Advertisement
Advertisement
ভোট দ্বিতীয়া
West Bengal Exit Poll 2026

বহুবার মেলেনি বুথ ফেরত সমীক্ষা, ২০০ পেরবেই, প্রত্যয়ী তৃণমূল

শাসকদলের একাংশের মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূল শুধু আগেরবারের শক্তি ধরে রাখবে তা-ই নয়। বিজেপির জেতা আসনেও থাবা বসাবে।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: এপ্রিল ২৯, ২০২৬, ২৩:৪৮

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: এপ্রিল ২৯, ২০২৬, ২৩:৪৮

options
link
বহুবার মেলেনি বুথ ফেরত সমীক্ষা, ২০০ পেরবেই, প্রত্যয়ী তৃণমূল zoom
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ফাইল ছবি।

বুথ ফেরত সমীক্ষায় একাধিক সমীক্ষক সংস্থা বিজেপিকে এগিয়ে রাখলেও গত দু’বারের মতো এবারও সেসব মিলবে না বলে দাবি করছে শাসকদল। তৃণমূল সূত্রের খবর, এক্সিট পোলে (West Bengal Exit Poll 2026) ইঙ্গিত যা-ই হোক, রাজ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূল যে চতুর্থবার সরকার গড়তে চলেছে তাতে শাসকদলের অন্দরে সংশয় নেই।

ইতিহাস বলছে, গত বিধানসভা নির্বাচনেও সিংহভাগ এক্সিট পোল বিজেপি সরকার গড়ছে-এমন ইঙ্গিতই দিয়েছিল। কিন্তু বাস্তব মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে রেকর্ড সংখ্যক আসন নিয়ে সরকার গড়ে তৃণমূল। ২০২৪-এ কেন্দ্রে এনডিএ ৪০০ পার করতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেয় বহু সমীক্ষক সংস্থা। কিন্তু বাস্তবে সেটারও ধারেকাছে পৌঁছতে পারেনি পদ্ম শিবির। একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকেও বেশ খানিকটা দূরে থেমে যায় নরেন্দ্র মোদির বিজয়রথ। এবারও সেই একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে বলে মনে করছে তৃণমূল। শাসকদলের একাংশের মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূল শুধু আগেরবারের শক্তি ধরে রাখবে তা-ই নয়। বিজেপির জেতা আসনেও থাবা বসাবে। তৃণমূলের অন্যতম রাজ্য সাধারণ সম্পাদক তথা বেলেঘাটার প্রার্থী কুণাল ঘোষ বলছেন, “এক্সিট পোল নিয়ে অহেতুক মাতামাতির কোনও কারণ নেই। এই এক্সিট পোল ২০২১ সালে বিজেপিকে জিতিয়ে দিয়েছিল। ২০২৩ পঞ্চায়েত নির্বাচনে বিজেপিকে একাধিক জেলা পরিষদ জিতিয়ে দিয়েছিল। ২০২৪-এও প্রচুর আসন পাইয়ে দিয়েছিল। এই এক্সিট পোলের সঙ্গে গ্রাউন্ড রিয়েলিটির কোনও সম্পর্ক নেই।”

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

কোন অঙ্কে এত আত্মবিশ্বাসী তৃণমূল? শাসকদলের বক্তব্য, রাজ্যে যে স্বতঃস্ফূর্তভাবে মানুষ ভোট দিচ্ছে সেটা মূলত এসআইআরের বিরোধিতা করে। ভোট না দিলে পরে সমস্যা হতে পারে এই আশঙ্কা জাঁকিয়ে বসেছে ভোটারদের মধ্যে। সেই আশঙ্কা থেকেই মানুষ ভোট দিয়েছেন। সুতরাং এবারের যে বিপুল ভোটের হার সেটা মূলত এসআইআর বিরোধী ভোট। ফলে সেই ভোট পুরোটাই তৃণমূলের পক্ষে পড়বে।

TMC rejects west bengal exit poll prediction for 2026 assembly election
মিত্র ইন্সটিটিউশনে ভোট দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ছবি: কৌশিক দত্ত

তাছাড়া শাসকদলের মূল ভরসা অবশ্যই এম ফ্যাক্টর। এম অর্থাৎ মহিলা, মুসলিম এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বয়ং। প্রথম দফার ভোটে জেলায় জেলায় মহিলা ভোটারদের ভিড় ছিল রীতিমতো লক্ষণীয়। শাসকদলের বিশ্বাস, এই মহিলা ভোটের সিংহভাগ পড়বে জোড়াফুলেই।  তৃণমূলের দ্বিতীয় এম ফ্যাক্টর হল মুসলিম। রাজ্যের সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকাগুলিতে ব্যাপক হারে ভোট পড়েছে। কিছু কিছু পকেটে সংখ্যালঘু ভোটে হয়তো সামান্য চিড় ধরাবে বাম-কংগ্রেস-আইএসএফ বা আম জনতা উন্নয়ন পার্টি, তবে সেটা নগণ্যই। সার্বিকভাবে SIR-অত্যাচারে ক্ষুব্ধ সংখ্যালঘুরা বিজেপির হাত থেকে পরিত্রাণ পেতে তৃণমূলের পাশেই থাকবে বলে আশাবাদী শাসক শিবির। তাছাড়া বিজেপি যেভাবে নিজেদের সংকল্প পত্রে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকর করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সেটাতেও ভীত সংখ্যালঘুরা। তাই কোনও কোনও মহলে অসন্তোষ থাকলেও সংখ্যালঘুরা তৃণমূলের সঙ্গে থাকার সম্ভাবনাই বেশি। তৃণমূলের তৃতীয় এম ‘ফ্যাক্টর’ অবশ্যই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে। রাজ্যে বিজেপি যতই চেষ্টা করুক, দিল্লির নেতারা এসে যতই রাজ্য দখলের জন্য সাম-দাম-দণ্ড-ভেদ নীতি গ্রহণ করুক, তাঁরাও জানেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ধারেকাছে কোনও গ্রহণযোগ্য মুখ তাঁদের কাছে নেই। মমতা এখনও বাংলা-বাঙালির ‘রক্ষাকর্তা’ হিসাবে এখনও মমতার উপরই আস্থা রাখবেন ভোটাররা। অন্তত তৃণমূলের এমনটাই ধারণা।

আরও একাধিক ফ্যাক্টর তাঁদের পক্ষে কাজ করবে বলে মনে করছে শাসক শিবির। তাৎপর্যপূর্ণভাবে লক্ষ লক্ষ পরিযায়ী শ্রমিক ভিনরাজ্য থেকে এসেছেন স্রেফ ভোট দিতে। এমনিতে এই পরিযায়ীদের একটি বড় অংশ বিধানসভা বা লোকসভা ভোটে ভোট দিতে আসেন না। পঞ্চায়েত ভোটে নিজেদের উদ্যোগে বহু নেতা এদের নিয়ে আসেন। কিন্তু এবার এই পরিযায়ীরা ভোট দিতে এসেছেন স্রেফ এসআইআর ভীতিতে। অনেকেরই ধারণা এবার ভোট দিতে না পারলে পরে সমস্যা হবে। তৃণমূল মনে করছে, যেভাবে ভিনরাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর অত্যাচার বাড়ছে, তাতে এই পরিযায়ী শ্রমিকদের ভোট অন্তত অন্য কোনও ভোটবাক্সে যাবে না। তাছাড়া ভোট দেওয়ার সময় SIR হেনস্তার কথাও মাথায় রেখেছেন পরিযায়ীরা।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.