২৬ আষাঢ়  ১৪২৭  শনিবার ১১ জুলাই ২০২০ 

Advertisement

ফ্লয়েড হত্যাকাণ্ডে প্রতিবাদের মাঝেই ফের নির্যাতন আমেরিকায়, পুলিশের মারে রক্তাক্ত বৃদ্ধ

Published by: Sucheta Sengupta |    Posted: June 5, 2020 4:24 pm|    Updated: June 5, 2020 4:24 pm

An Images

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: মিনিয়াপোলিসের রাস্তায় কৃষ্ণাঙ্গ যুবক জর্জ ফ্লয়েডকে হাঁটু দিয়ে চেপে শ্বেতাঙ্গ পুলিশদের শ্বাসরোধ করে খুনের ঘটনায় এখনও জ্বলছে গোটা আমেরিকা। তোয়াক্কা নেই মার্কিন পুলিশের। বেলাগাম তাদের নৃশংস আচরণ। নিউ ইয়র্কের রাস্তায় বছর পঁচাত্তরের এক ব্যক্তিকে রাস্তায় ফেলে মারধর করতে দেখা গেল পুলিশকে। রক্তাক্ত ওই ব্যক্তির উপর এমন হামলার ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ্যে আসতেই অবশ্য ২ পুলিশকর্মীকে সাসপেন্ড করা হয়েছে।

সপ্তাহ খানেক আগে জর্জ ফ্লয়েডের হত্যাকাণ্ডের জেরে ফের মার্কিন মুলুকে উসকে উঠেছে বর্ণবিদ্বেষ বিরোধী বিদ্রোহ। গণরোষে হোয়াইট হাউস পর্যন্ত থরথর করে কাঁপছে। স্বয়ং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে পর্যন্ত বাঙ্কারেরল গোপন আশ্রয় যেতে হয়েছিল। তবে বিক্ষোভ দমনে পথে পুলিশ নামিয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল করেছেন প্রেসিডেন্ট। পুলিশের অত্যাচার যত বাড়ছে, বিদ্রোহের আঁচ ছড়াচ্ছে আরও বেশি।

[আরও পড়ুন: ফ্লয়েড হত্যার বিরুদ্ধে সরব ট্রাম্পকন্যা, মুখ পুড়ল মার্কিন প্রেসিডেন্টের]

এমনই পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার ঘটে গেল আরেকটা ঘটনা। নিউ ইয়র্কের বাফেলো শহরে ওইদিন বিকেল নাগাদ বছর পঁচাত্তরের এক বৃদ্ধ বেরিয়েছিলেন হাঁটতে। এই শহরেও রাস্তাঘাটে বিক্ষোভের উত্তাপ ছড়িয়েছে। তবে সেই বিক্ষোভে সেভাবে শামিল হননি বৃদ্ধ। তিনি নিজের মতোই ফুটপাথ ধরে হাঁটছিলেন। উলটোদিক থেকে কয়েকজন পুলিশ কর্মী এগিয়ে আসায় বৃদ্ধ তাঁদের নিজের অবস্থান বোঝাতে যান। কিন্তু কোনও কথা না শুনিয়ে সোজা প্রহারের পথে হাঁটে পুলিশকর্মীরা। সিমেন্ট বাঁধানো রাস্তায় ফেলে চলে ব্যাপক মারধর। বৃদ্ধের কান, কপাল থেকে রক্ত বেরতে থাকে। তিনি সেখানেই অচৈতন্য হয়ে পড়েন।

[আরও পড়ুন: গণতন্ত্রের ধাক্কায় কুপোকাত ট্রাম্প, উত্তাল ওয়াশিংটন ডিসি থেকে সরল ফৌজ]

বৃদ্ধকে অচৈতন্য হতে দেখে কিছুটা ঘাবড়ে যায় পুলিশ কর্মীরাও। কিন্তু তখন নিজেদের পিঠ বাঁচানোর দায়ে কোনওক্রমে অ্যাম্বুল্যান্সে খবর দেওয়ার পর অকুস্থল থেকে চম্পট দেয়। অ্যাম্বুল্যান্স বৃদ্ধকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভরতি করে। আপাতত তিনি স্থিতিশীল। তবে তাঁর উপর পুলিশের এমন নৃশংস আক্রমণের ভিডিও প্রকাশিত হওয়ার পর স্থানীয় প্রশাসনের আর হাত গুটিয়ে বসে থাকার উপায় ছিল না। বাফেলো শহরের মেয়র বায়রন ব্রাউনের কথায়, ”ভিডিওটি দেখে আমি চমকে উঠেছি। পুলিশের সঙ্গে এতবার আমি নিজে কথা বলার পরও এমন ঘটনা আমাকে খুবই আঘাত দিয়েছে।” নিউ ইয়র্কের গভর্নর অ্যান্ড্রু কুয়োমোও তীব্র নিন্দা জানিয়ে টুইট করেছেন। ঘটনার জেরে বাফেলোর রাস্তায় কর্তব্যরত দুই পুলিশকর্মীকে সাসপেন্ড করা হয়েছে।

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement