তিনি দীর্ঘদিনের সাংসদ, লড়াকু কর্মী। কংগ্রেস ছেড়ে মাঝে কিছুকাল তৃণমূলে কাটিয়ে প্রত্যাবর্তন করেছেন হাত শিবিরেই। তাঁর আরেক পরিচয়, তিনি আবু বরকত আতাউর গণি খান চৌধুরীর ভাগনি। সংবাদ প্রতিদিন ডট ইন-এর সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে মালদহের মালতিপুর বিধানসভা কেন্দ্রের কংগ্রেস প্রার্থী মৌসম বেনজির নূর (Mausam Noor)।
প্রশ্ন: ফের কংগ্রেসে। দলবদলের পর আপনার উপর হাই কমান্ডের প্রত্যাশা কতটা চাপ সৃষ্টি করছে?
উত্তর: আমি মনে করি এটা আমার জন্য আশীর্বাদ, ভালোবাসা। কংগ্রেসের থেকে আমি অনেক পেয়েছি। মনে আছে, যখন প্রথম সাংসদ হই, সেন্ট্রাল হল-এ বসেছিলাম। ইউপিএ-২ তখন গঠন হবে। অনেকে এসে আমায় বললেন, সোনিয়া গান্ধী খুঁজছেন। আমি তড়িঘড়ি গেলাম, ম্যাডাম আমাকে জড়িয়ে ধরলেন। আমার মাকে খুব ভালোবাসতেন। দল আমাকে দু’বার সাংসদ হওয়ার সুযোগ দিয়েছে, যুব প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব দিয়েছে। ফিরে এসে মনে হচ্ছে, নিজের বাড়িতেই ফিরে এসেছি। দল আমাকে আবারও সুযোগ দিয়েছে, মানুষের জন্য কাজ করার। আমি ১০০% দেওয়ার চেষ্টা করব।
আরও পড়ুন:
প্রশ্ন: যোগদানের দিন বলেছিলেন, পারিবারিক চাপ ছিল। যাতে পরিবারের ভিতর ভাঙন না ধরে, তাই ফিরে আসা। এখন কংগ্রেসকেও পরিবারের সঙ্গে তুলনা করলেন। হঠাৎ সেই পরিবারে কী এমন ঘটেছিল, যার জন্য তৃণমূলে যেতে হল?
উত্তর: ২০১৯ সালে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তখন আমি এবং আমার কর্মীরা মনে করেছিলাম বিজেপিকে আটকাতে তৃণমূলের সঙ্গে জোট হওয়া খুবই দরকার। হাই কমান্ড সহমত হয়নি। কিন্তু আমি মালদায় বিজেপিকে রুখতে এবং উন্নয়নের স্বার্থে তৃণমূলে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিই। তবে তারপরেও উত্তর মালদায় বিজেপি জয়ী হয়। আমার নিজের পরিবার থেকেই ইশাদা (ইশা খান চৌধুরী) আমার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিলেন। এই ঘটনায় শুধু পরিবারেই নয়, কর্মীদের মধ্যেও অস্বস্তি তৈরি হয়েছিল। বিজেপি আসায় মালদার কোনও উপকার হয়নি। তৃণমূল আমাকে যথেষ্ট সম্মান দিয়েছে— ডিস্ট্রিক্ট প্রেসিডেন্ট করেছে, ২০২১ সালে মালদা থেকে ৮টি আসন জেতার পর আমাকে রাজ্যসভার সাংসদও করা হয়। আমি চেষ্টা করেছি, কাজ করেছি। কিন্তু কোথাও কষ্ট রয়ে গিয়েছিল। পরবর্তীকালে পরিবারে আলোচনা হয়। বহু কংগ্রেস কর্মীরও দাবি ছিল, পরিবারকে আবার একজোট করতে হবে। বরকত সাহেবের পরিবার এবং কংগ্রেসকে আরও মজবুত করার লক্ষ্যে আমার প্রত্যাবর্তন।
আরও পড়ুন:
“বাংলার মানুষ বরাবরই অসাম্প্রদায়িক, তেমন পরিবেশেই আমার বড় হওয়া। কিন্তু ২০১৪ সালে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকে ধীরে ধীরে বিভাজনের রাজনীতি বাড়তে দেখেছি। কংগ্রেস বরাবরই সেক্যুলারিজম, শান্তি ও উন্নয়নের কথাই বলেছে। আমাদের বিশ্বাস, বাংলার মানুষ তাঁদের সংস্কৃতি ও সেক্যুলার মানসিকতার প্রতি আস্থা রাখবেন।”
প্রশ্ন: গোটা বাংলায় কংগ্রেসের সংগঠন দুর্বল, এমন অবস্থায় স্রোতের বিপরীতে যাওয়াটা বেশি ঝুঁকি নেওয়া হয়ে গেল না?
