Advertisement
Advertisement
ভোট দ্বিতীয়া
West Bengal Assembly Election

আর জি কর ইস্যুকে সামনে রেখে শিল্পাঞ্চলে প্রচার বিরোধীদের, গড় ধরে রাখতে মরিয়া তৃণমূল

আর জি কর হাসপাতালের তরুণী চিকিৎসক খুন ও ধর্ষণের ঘটনা নাড়িয়ে দিয়েছিল গোটা বাংলাকে। ঘটনায় আদালতের বিচারে সাজাপ্রাপ্ত দোষী সঞ্জয় রায় এখন জেলবন্দি। যদিও মেয়ের খুনের সঠিক বিচার হয়নি বলে মত নির্যাতিতার বাবা-মা। এবারের নির্বাচনে বিজেপির অন্যতম মুখ ওই চিকিৎসক তরুণী 'অভয়া'র মা৷ পানিহাটি বিধানসভায় বিজেপির প্রার্থী রত্না দেবনাথ।

Advertisement
অর্ণব দাস
অর্ণব দাস

শেষ আপডেট: এপ্রিল ২৮, ২০২৬, ২০:৩০

link
অর্ণব দাস
অর্ণব দাস

শেষ আপডেট: এপ্রিল ২৮, ২০২৬, ২০:৩০

options
link
আর জি কর ইস্যুকে সামনে রেখে শিল্পাঞ্চলে প্রচার বিরোধীদের, গড় ধরে রাখতে মরিয়া তৃণমূল zoom
গড় ধরে রাখতে মরিয়া তৃণমূল

আর জি কর হাসপাতালের তরুণী চিকিৎসক খুন ও ধর্ষণের ঘটনা নাড়িয়ে দিয়েছিল গোটা বাংলাকে। ঘটনায় আদালতের বিচারে দোষী সঞ্জয় রায় এখন জেলবন্দি। যদিও মেয়ের খুনের সঠিক বিচার হয়নি বলে মত নির্যাতিতার বাবা-মা। এবারের নির্বাচনে বিজেপির অন্যতম মুখ ওই চিকিৎসক তরুণী ‘অভয়া’র মা। পানিহাটি বিধানসভায় বিজেপির প্রার্থী রত্না দেবনাথ। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রত্নাকে পাশে বসিয়ে তাঁর হয়ে জনসভা করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর হাত তাঁর মাথায়। ভোটের পর তদন্তের ফাইল ফের খোলা হবে, সেই প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন দেশের প্রধানমন্ত্রী। রাজনৈতিক মহলের মত, পানিহাটি, খড়দহ, কামারহাটি, বরানগর বিধানসভা এলাকায় এবার আর জি কর ইস্যুতেই ভোট হচ্ছে। অভয়ার মা জানিয়েছেন, সত্যের জয় হবেই৷ মানুষ তাঁর সঙ্গে আছে৷

দিন কয়েক আগেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হাবড়ায় জনসভা করেছেন। জ্যোতিপ্রিয় মল্লিককে ফেভারিট বলে সার্টিফিকেট দিয়েছেন ‘দিদি’। তারপর থেকেই হাবড়া বিধানসভা এলাকায় তৃণমূল যেন উঠেপড়ে লেগেছে। বালুদাকে জেতানোর জন্য দলের কর্মী-সমর্থকরা ব্যস্ত। জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক নিজেও জানাচ্ছেন, লড়াই কঠিন হলেও শেষ হাসি তিনিই হাসবেন। উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বারাসত ও বারাকপুর মহকুমা অঞ্চল শাসক দলের দখলে। দুই দশক আগেও বামেদের এই জেলায় বড় ভোটব্যাঙ্ক ছিল। কিন্তু পালাবদলের পর গোটা জেলার রংই যেন সবুজ। ভৌগোলিক দিক থেকেও এই জেলার গুরুত্ব কম নয়। একদিকে কৃষিজমি, অন্যদিকে গঙ্গার পাড় দিয়ে শিল্পাঞ্চল। আর মধ্যভাগে শহরতলি অঞ্চল, যেখানে সমাজের নিম্ন-মধ্যবিত্ত, মধ্যবিত্ত, উচ্চবিত্তদের বসবাস। গত সাত-আট বছরে বারাকপুর শিল্পাঞ্চলের রাজনৈতিক ছবি মাঝেমধ্যেই বদল হয়েছে। রাজনৈতিক দলবদল শিল্পাঞ্চলের রাজনীতির সমীকরণকেও বদলে দিয়েছে বারেবার। 

