Advertisement
Advertisement
Bikash Ranjan Bhattacharya

বঙ্গে অনুপ্রবেশকারী ভর্তি, আজও পর্দার আড়ালে বিজেপির সুহৃদ মমতা: বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য

এলাকার তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থীর প্রচারে লেখা হচ্ছে 'মামলাবাজ চাকরিখেকো বিকাশকে একটিও ভোট নয়'! বাম সমর্থকদের কাছে বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য বঞ্চিত-অবহেলিতদের লড়াইয়ের প্রধান মুখ। এ বিষয়ে কী বলছেন তিনি নিজে?

Advertisement
সোমনাথ রায়
সোমনাথ রায়

শেষ আপডেট: এপ্রিল ১৪, ২০২৬, ২১:০৩

link
সোমনাথ রায়
সোমনাথ রায়

শেষ আপডেট: এপ্রিল ১৪, ২০২৬, ২১:০৩

options
link
বঙ্গে অনুপ্রবেশকারী ভর্তি, আজও পর্দার আড়ালে বিজেপির সুহৃদ মমতা: বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য zoom

বিধানসভা নির্বাচনে যাদবপুর কেন্দ্র থেকে সিপিআইএম প্রার্থী। তাঁর কৃতিত্বের ভাঁড়ার সমৃদ্ধ। রাজ্যসভার সদস্য ছিলেন। কলকাতার মেয়রের দায়িত্ব সামলেছেন। তাছাড়াও শিক্ষক দুর্নীতি মামলার সঙ্গে অবিচ্ছেদ্য ভাবে জুড়ে গিয়েছে এই দুঁদে আইনজীবীর নাম। সংবাদ প্রতিদিন ডট ইন-এর বিশেষ সাক্ষাৎকারে বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য (Bikash Ranjan Bhattacharya)

প্রশ্ন: আপনাদের পার্টি অফিসের ব্যানারে লেখা, ‘সাফল্যের থেকে ব্যর্থতা ভালো শিক্ষা দেয়’। আপনাদের ৩৪ বছরের সাফল্য ও গত ১৫ বছরের ব্যর্থতা থেকে কী শিক্ষা নিয়ে এবারের নির্বাচনে এগোচ্ছেন?
উত্তর: আমাদের ৩৪ বছরের সাফল্য নিঃসন্দেহে অনন্য। সেই সাফল্যের কথা আমরা মানুষের কাছে ব্যাপকভাবে পৌঁছে দিতে পারিনি, এটাই আমাদের ব্যর্থতা। সেই ব্যর্থতা কাটাতেই আমাদের লড়াই। এবং এই লড়াই যে-প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে, তার নাম প্রচারমাধ্যম! প্রচারমাধ্যমই ক্রমশ মানুষের মনন, চিন্তাভাবনাকে প্রভাবিত করছে। আরও নিবিড়ভাবে সে লড়াই লড়তেই আমরা পথেঘাটে নেমেছি।

Advertisement

“রাজ্যের অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে মানুষ নিজেকে এ-রাজ্যের বাসিন্দা হিসেবে পরিচয় দিতে লজ্জাবোধ করছে। দুর্নীতি, রাহাজানি, নারী সুরক্ষার অভাব— ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। এই চূড়ান্ত অসহায় অবস্থায় পশ্চিমবঙ্গবাসীকে পৌঁছে দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই দুঃশাসনের বিরুদ্ধেই আমাদের লড়াই।”

প্রশ্ন: যাদবপুরকে ‘বাম দুর্গ’ই বলা হয়ে এসেছে বরাবর। ২০১১ আর ২০২১-এর পরিস্থিতি বাদ দিলে এই এলাকার বিধায়ক বরাবরই বাম দলের। ‘বাম দুর্গ’ ফিরিয়ে আনার বিষয়ে আপনি কতটা প্রত্যয়ী?
উত্তর: আমি একা নই, এলাকার প্রত্যেক কর্মী, সাধারণ মানুষ এ বিষয়ে প্রত্যয়ী। তাঁদের শারীরিক ভাষা ইতিবাচক। যা দেখে আমরা নিশ্চিত যে, মানুষ তাঁদের অতীত গৌরবকে ফিরিয়ে আনবেন।

প্রশ্ন: লাগাতার প্রচারের কাজে ব্যস্ত রয়েছেন। স্থানীয়দের কাছে কোন কোন ইস্যু তুলে ধরছেন মূলত?
উত্তর: ইস্যু তো স্থানীয় নয়, পশ্চিমবঙ্গের সামগ্রিক ইস্যু। রাজ্যের অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে মানুষ নিজেকে এরাজ্যের বাসিন্দা হিসেবে পরিচয় দিতে লজ্জাবোধ করছে। দুর্নীতি, রাহাজানি, নারী সুরক্ষার অভাব— ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। এই চূড়ান্ত অসহায় অবস্থায় পশ্চিমবঙ্গবাসীকে পৌঁছে দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই দুঃশাসনের বিরুদ্ধেই আমাদের লড়াই।  