উত্তর: রাজনীতির লড়াই কঠিনই হয়। তবে মানুষের পরিষ্কার চিন্তাধারা এবং দৃঢ় অবস্থান থাকা জরুরি। তৃণমূলে থাকাকালীনও আমি সবসময় রাহুলজিকে সম্মান করেছি। তিনি যেভাবে এই বিভাজনের সময়ে দাঁড়িয়েও সেক্যুলারিজমের পক্ষ নিয়েছেন, তা প্রশংসাযোগ্য। বাংলার মানুষ বরাবরই অসাম্প্রদায়িক। কিন্তু ২০১৪ সালে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকে ধীরে ধীরে বিভাজনের রাজনীতি বাড়তে দেখেছি। কংগ্রেস বরাবরই সেক্যুলারিজম, শান্তি ও উন্নয়নের কথাই বলেছে। আমাদের বিশ্বাস, বাংলার মানুষ তাঁদের সংস্কৃতি ও সেক্যুলার মানসিকতার প্রতি আস্থা রাখবেন।
প্রশ্ন: আপনার প্রত্যাবর্তনের পিছনে বারবার পারিবারিক ঐক্যের কথা বলছেন। তবে নিন্দুকদের দাবি, আপনি বুঝতে পেরেছিলেন যে আপনাকে আর রাজ্যসভায় মনোনীত করা হবে না। সেই ক্ষোভ থেকেই দলবদল।
উত্তর: সেরকম কোনও বিষয় নয়। দল আমাকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়েছে। তৃণমূল আমাকে বিধানসভার কিছু দায়িত্ব দিতে চেয়েছিল, রাজ্যসভা ও বিধানসভা নির্বাচনে লড়ার কথাও শুনেছিলাম। কিন্তু আমার মনে হয়েছিল, পরিবারকে এক করার জন্য এই সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি।
প্রশ্ন: আপনি কংগ্রেসে ফেরার পর খবর ছিল, আপনি সম্ভবত সুজাপুর কেন্দ্র থেকে লড়বেন। হঠাৎ করে কেন্দ্র বদল কেন?
উত্তর: প্রথমত, আমি বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী হতে চাইনি। সবে তৃণমূল থেকে ফিরেছি, ভেবেছিলাম সাধারণ কর্মী হিসেবেই কাজ করব আপাতত। সংগঠন মজবুত হলে দেখা যাবে। কিন্তু দল মনে করেছে, আমার নির্বাচনে লড়া উচিত। সুজাপুর আমাদের ‘ফ্যামিলি সিট’ বলা চলে। বরকত সাহেব, আমার মা, ইশাদা, আমি— সবাই ওই বিধানসভা কেন্দ্র থেকে দাঁড়িয়েছি। আবার আমি যেহেতু দু’বার উত্তর মালদার এমপি ছিলাম, তাই মালতিপুর, রতুয়া প্রভৃতি সিটেও চাহিদা ছিল আমার। দল সবদিক বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেয় যে, আমার মালতিপুর থেকে প্রার্থী হওয়াই উচিত। সুজাপুরের মানুষের দাবি ছিল, ফ্যামিলির বাইরে থেকে একজন স্থানীয় প্রার্থী দেওয়া হোক, তেমনই করা হয়েছে।
প্রশ্ন: প্রদেশ কংগ্রেসের সমীক্ষায় বোধহয় দেখা গিয়েছে, সুজাপুরের তুলনায় মালতিপুরে জয়লাভ করা তুলনামূলক সহজ হতে পারে। যেহেতু আপনি দল পরিবর্তন করে এসেছেন, দলও আপনাকে একটি ভালো জায়গা দিতে চেয়েছে।
উত্তর: ইলেকশন মাত্রেই কঠিন। কেউ যদি সহজ ভেবে মাঠে নামে, সেটাই সবচেয়ে বড় ভুল। দলের সঙ্গে আমার সুজাপুর, মোথাবাড়ি নিয়ে যেমন আলোচনা করেছিল, তেমনই রতুয়া ও মালতিপুর আসনের গুরুত্বের কথাও বিশেষভাবে জানিয়েছিল, বিশেষ করে উত্তর মালদায়। দল যা চেয়েছে, তাই করেছি।
প্রশ্ন: বাংলায় মূলত মালদহ, মুর্শিদাবাদ এবং উত্তর দিনাজপুর নিয়ে হাই কমান্ড যথেষ্ট আশাবাদী। আপনার কি মনে হয়, এই তিন জেলা থেকে কতগুলো আসন কংগ্রেস পেতে পারে?