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement
West Bengal Assembly Election: north 24 parganas barrackpur barasat election scenario
পানিহাটির বিজেপির প্রার্থী রত্না দেবনাথের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। নিজস্ব চিত্র

উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় এবারেও নির্বাচনে একাধিক হেভিয়েট মুখ রয়েছে। রাজ্যের মন্ত্রী, প্রাক্তন মন্ত্রী, শাসক-বিরোধী শিবিরের গুরুত্বপূর্ণ মুখ এবারও নির্বাচনের প্রার্থী। লাল ফিকে হলেও গত কয়েক বছরে তৃণমূল গড়ে গেরুয়া গাঢ় হয়েছে। জেলায় ২০১৯ সাল থেকেই পদ্মশিবিরের ভোটব্যাঙ্ক ক্রমে বেড়েছে। স্বয়ং দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ জেলার একাধিক কেন্দ্রে জনসভা, রোড শো করেছেন। বারাকপুর শিল্পাঞ্চলের বিজেপির অন্যতম মুখ অর্জুন সিং জানিয়েছেন, এবার ভালো ফল হবে বিজেপির। শিল্পাঞ্চলে তৃণমূলের ছাপ্পাভোট এবার হবে না। মানুষ ভোট দিয়ে তৃণমূলকে হারাবে। যদিও তৃণমূলের দাবি, এবারও ব্যাপক ফলাফল হবে তাদের। জেলার মানুষ তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষেই রায় দেবেন।

জেলার রাজনীতি…
অতীতে উত্তর ২৪ পরগনা ছিল বামেদের শক্ত ঘাঁটি। বারাকপুর শিল্পাঞ্চল ছিল সিপিএমের দখলে। বারাকপুরের সিপিএম নেতা তথা দীর্ঘ সময়ের সাংসদ তড়িৎ তোপদার ছিলেন কার্যত ওই এলাকার শেষকথা৷ অভিযোগ, ওই এলাকায় বিরোধীরা খুব একটা কথা বলার সুযোগও পেত না। এদিকে দমদম ছিল বামেদের শক্ত ঘাঁটি। যদিও একসময় দমদম লোকসভা কেন্দ্র সিপিএমের থেকে বিজেপি ছিনিয়ে নিয়েছিল। সেবার রাজ্য বিজেপির অন্যতম মুখ তপন শিকদার দমদম থেকে জয়ী হয়ে লোকসভায় গিয়েছিলেন। পরে দমদম তৃণমূলের দখলে যায়। রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু একসময় সিপিএম নেতা সুভাষ চক্রবর্তীর কাছে নির্বাচনে দমদম পুনরুদ্ধারের অনুরোধ করেছিলেন। কথা রেখেছিলেন সুভাষ। পরের নির্বাচনে দমদমে জয়ী হয়েছিল সিপিএম। কিন্তু সেই গড় বেশিদিন ধরে রাখতে পারেনি লালেরা। লোকসভা ও বিধানসভা কেন্দ্র হিসেবে দমদম দীর্ঘ সময় ধরেই তৃণমূল কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটি। 

West Bengal Assembly Election: north 24 parganas barrackpur barasat election scenario
দমদমে প্রচারে ব্রাত্য বসু। ছবি- সংগৃহীত

উত্তর ২৪ পরগনার একাধিক কেন্দ্রে হেভিওয়েটদের লড়াই৷ নাগরিক পরিষেবা থেকে উন্নয়ন, রাস্তাঘাটের উন্নতি এইসব বিষয় তৃণমূলের প্রচারে বরাবর রয়েছে। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, কন্যাশ্রী, দুয়ারে সরকার, স্বাস্থ্য সাথী থেকে যুব সাথী প্রকল্পের সুফল শাসক দল প্রচার করে আসছে। অন্যদিকে বিরোধীদের প্রচারের হাতিয়ার চাকরি চুরি, রেশন দুর্নীতি থেকে সিন্ডিকেট রাজ, মাটিপাচার, প্রোমোটিং রাজ। দমদম উত্তরের সিপিএম প্রার্থী দীপ্সিতা ধর জানিয়েছেন, এই সরকার একাধিক দুর্নীতিতে বিদ্ধ। তরুণ সমাজের হাতে কাজ নেই। বহু জায়গায় পরিষেবা পর্যন্ত পাওয়া যায় না৷ মানুষ এবার বামেদের ভোট দিয়ে তৃণমূলকে পরাস্ত করবে।

