথচ কেন্দ্র একের পর এক রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার ‘প্রাইভেটাইজেশন’ করেছে।

প্রশ্ন: এসআইআর প্রক্রিয়ার পর নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ যাওয়া নিয়ে কী বলবেন?
উত্তর: এসআইআরের কারণে বিজেপি বর্তমানে পুরোপুরি ব্যাকফুটে। সাধারণ মানুষ এতে চরম নাজেহাল। আমার ধারণা, এবার ভোটের হার অন্তত ৬০% বাড়বে। মানুষ প্রতিবাদের ভাষা হিসেবে ভোট দিতে বেরবে। বর্তমানে এমন ন্যারেটিভ তৈরি করা হয়েছে যে, ভোটার তালিকায় নাম নেই মানেই আপনি দেশের নাগরিক নন! এই আতঙ্কেও মানুষ এবার বুথমুখী হবে।

প্রশ্ন: বিজেপির পরিবর্তন সংকল্প সভায় হাজির হতে প্রধানমন্ত্রী ব্রিগেডে এলেন। তার আগেই আপনার বাড়ির সামনে রণক্ষেত্র পরিস্থিতি। আপনি নিজেও আহত হলেন। অথচ বিজেপি নেতারা, যার মধ্যে সজল ঘোষও রয়েছেন, দাবি করলেন সমস্তই সাজানো নাটক!
উত্তর: অর্জুন সিং নিজে বলেছেন, ইট-পাটকেল-লাঠি কেন? বোমা ব্যবহার করা উচিত ছিল! প্রধানমন্ত্রীর মতো একজন ভিভিআইপির র‍্যালিতে যাচ্ছে সমর্থকরা, অথচ গাড়িতে এসব হাতিয়ার! আমার বাড়িতে ঢুকে তৃণমূল কর্মীদের মারধর করে। আমি প্রতিবাদ জানানোয় শয়ে শয়ে বিজেপির অশিক্ষিত গুন্ডা এসে তাণ্ডব শুরু করল। এরই মধ্যে বিজেপির মঞ্চ থেকে তিনজন নেতা নেমে অসুস্থতার নাটক শুরু করল! অথচ তারা এখানের তাণ্ডবে ছিলই না! আমি নিজের চোখে দেখেছি, বিজেপির কর্মীরা বাস থেকে নেমে পাথর দিয়ে নিজেদের বাসেই আঘাত করছে। আমি সেই মুহূর্তেই ওদের খেলা বুঝে গেলাম! আমি মোটেই ওই ভাঙা দরজা-জানলা সারাব না। আমি ভারতীয় জনতা পার্টিকে দেখাতে চাই যে, মানুষ চাইলে ৪ মে ব্যালট বক্সে এর জবাব দিতে পারে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জয়ের পরই এই দরজা সারানো হবে।

“ভারতে যৌনকর্মীদের পেশাগত স্বীকৃতি না থাকলেও পশ্চিমবঙ্গ তাঁদের সম্মান দেয় এবং মূল স্রোতে ফেরাতে সচেষ্ট। তবুও এসআইআর প্রক্রিয়ায় তাঁরা ‘আনম্যাপড’ থেকে যান। কোভিডকালে মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের জন্য বিশেষ ক্যাম্প করে ভ্যাকসিনের ব্যবস্থা করেছিলেন। আমাদের দপ্তরের ‘স্বাবলম্বন স্পেশাল’ প্রকল্পের মাধ্যমে তাঁদের বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।”

প্রশ্ন: উত্তর কলকাতার বনেদি পরিবারের পুত্রবধূর জীবন থেকে সক্রিয় রাজনীতিতে আপনার পদার্পণ ও শুরুর দিনগুলোর কথা যদি বলেন…।
উত্তর: আমি লা মার্টিনিয়র ফর গার্লসের ছাত্রী ছিলাম। হিন্দমোটর থেকে বাসে করে কলকাতার স্কুলে যাতায়াত করতাম। জয়েন্ট এন্ট্রাস পরীক্ষায় পাস করে আর জি কর মেডিক্যাল কলেজে পড়ার সুযোগ পাই। সেখানেই ব্যাচমেট প্রসূন পাঁজার সঙ্গে আলাপ ও পরবর্তীতে বিবাহ। সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক পরিবার থেকে এসে এমন একটি পরিবারে যুক্ত হলাম, যেখানে শ্বশুরমশাই ও শাশুড়ি মা উভয়ই রাজনীতি নিয়ে ব্যস্ত থাকতেন। সেখান থেকেই আমার হাতেখড়ি।

প্রশ্ন: দক্ষিণ ভারত থেকে পূর্ব ভারত— আপনার এই যাত্রাপথ এবং আপনার বাবা, যিনি একজন ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইঞ্জিনিয়ার ছিলেন, তাঁর আদর্শ আপনার জীবনে কতটা প্রভাবশালী?
উত্তর: আমার জন্ম অন্ধ্রপ্রদেশের নারসরাওপেটে হলেও জীবনের সবটুকু জুড়েই পশ্চিমবঙ্গ। বাবা আইআইটি খড়গপুরের প্রথম ব্যাচের ছাত্র ছিলেন। তাঁর কনভোকেশনে পণ্ডিত জওহরলাল নেহরু উপস্থিত ছিলেন। ১৯৭৮ সালে কলকাতায় ভয়াবহ বন্যার সময় মাত্র ৪২ বছর বয়সে বাবাকে হারাই। এরপর মা, দাদা আর আমি এখানেই থেকে যাই। 

প্রশ্ন: নারী ও সমাজকল্যাণ দপ্তরের দায়িত্ব আপনার। আপনার নির্বাচনী এলাকা শ্যামপুর বিধানসভার অধীনেই রয়েছে সোনাগাছি। সেখানকার বাসিন্দাদের উন্নয়ন নিয়ে পরিকল্পনা কী?
উত্তর: ভারতে যৌনকর্মীদের পেশাগত স্বীকৃতি না থাকলেও পশ্চিমবঙ্গ তাঁদের সম্মান দেয় এবং মূল স্রোতে ফেরাতে সচেষ্ট। তবুও এসআইআর প্রক্রিয়ায় তাঁরা ‘আনম্যাপড’ থেকে যান। কোভিডকালে মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের জন্য বিশেষ ক্যাম্প করে ভ্যাকসিনের ব্যবস্থা করেছিলেন। আমাদের দপ্তরের প্রকল্পের মাধ্যমে তাঁদের বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। দেখা গিয়েছে, ওদের অনেকেই অভিনয় করতে চান। অথবা মেক-আপ আর্টিস্ট হতে চান। সেই সময় শ্রীমতী লিনা গঙ্গোপাধ্যায়, যিনি বর্তমানে স্টেট কমিশন ফর উইমেন-এর চেয়ারপার্সন, আইডিয়া দিয়েছিলেন যে দক্ষতা থাকলে কোনও মানুষকে সে কাজে নেওয়াই যেতে পারে। আমি নিজেও তাঁদের সঙ্গে অত্যন্ত স্বাভাবিকভাবে মিশি।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.