উত্তর: আমরা মালদা জেলা নিয়ে অত্যন্ত আশাবাদী। মুর্শিদাবাদে লিডারশিপ ভালো কাজ করছে, উত্তর দিনাজপুর থেকেও ভালো খবর পাচ্ছি। মানুষ আবারও কংগ্রেসমুখী হচ্ছে। ২০২১ সালে যে গ্যাপ তৈরি হয়েছিল, সেটা মূলত এনআরসি নিয়ে আতঙ্কের কারণেই। লোকসভা নির্বাচনেও দেখেছেন, মালদায় আমরা ভালো ফল করেছি। একটি আসনে জিতেছি এবং অন্যটিতেও জিততে না পারলেও ভালো ফল করেছি। আমাদের ভোটব্যাঙ্ক অনেকটাই বেড়েছে।

প্রশ্ন: বারোটার মধ্যে ক’টা সিট হতে পারে?
উত্তর: প্রত্যেকটা সিট-ই টার্গেট করছি। বারোটার মধ্যে বারোটাই!
প্রশ্ন: এবার নির্বাচনে অন্যতম প্রধান ইস্যু এসআইআর, যার ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত মুর্শিদাবাদ ও মালদহ। আপনার কাছে কী ধরনের রিপোর্ট আসছে?
উত্তর: এসআইআর নিয়ে আমরাও আতঙ্কিত। দেখা যাচ্ছে, অনেক জেনুইন ভোটারের নাম অ্যাডজুডিকেশন লিস্ট ও ডিলিটেড লিস্টে ফেলে দেওয়া হচ্ছে। ইলেকশন কমিশন ঠিক কী করতে চাইছে, স্পষ্ট নয়। হয়তো ইলেকশন কমিশনের সঙ্গে বিজেপি-তৃণমূলের কোনও বোঝাপড়া রয়েছে। ২০২১ সালে যেমন আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করে ভোটগ্রহণ হয়েছিল, এবারও সেই ধরনের পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা চলছে। আমরা তো ভোটে দাঁড়াই ভোটারদের জন্য। ভোটাররাই সমস্যায় পড়ছেন, এই পরিস্থিতিতে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা উচিত? এর পরের স্টেপেই তো সিটিজেনশিপ নিয়ে টানাটানি শুরু হবে। এই বিষয়টি নিয়ে আমরা প্রতিবাদ, অবস্থান বিক্ষোভ করেছি। বিডিও-র কাছে ডেপুটেশন দিয়েছি।
প্রশ্ন: এবারের নির্বাচনে ওয়াকফ কি ইস্যু হয়ে উঠতে পারে?
উত্তর: ওয়াকফ একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। আমি নিজেও একজন মুতাওয়াল্লি। প্রথমে মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, ওয়াকফ নিয়ে কোনও সমস্যা হতে দেবেন না। কিন্তু হঠাৎ করে জানানো হল, ওয়াকফ সংক্রান্ত সমস্ত সম্পত্তির বিস্তারিত তথ্য জমা দিতে হবে। তাড়াহুড়ো করে সেই কাজ করতে হয়েছে। এরপর মুখ্যমন্ত্রী বললেন, ওয়াকফ নিয়ে আন্দোলন করা যাবে না। করতে চাইলে, দিল্লি গিয়ে করতে হবে। এই পুরো পরিস্থিতিতে মুসলিম সমাজ বিভ্রান্ত হয়ে পড়েছে। বিজেপির নোংরা নজর রয়েছে মুসলিমদের প্রতি, বিশেষত ওয়াকফ সম্পত্তির উপর। তৃণমূলের এই ভূমিকা আশা করিনি। এই বিষয়ে অন্তত মুখ্যমন্ত্রী মুসলিম সমাজের পাশে দাঁড়াননি। এসআইআরের ক্ষেত্রেও একই চেষ্টা হচ্ছে। তবে মানুষ অনেক সচেতন, তারা বুঝতে পারছে যে কোথাও একটা আন্ডারস্ট্যান্ডিং রয়েছে। হিয়ারিং চলার সময়, যখন অ্যাডজুডিকেশন লিস্টে হাজার হাজার মানুষের নাম উঠে আসছিল, দেখা গিয়েছে, পুরো বিধানসভা জুড়ে মাত্র এক-দুটি ক্যাম্প করা হচ্ছে। রাজ্য সরকার চাইলে প্রত্যেকটি অঞ্চলে আলাদা ক্যাম্প করে মানুষের সুবিধা করে দিতে পারত।
প্রশ্ন: আপনি মুখ্যমন্ত্রীকে ‘মাননীয়া’ বলে সম্বোধন করছেন। যখন তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন, কখনওই কংগ্রেস নেতৃত্বের বিরুদ্ধে অবমাননাকর মন্তব্য করেননি। আপনার কি মনে হয় বর্তমান রাজনীতিতে এই সৌজন্যবোধের খুব অভাব?