গঙ্গার পাড় ধরে রয়েছে একাধিক কারখানা। এলাকার পোশাকি নাম বারাকপুর শিল্পাঞ্চল। তথ্য বলছে, বাম আমল থেকেই একের পর এক কল কারখানা বন্ধ। এই সরকারের আমলেও একাধিক কারখানার দরজায় তালা পড়েছে। বহু জুটমিল, কারখানায় সাসপেনশন অফ ওয়ার্কের নোটিস ঝুলেছে। অনেক কারখানা আবার শ্রমিক ইউনিয়নের আন্দোলনে খুলেছে। টিটাগড়ের শ্রমিক কলোনির এক বাসিন্দা বলেন, ভোটের সময় শিল্পাঞ্চলের উন্নতি করার জন্য, কারখানা খোলার জন্য প্রচার চলে। শ্রমিকদের কথা মনে পড়ে রাজনৈতিক নেতাদের। ভোট মিটলে আর কারও দেখা মেলে না।

রাজনৈতিক মহলের মত, ভাটপাড়া-নোয়াপাড়া-জগদ্দল এলাকা ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে থেকে যেন বারুদের স্তূপের উপর ছিল। তৃণমূলের টিকিট না পেয়ে অর্জুন সিং সেসময় বিজেপিতে যোগ দিয়ে বারাকপুরের প্রার্থী হন। ভোটে জিতে বিজেপির সাংসদও হন। ওই এলাকায় এরপরও তৃণমূল-বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতী লড়াই ছিল অহরহ ঘটনা! বোমাবাজি, শুটআউট, দিনেদুপুরে-রাতে খুনের ঘটনাও ঘটেছে। মাঝে অর্জুন সিং দলবদল করে তৃণমূলে গিয়েছিলেন। পরে আবার তিনি বিজেপিতে ফিরে আসেন। গতবার লোকসভা নির্বাচনে অর্জুন সিং তৃণমূলের পার্থ ভৌমিকের কাছে হেরেছিলেন। যদিও শিল্পাঞ্চলে অর্জুনের অনুগামী, ভোটব্যাঙ্ক আছে। এবার তিনি ভোটেও লড়ছেন। বিজেপি শিল্পাঞ্চলে কি এবার পদ্ম ফোটাতে পারবে? সেই চর্চা ক্রমে জোরালো হচ্ছে।

West Bengal Assembly Election: north 24 parganas barrackpur barasat election scenario
এলাকায় প্রচারে অর্জুন সিং। ছবি- সংগৃহীত

এবারের নজরকাড়া প্রার্থী…
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে উত্তর ২৪ পরগনা জেলার ৩৩টি আসনের মধ্যে ২৮টিতেই জয় পেয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস। বিজেপি পেয়েছিল ৫টি আসন। দক্ষিণবঙ্গের এই জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের আরও একটি গড়। এমনই মনে করে রাজনৈতিক মহলও। এবারও বিরোধীদের ভোটবাক্সে দুরমুশ করার লক্ষ্য শাসক দলের। তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও দলের সর্ব ভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় একাধিক জনসভা, রোড শো করেছেন। সবুজ উত্তর ২৪ পরগনায় কি পদ্মফুল ফুটবে? সিপিএম কি একটি আসনও ছিনিয়ে নিতে পারবে এবার? সেই প্রশ্ন উঠেছে।

এই জেলায় বারাকপুর, বিধাননগর, বারাসত মহকুমায় এসআইআরের খুব একটা প্রভাব পড়েনি। তবে জেলায় সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্ক আছে। দেগঙ্গা, আমডাঙা বিধানসভা কেন্দ্র দুটি সংখ্যালঘু অধ্যুষিত৷ মধ্যমগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী তথা রাজ্যের বিদায়ী মন্ত্রী রথীন ঘোষের বক্তব্য, এলাকায় উন্নয়ন হয়েছে। আগামী দিনের আরও হবে। মানুষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে আছে। এবারও জেলায় তৃণমূল কংগ্রেস অনেক ভালো ফল করবে। এবার জেলায় চতুর্মুখী লড়াই হচ্ছে। বাম ও কংগ্রেস আলাদা করে ভোটে লড়ছে। মধ্যমগ্রাম, দেগঙ্গা, আমডাঙায় প্রার্থী দিয়েছে নৌশাদ সিদ্দিকির দল আইএসএফ। 

