Advertisement
Advertisement
West Bengal Assembly Election

‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ আসলে জুমলা! বিজেপির ‘পর্দাফাঁসে’ প্রচার স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলির

লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের বিকল্প হিসেবে বিজেপির তরফে 'অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার' চালুর যে 'মিথ্যা প্রতিশ্রুতি' দেওয়া হচ্ছে তা মানুষকে জানাতে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্যদের কাজে লাগাবে তৃণমূল।

Advertisement
কৃষ্ণকুমার দাস
কৃষ্ণকুমার দাস

শেষ আপডেট: এপ্রিল ৩, ২০২৬, ১২:৪৭

link
কৃষ্ণকুমার দাস
কৃষ্ণকুমার দাস

শেষ আপডেট: এপ্রিল ৩, ২০২৬, ১২:৪৭

options
link
‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ আসলে জুমলা! বিজেপির ‘পর্দাফাঁসে’ প্রচার স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলির zoom
ফাইল ছবি।

বাংলা বিরোধী বিজেপির ‘আক্রোশ ও ভয়ংকর চক্রান্ত’ ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে এবার স্বনির্ভর গোষ্ঠীকে প্রচারে নামাচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ৯৮টি জনমুখী সামাজিক প্রকল্প ও পরিষেবার কথা তুলে ধরার পাশাপাশি বিজেপির ‘আগ্রাসন ও মিথ‌্যাচার’ নিয়ে মহিলাদের সতর্ক করার কাজ শুরু করছে রাজ্যের শাসকদল। বস্তুত সেই কারণে কলকাতার পাশাপাশি সমস্ত জেলাতেই তৃণমূল মহিলা কংগ্রেস ও স্বনির্ভর গোষ্ঠীকে নিয়ে প্রস্তুতি বৈঠক শুরু করে দিয়েছে জোড়াফুল শিবির। মূলত তাঁদের কাজ হবে বিজেপির ‘মিথ্যাচার’ ফাঁস করা। লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের বিকল্প হিসেবে বিজেপির তরফে ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ চালুর যে ‘মিথ্যা প্রতিশ্রুতি’ দেওয়া হচ্ছে তা মানুষকে জানাতে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্যদের কাজে লাগাবে তৃণমূল।

দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে দলের মহিলা সংগঠনকেও কাজে লাগানো হচ্ছে। বুধবার কলকাতার স্বনির্ভর গোষ্ঠীর প্রধান ও সক্রিয় গোষ্ঠীনেত্রীদের নিয়ে মহারাষ্ট্র নিবাস হলে বৈঠক করেন মেয়র পারিষদ মিতালী বন্দ্যোপাধ্যায় ও বরো চেয়ারম‌্যান চৈতালী চট্টোপাধ‌্যায়। উল্লেখ‌্য, দেশের মধ্যে সর্বাধিক সংখ‌্যায় ১০ লক্ষাধিক স্বনির্ভর গোষ্ঠী রয়েছে বাংলায়। আর এই গোষ্ঠীর অধীনে প্রায় ১ কোটি ২০ লক্ষ মহিলা মমতা বন্দ্যোপাধ‌্যায়ের নেতৃত্বে স্বনির্ভর হয়ে একাধিকবার দেশের সেরার স্বীকৃতি আদায় করে এনেছে।

Advertisement

তৃণমূলের দাবি, ভোটের (West Bengal Assembly Election) প্রচারে বিজেপির তরফে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের বিকল্প হিসাবে ক্ষমতায় এলে ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ চালুর মিথ‌্যা প্রতিশ্রুতি দিতে শুরু করেছেন গেরুয়া নেতারা। শুধু তাই নয়, স্বাস্থ‌্যসাথীর বিকল্প হিসেবে ‘আয়ুষ্মান ভারত’-এর কথা স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী একাধিক সভায় এসে বলতে শুরু করেছেন। কারণ, মমতার এই সমস্ত জনমুখী প্রকল্প শুধুমাত্র মহিলা নন, পরিবারের সমস্ত সদস‌্যই উপকৃত হচ্ছেন। ২০২১ সালে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের ঝড়ে বিজেপি উড়ে গিয়েছিল। বস্তুত, সেই কারণে এবার ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’-এর ‘গল্প’ ভোটের বাজারে বিজেপি ছড়িয়ে দিচ্ছে বলে এদিন বৈঠকে অভিযোগ করেন মিতালী বন্দ্যোপাধ‌্যায়রা।

রাজ্যের শাসকদলের আরও দাবি, মাস ছয়েক আগে বিহারের ভোটে এভাবেই একটা নির্দিষ্ট সংখ‌্যক মহিলাদের এককালীন ‘১০ হাজার টাকা ছড়িয়ে’ নির্বাচনী যুদ্ধ জিতেছিলেন নীতীশ কুমাররা। পরে আর যে কোনও টাকা দেওয়া হয়নি, সেই তথ‌্য পাড়ায় পাড়ায় সমস্ত মহিলাদের জানানোর জন‌্য এদিন স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস‌্যদের নির্দেশ দেন মিতালী-চৈতালিরা। শুধু তাই নয়, দিল্লির রেখা শর্মার নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার ২০২৫ সালে ভোটের সময় চালু হওয়া মহিলাদের জন‌্য প্রকল্প যে বন্ধ করে দিয়েছে, সেই তথ‌্যও বৈঠকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ‌্যায়ের লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের অনুকরণে মধ‌্যপ্রদেশে ‘ল‌্যাডলি বহেনা’ বা অন‌্য যে সমস্ত লোকদেখানো মহিলাকেন্দ্রিক প্রকল্প চালু হয়েছিল, তার অধিকাংশ হয় বন্ধ হয়ে গিয়েছে, নতুবা নানা শর্ত চাপিয়ে সীমিত সংখ‌্যক মহিলাদের দেওয়া হচ্ছে। পরিবারের সদস‌্যদের যে কোনও একজনের স্মার্ট ফোন বা মোটরবাইক থাকলে যে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প পাওয়া যাচ্ছে না- এই বিষয়টি অনেক বেশি গুরুত্ব দিয়ে বাড়ি বাড়ি প্রচারের গাইডলাইন দেওয়া হয়েছে এদিন। শুধু তাই নয়, বাড়িতে ফ্রিজ বা রঙিন টিভি থাকলেও যে আয়ুষ্মান ভারত পাওয়া যাচ্ছে না, সে কথা প্রতিটি পরিবারকে জানানোর জন‌্য স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্যদের নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে।

অন্যদিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ‌্যায়ের ‘স্বাস্থ‌্যসাথী’ বাংলার প্রতিটি পরিবার যেমন পাচ্ছে, তেমনই মাথাপিছু ১৫০০ টাকা (তফসিলিদের ১৭০০ টাকা) লক্ষ্মীর ভাণ্ডার রাজ্যের সমস্ত মহিলাই অ‌্যাকাউন্টে পেয়ে আসছেন। এমনকী, সাউথ সিটির মতো অভিজাত আবাসনের বহু মহিলাও এই লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পেয়ে থাকেন। একইভাবে রাজ্যের সমস্ত স্তরের ২১ থেকে ৪০ বছর বয়সি যুবক-যুবতীরা ‘যুবসাথী’ প্রকল্পে প্রতি মাসে মাথাপিছু ১৫০০ টাকা পেতে শুরু করেছেন।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.