উত্তর: অভাব তো হয়েছেই। বরকত সাহেব শিখিয়ে গেছেন, মানুষকে ভালোবাসতে হবে। মানুষের অধিকার আছে সে যে কোনও দল করবে। কিন্তু নিজেদের মধ্যে যদি সৌজন্যবোধ না থাকে, তাহলে আমরা আদৌ মানুষ কি না, সে প্রশ্ন ওঠে।
প্রশ্ন: যতক্ষণ না ভোটার তালিকা ও অ্যাডজুডিকেশন লিস্ট নিয়ে পরিষ্কার ব্যাখ্যা পাওয়া যাচ্ছে, ততক্ষণ ভোট প্রক্রিয়া স্থগিত রাখার কথা বলেছেন। সত্যিই কি হাই কমান্ডের কাছে জানিয়েছিলেন?
উত্তর: জানিয়েছিলাম। দিল্লি গিয়েছিলাম। নির্বাচনী প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যাওয়ায় আমাদের অংশগ্রহণ করতেই হচ্ছে। কিন্তু ভোটারদের দুশ্চিন্তা বুঝতে পারছি। আমরা মনে করি— ভোটারদের বর্তমান পরিস্থিতি আগে নিয়ন্ত্রণে আনা হোক, তারপরই নির্বাচন হওয়া উচিত।
প্রশ্ন: আপনাদের এই প্রস্তাবে খারগেজি-গান্ধীজি কী বলছেন?
উত্তর: আমরা এই বিষয়টি তাঁদের জানিয়েছি, এবং তাঁরাও লক্ষ্য করেছেন যে, একটি চক্রান্ত চলছে। হাই কমান্ডের পক্ষ থেকে দিল্লিতে গিয়ে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গেও দেখা করা হয়েছে। কোনও ফল পাচ্ছি না। যেহেতু পুরো বিষয়টি এখন সুপ্রিম কোর্ট দেখছে, তাই আমরা সুপ্রিম কোর্টের উপরই আস্থা রাখছি।
প্রশ্ন: বিশেষজ্ঞরা গত কয়েক বছর ধরেই বলে আসছেন, বাংলায় মুসলিম ভোটব্যাঙ্কের উপর তৃণমূলের একাধিপত্য রয়েছে। আবার মালদায় গনি খান চৌধুরীর রাজনৈতিক ঐতিহ্যও কারও অজানা নয়। এই প্রেক্ষাপটে মুসলিম সম্প্রদায়ের ভোট কোন দিকে যেতে পারে?
উত্তর: আমরা অত্যন্ত আশাবাদী যে এখানকার ভোট কংগ্রেসের দিকেই যাবে। মানুষ কংগ্রেসকে খুব ভালোবাসেন, বিশেষ করে আমাদের পরিবারকে। মানুষের বিপদে পাশে থাকা আমাদের দায়িত্ব। শেষ পর্যন্ত মানুষ যা সিদ্ধান্ত নেবেন, আমরা মেনে নেব।
“আমার মনে হয়, বর্তমানে যে পোলারাইজেশনের রাজনীতি চলছে, হুমায়ূনবাবুও সেই চেষ্টা করছেন। বাবরি মসজিদ তৈরি করতে চাওয়া অবশ্যই খারাপ নয়। কিন্তু এটাকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা মানুষ কতটা ভালোভাবে নেবে, তা আমার জানা নেই। নির্বাচনের ফলেই তা স্পষ্ট হবে।”
প্রশ্ন: কংগ্রেসে প্রত্যাবর্তনের পর থেকেই আপনার জেলার কিছু সতীর্থ তীর্যক মন্তব্য করছেন। তাঁদের উদ্দেশে কী বলতে চান?