West Bengal Assembly Election: north 24 parganas barrackpur barasat election scenario
বরানগরে প্রচারের ফাঁকে ভোটারের অনুরোধে সেলফি তৃণমূল প্রার্থী সায়ন্তিকা। ছবি- সংগৃহীত

উত্তর ২৪ পরগনা জেলার এইসব কেন্দ্রে একাধিক হেভিওয়েট মুখ রয়েছে। দমদম কেন্দ্রে রাজ্যের বিদায়ী শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু এবারও প্রার্থী। উত্তর দমদমে তৃণমূলের মুখ বিদায়ী মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। এখানেই সিপিএমের প্রার্থী তরুণ মুখ দীপ্সিতা ধর। রাজ্যের বিদায়ী খাদ্যমন্ত্রী রথীন ঘোষ মধ্যমগ্রাম থেকে এবারও লড়াই করছেন। বারাসতে তৃণমূলের প্রার্থী সব্যসাচী দত্ত। পানিহাটি কেন্দ্রে এবার ত্রিমুখী লড়াই হচ্ছে। অভয়ার মা এবার ওই কেন্দ্রে বিজেপির মুখ। সিপিএমের প্রার্থী কলতান দাশগুপ্ত। বরানগরেও ত্রিমুখী লড়াই। উপনির্বাচনে তৃণমূলের সায়ন্তিকা ঘোষ জয়ী হয়েছিলেন। এবার তিনি তৃণমূল প্রার্থী হিসেবে চ্যালেঞ্জের মুখে তিনি। বিজেপির হয়ে এবারও লড়ছেন সজল ঘোষ। সিপিএমের প্রার্থী ওই সায়নদীপ ঘোষ। কামারহাটি কেন্দ্রে পুরনো দুই প্রতিপক্ষ আরও একবার মুখোমুখি। তৃণমূল ওই কেন্দ্রে এবারও প্রার্থী করেছে রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা বিদায়ী বিধায়ক মদন মিত্র। অন্যদিকে সিপিএমের প্রার্থী পোড়খাওয়া রাজনীতিবিদ মানস মুখোপাধ্যায়।

নোয়াপাড়ায় বিজেপির প্রার্থী অর্জুন সিং। তাঁর ছেলে পবন দাঁড়িয়েছেন ভাটপাড়ায়। রাজারহাট-নিউটাউনে তৃণমূল এবারও তাপস চট্টোপাধ্যায়কে প্রার্থী করেছেন। দীর্ঘ সময় ধরে তিনি ওই কেন্দ্র থেকে জিতে আসছেন। ওই কেন্দ্রে বিজেপির প্রার্থী পীযূষ কানোরিয়া। তবে বিজেপি প্রার্থীকে নিয়ে ওই এলাকায় দলের অন্দরেই ক্ষোভ রয়েছে। অন্যদিকে রাজারহাট-গোপালপুর কেন্দ্রে এবারও তৃণমূলের প্রার্থী হয়েছেন অদিতি মুন্সি। আইনজীবী তরুণজ্যোতি তিওয়ারিকে ওই কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী করেছে। বারাকপুর বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূলের প্রার্থী রাজ চক্রবর্তী। তিনি ওই কেন্দ্রের বিদায়ী বিধায়ক। তাঁর বিরুদ্ধে বিজেপির কৌস্তভ বাগচী ভোটে লড়ছেন। জেলার এই অংশে হেভিওয়েট নেতা-তারকা মুখরা প্রার্থী, এমনই মত রাজনৈতিক মহলের। 