Bikash Ranjan Bhattacharya, CPI(M) candidate from Jadavpur constituency in the assembly elections

প্রশ্ন: ধর্মের নামে রাজনীতি পশ্চিমবঙ্গে আগে কখনও দেখা যায়নি, বর্তমানে তা-ই হচ্ছে।
উত্তর: সেটাই বললাম! আগে সমস্ত ভারতবর্ষ তথা পৃথিবীর মানুষ মনে করত, পশ্চিমবঙ্গবাসী অত্যন্ত শিক্ষিত। তাঁরা দরিদ্র হতে পারেন, কিন্তু কৃষ্টির দিক থেকে অনেক উন্নত। রাজ্যে মানুষে মানুষে মেলবন্ধন রয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আজ সেই পশ্চিমবঙ্গকে টেনে নর্দমায় নামিয়েছেন। বিজেপিকে হাত ধরে এই রাজ্যে এনেছেন। এখন বিজেপি বলছে, আমরা হিন্দু ভোট চাই! মানুষের ভোট চায় না! ভারতবর্ষের নাগরিকদের ভোট চায় না! এইভাবে আরএসএস এবং মুসলিম লিগ মিলে দেশটাকে বিভাজন করেছে।

“এসআইআর-এর সমস্যা তৈরি করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়! পশ্চিমবঙ্গ অনুপ্রবেশকারীতে ভরে গিয়েছে— এই আওয়াজ উনিই তুলেছিলেন। তখনও উনি বিজেপির সুহৃদ ছিলেন, আজও পর্দার আড়াল থেকে তা-ই রয়েছেন। এবং বিজেপির অমিত শাহ, মোদি এটাকেই ‘ঘুসপেটিয়া’ বলছেন।”

প্রশ্ন: সম্প্রতি সমাজমাধ্যমে একটি ছবি বেশ ভাইরাল। দেখা যাচ্ছে, জনৈক ব্যক্তি তাঁর বাড়িতে পোস্টার লাগিয়েছেন, যেখানে লেখা রয়েছে, বিকাশরঞ্জন যেন তাঁর বাড়িতে না ঢোকেন, কারণ তিনি কুখাদ্য খেয়েছেন!
উত্তর: তিনি মনে করতেই পারেন। হয়তো তাঁর কাছে যেটা সুখাদ্য, আমার কাছে সেটা কুখাদ্য! এই স্বাধীনতা তো রয়েছেই! কিন্তু আমি নিশ্চিত যে, এই অর্থে তিনি লেখেননি। এ আসলে মানুষের খাদ্যাভ্যাসের উপর আক্রমণ। ইউপি-বিহারে শুনতে হচ্ছে, কে কার সঙ্গে ঘর করবে সেটা ওরা ঠিক করে দেবে! বিজেপি-তৃণমূল আমাদের রাজ্যকেও সেই অসহিষ্ণুতার দিকেই নিয়ে যাচ্ছে। 

প্রশ্ন: যাদবপুর জুড়ে নির্বাচনী প্রচারে দেখতে পাচ্ছি যে, আপনাদের বিরোধীরা এমন কিছু পোস্টার লাগিয়েছে, যেখানে লেখা ‘চাকরিখেকো মামলাবাজ বিকাশকে একটি ভোটও নয়’।
উত্তর: আমি ওদের আহ্বান জানাচ্ছি, এই পোস্টার ওরা গোটা রাজ্যজুড়ে ছড়িয়ে দিক। আমি খুশি হব।

প্রশ্ন: এবারের নির্বাচনে এসআইআর একটি বড় প্রশ্ন। আপনি একজন আইনবিশেষজ্ঞ, একজন সাংসদ। এ বিষয়ে আইন ও সংবিধান কী বলছে?
উত্তর: এসআইআরের এই সমস্যা তৈরি করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, ভুলে যাবেন না! পশ্চিমবঙ্গ অনুপ্রবেশকারীতে ভরে গিয়েছে— এই আওয়াজ উনিই তুলেছিলেন। তখনও উনি বিজেপির সুহৃদ ছিলেন, আজও পর্দার আড়াল থেকে তা-ই রয়েছেন। এবং বিজেপির অমিত শাহ, মোদি এটাকেই ‘ঘুসপেটিয়া’ বলছেন। এই সত্য বুঝতে হবে যে, এভাবেই মমতা প্রান্তিক মানুষ ও গরিব মানুষকে সমস্যায় ফেলেছেন।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.