উত্তর: কিছু বলার নেই। তাঁরা নিজেদের প্রচারের জন্য কটাক্ষ করতেই পারেন। আমি নিজের কাজ করে যাব।
প্রশ্ন: আপনার এলাকায় মুসলিম ভোটারের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেশি। হুমায়ুন কবীর ও বাবরি মসজিদ ইস্যু কতটা প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করেন?
উত্তর: আমার মনে হয়, বর্তমানে যে পোলারাইজেশনের রাজনীতি চলছে, হুমায়ুনবাবুও সেই চেষ্টা করছেন। বাবরি মসজিদ তৈরি করতে চাওয়া অবশ্যই খারাপ নয়। কিন্তু এটাকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা মানুষ কতটা ভালোভাবে নেবে, তা আমার জানা নেই। নির্বাচনের ফলেই তা স্পষ্ট হবে। হিন্দু-মুসলিম বিভাজন করতে গিয়ে মালতীপুরে স্বাস্থ্য, শিক্ষা পরিকাঠামো নিয়ে আলোচনা হচ্ছে না। যুবকদের ভাতা দিয়ে নির্ভরশীল করে তোলা হচ্ছে। তাদের কর্মসংস্থানের জন্য কী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে? শিল্প কেন হচ্ছে না? আমরা কিন্তু এই বিষয়গুলোই সামনে আনছি।
প্রশ্ন: আসাদউদ্দিন ওয়েইসি এই রাজ্যে ভোটপ্রচার করেছেন। গত কয়েক বছরে জাতীয় স্তরে একজন মুসলিম নেতা হিসেবে তাঁর জনপ্রিয়তাও বেড়েছে। ওয়েইসি কতটা প্রভাব ফেলতে পারে?
উত্তর: উনি নিজের প্রচার করছেন, আমরা আমাদের প্রচার করছি। সিদ্ধান্ত নেবে মানুষ।
প্রশ্ন: আমরা বাবরি মসজিদ চত্বরে গিয়েছিলাম, সেখানে কার্যত মেলার মতো পরিবেশ। আপনার কি সেখানে যাওয়ার পরিকল্পনা আছে?
উত্তর: না, এখন ভোট নিয়ে ব্যস্ত। মসজিদটি যদি তৈরি হয়, তখন ভেবে দেখা যাবে। এ নিয়ে কিছু ভাবিনি।
প্রশ্ন: আল্লাহর ঘর বা ঈশ্বরের ঘর, মানুষ অবশ্যই তৈরি করতে পারেন, আপনি নিজেও বললেন। তবে নামটি নিয়ে অনেকের আপত্তি রয়েছে। অন্য কোনও নাম ভাবা যেত না?
উত্তর: এ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কিন্তু যেহেতু আল্লাহর ঘর, আমার মনে হয় না এ নিয়ে বেশি কিছু বলার প্রয়োজন আছে। মসজিদ হলে, মসজিদ হিসেবেই যাওয়া উচিত, এখানে নাম তেমন গুরুত্বপূর্ণ নয়।
প্রশ্ন: আপনি যখন স্থানীয়দের কাছে যাচ্ছেন, তাঁরা কী কী সমস্যার কথা জানাচ্ছেন? আপনি বিধায়িকা হলে কী কী পরিষেবা দেবেন?
উত্তর: বেশিরভাগ মানুষই জানাচ্ছেন, এখানে স্বাস্থ্য পরিকাঠামো দুর্বল। প্রাইমারি হেলথ সেন্টারে ডাক্তার পাওয়া যায় না, পরিচ্ছন্নতার অভাব রয়েছে, ওষুধও ঠিকমতো মেলে না। চাঁচলে কিছু ব্যবস্থা থাকলেও বড় কোনও সমস্যা হলে মালদায় ছুটতে হয়। রাস্তা-ঘাটের বেহাল অবস্থা। শিক্ষার ক্ষেত্রেও সমস্যা কম নয়— শামশিতে একটি কলেজ আছে, কিন্তু আশেপাশের এলাকায় কলেজ নেই। এক-একটি ক্লাসে ৫০-৬০ জন করে ছাত্রছাত্রী, শিক্ষকদের উপরও প্রচুর চাপ। যদি আমরা ক্ষমতায় আসি, সবার আগে এই সমস্যাগুলোর সমাধান করব।
প্রশ্ন: স্বাধীন ভারতের ইতিহাসে গতবারই প্রথম কংগ্রেসশূন্য বিধানসভা হয়। এবারে মৌসম (Mausam Noor) বদল হবে?
উত্তর: ১০০ শতাংশ বদল হবে। এবারে খুব ভালো ফল হবে বলে আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস।
নিবেদিত