কোন ফ্যাক্টরে এবার ভোট…
এবারের ভোট একাধিক ইস্যুতে আবর্তিত। রাজ্য সরকারের পক্ষে ও বিপক্ষে একাধিক ঘটনা। বিরোধী শিবিরগুলির প্রচার দুর্নীতি ইস্যু। খাস উত্তর ২৪ পরগনায় শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতিতে অনেকের চাকরি গিয়েছে। চাকরির পরীক্ষা দিয়েও কল লেটার পাননি বলে অভিযোগ। সিপিএমের তরফে সেই ইস্যুতে জোর প্রচার চলছে। দমদম কেন্দ্র খোদ শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুর। সেখানেও শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতিতে জোরালো প্রচার চালাচ্ছে সিপিএম। জেলার একাধিক পুরসভাতেও নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা একাধিকবার তদন্ত করেছে এইসব পুরসভাগুলিতে। সেসবও প্রচারে রয়েছে বিরোধীদের। অন্যদিকে, শাসক দল উন্নয়ন ও এসআইআর ইস্যুকে সামনে রেখেই জোর প্রচার চালাচ্ছে। 

West Bengal Assembly Election: north 24 parganas barrackpur barasat election scenario
কামারহাটি এলাকায় রোড শো মদন মিত্রের। ছবি- সংগৃহীত

আর জি কর ইস্যু এবার পানিহাটি-সহ বারাকপুর ঘিরে অন্যতম ইস্যু। ওয়াকিবহাল মহলের মত, কেবল পানিহাটি নয়, বরানগর, কামারহাটি, খড়দহ, বারাকপুর কেন্দ্রেও অভয়া আবেগ কাজ করছে। বিরোধীদের প্রচারেও এই ইস্যুতে স্লোগান উঠছে। এলাকার মহিলা ভোটব্যাঙ্ক কি এবার বিরোধীদের পক্ষে যাবে? পানিহাটির সিপিএম প্রার্থী কলতান দাশগুপ্ত জানিয়েছেন, আর জি করের ঘটনায় মানুষ একজোট হয়েছে। সরকারের দুর্নীতির বিরুদ্ধে আন্দোলন। এবার মানুষ তৃণমূলের বিরুদ্ধে ভোট দেবে। তবে কামারহাটির তৃণমূল প্রার্থী বিদায়ী বিধায়ক মদন মিত্র জানিয়েছেন, বিজেপি, সিপিএম কোনও দাঁত ফোটাতে পারবে না। বিজেপি এজেন্সি দিয়ে অনেক কৌশল করছে। কিন্তু বাংলার মানুষ উন্নয়নের পক্ষে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষে।

হাবড়া এলাকায় তৃণমূলের প্রার্থী প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক রেশন দুর্নীতির সঙ্গে তার নাম জড়িয়ে হাবরা ও আশপাশের এলাকায় খাদ্য ও রেশন দুর্নীতি অন্যতম বড় ইস্যু। বিজেপি লোকসভা ভোটে ওই কেন্দ্রে ১৯ হাজারের বেশি ভোটে এগিয়েছিল। এবার ওই কেন্দ্রে তৃণমূল যথেষ্ট লড়াইয়ে, একথা স্বীকার করে নিয়েছেন দলেরই এক স্থানীয় নেতা। বারাসত এলাকায় বিদায়ী বিধায়ক অভিনেতা চিরঞ্জিতকে নিয়ে ক্ষোভ রয়েছে। ১০ বছর এলাকার বিধায়ক থাকলেও তেমন কোনও উন্নয়নমূলক কাজ হয়নি বলে অভিযোগ। এবার ওই কেন্দ্রে তৃণমূলের প্রার্থী সব্যসাচী দত্ত। ওই কেন্দ্রেও এবার শাসকদল চাপে রয়েছে, এমনই মত ওয়াকিবহাল মহলের।

West Bengal Assembly Election: north 24 parganas barrackpur barasat election scenario
প্রচারে বেরিয়ে ভোটারদের সঙ্গে সেলফি সিপিএম প্রার্থী দীপ্সিতার। ছবি- সংগৃহীত

প্রতিবার ভোট এলেই অশান্ত হয়ে ওঠে বারাকপুর শিল্পাঞ্চল। শিল্পাঞ্চলের ১১টি চটকলের কুলি লাইন এলাকায় বিক্ষিপ্ত অশান্তি চলে। কিন্তু এবার কোনও ভাঙচুর, মারধর, হামলার ঘটনা এখনও সেভাবে চোখে পড়েনি। গত লোকসভা নির্বাচনেও এলাকায় বোমাবাজি সন্ত্রাসের অভিযোগ উঠেছিল। এবার কমিশন গোটা এলাকা কড়া নজরদারিতে রেখেছে। পুলিশ-প্রশাসন, কেন্দ্রীয় বাহিনী রুটমার্চ করছে প্রায় সব এলাকায়। ভোটের দিনও শান্তি বজায় রাখতে মরিয়া কমিশন। বিজপুর থেকে বারাকপুর পর্যন্ত ছ’টি বিধানসভা আসন রয়েছে। সেগুলির মধ্যে পাঁচটিই তৃণমূলের দখলে। ভাটপাড়া কেবল বিজেপির। ভাটপাড়া এবার দখল করতে মরিয়া তৃণমূল কংগ্রেস। অন্যদিকে বিজেপির দোর্দণ্ডপ্রতাপ নেতা অর্জুন সিং নিজে এবার নির্বাচনে লড়ছেন। এদিকে ভাটপাড়ার বিদায়ী বিজেপি বিধায়ক তথা এবারের প্রার্থী পবন সিংও মনে করেন, আসন ধরে রাখা বড় চ্যালেঞ্জ। তবে শেষপর্যন্ত বিজেপি জিতবে। তবে অর্জুন সিং দাবি করেছেন, শিল্পাঞ্চলে বিজেপি এবার ভালো ফল করবে। 

বারাকপুর কেন্দ্রে তৃণমূলের তারকা প্রার্থী চলচ্চিত্র পরিচালক রাজ চক্রবর্তী। গতবার বিপুল ভোটে তিনি জয়ী হয়েছিলেন। এবারও দল তাঁকে প্রার্থী করেছে। প্রচারেও ঝড় তুলেছেন রাজ। প্রার্থী জানিয়েছেন, এলাকার মানুষজন তাঁর পাশে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে রাজ্যে উন্নয়ন হয়েছে। বারাকপুরেও কাজ হয়েছে। তৃণমূল সরকারের হাত ধরে আগামী দিনেও আরও উন্নতি হবে। শেষ রবিবারের প্রচারে বারাকপুরে রাজ চক্রবর্তীর হয়ে রোড শো করেন স্ত্রী শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়। লালকুঠি থেকে মাধব নিবাস রুটে শুরু থেকেই মহিলা সমর্থকদের ভিড় নজরে পড়ে। রাজারহাট-গোপালপুর কেন্দ্রেও জোর প্রচার করেছেন গায়িকা তথা বিদায়ী বিধায়ক অদিতি মুন্সি। এবারও মানুষ তাঁকে সমর্থন করবেন। এমনই বিশ্বাস অদিতির। ওই কেন্দ্রে বিজেপির তেমন সংগঠন নেই। এমনই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। 

West Bengal Assembly Election: north 24 parganas barrackpur barasat election scenario
রাজের প্রচারে শুভশ্রীর রোড শো।

বরানগর কেন্দ্রে তৃণমূলের প্রার্থী সায়ন্তিকা ঘোষ। ওই কেন্দ্রে বিজেপি সজল ঘোষকে প্রার্থী করেছে। প্রসঙ্গত, গত বিধানসভা উপনির্বাচনে সায়ন্তিকা ও সজল ওই কেন্দ্রেই লড়াই করেছিলেন। সায়ন্তিকার কাছে সজল পরাজিত হন। কিন্তু এবার তিনি জিতবেন। মাটি কামড়ে প্রচারের ফাঁকে সেই কথাই বলেন বিজেপি প্রার্থী। যদিও সায়ন্তিকার দাবি, বিজেপিকে বাংলার মানুষ চায় না। বিজেপি এবারও এই কেন্দ্রে জিতবে না। তবে রাজনৈতিক মহলের মত, বরানগরে এবার হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। তুল্যমূল্য বিচারে রয়েছেন দুই প্রার্থী।

এবারের ফল কী হবে? মহিলা ভোটব্যাঙ্ক কার দিকে ঝুঁকবে? সিপিএম কি নিজের ভোটব্যাঙ্ক বাড়িয়ে খাতা খুলতে পারবে? শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস কি নিজের গড় ধরে রাখতে পারবে? সেই প্রশ্ন জোর চর্চায়।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.