সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: লাদাখ (Ladakh) সীমান্তে অব্যাহত উত্তেজনা। কমার বদলে প্রতিনিয়ত বাড়ছে। মুখোমুখি দুই পরমাণু শক্তিধর দেশ ভারত ও চিনের সেনা। এই পরিস্থিতিতে মস্কোয় সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশন (Shanghai Cooperation Organisation) সামিটে যোগ দিতে গিয়েছেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকর (S Jayashankar)। বৃহস্পতিবার সেখানেই চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ওয়াইয়ের সঙ্গে একান্ত বৈঠকে বসলেন তিনি। এদিন সন্ধ্যে আটটা নাগাদ বৈঠকে বসেন দু’জনে।
[আরও পড়ুন: বিস্ফোরণে বিধ্বস্ত বেইরুট বন্দরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, ফের আতঙ্কে কাঁপল লেবানন]
এদিকে, বিগত এক সপ্তাহ ধরে প্যাংগং হ্রদের (Pangong Tso) দক্ষিণ পাড়ে ঢিল ছোঁড়া দূরত্বে মুখোমুখি দাঁড়িয়ে ভারত ও চিনের ফৌজ। গত মার্চ মাস থেকেই প্যাংগং হ্রদের উত্তর পাড়ে আগ্রাসন চালিয়ে আসছিল চিনা বাহিনী। ১৫ জুনের সংঘর্ষের পর দুই দেশের মধ্যে সেনা প্রত্যাহার নিয়ে বেশ কয়েক দফা আলোচনা হলেও কাজের কাজ কিছু হয়নি। প্রতিবারই ভারতের সঙ্গে বেইমানি করেছে লালফৌজ। বৈঠকের টেবিলে একরকম কথা আর বাস্তবে অন্যরকম কাজ, এটাই নীতি হয়ে দাঁড়িয়েছে চিনা বাহিনীর। এর মধ্যে আবার গত ২৯ এবং ৩০ আগস্ট চিনারা দক্ষিণ দিক থেকে ভারতীয় সীমান্তে ঢোকার চেষ্টা করেছিল। যা ভারত প্রতিহত করেছে। এই মুহূর্তে প্যাংগংয়ের দক্ষিণ উপকূলে ভারত রয়েছে অ্যাডভান্টেজে আর চিনারা উত্তর উপকূল দিয়ে হামলার ছক কষছে। সেজন্য রীতিমতো প্রস্তুতিও নিয়ে ফেলেছে চিনা সেনা। সূত্রের খবর, এই মুহূর্তে লাদাখ সীমান্তে প্রায় ৫০ হাজার লালফৌজ (PLA) মোতায়েন আছে। সেই সঙ্গে রয়েছে ট্যাঙ্ক, সাঁজোয়া গাড়ি-সহ যাবতীয় আধুনিক সমরসজ্জা। যা রীতিমতো চিন্তার বিষয় হলেও, ভারতীয় সেনা যে কোনও পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত।
[আরও পড়ুন: গণতন্ত্রের বিধান! সাংসদ পদে শপথগ্রহণ ফাঁসির সাজাপ্রাপ্ত হত্যাকারীর]
এর মধ্যেই এক সপ্তাহ আগে মস্কোতেই বৈঠকে বসেছিলেন ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং এবং চিনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী। কিন্তু সেই বৈঠকেও সুরাহা হয়নি। এদিকে, এদিন প্রথমে রুশ বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন জয়শংকর। তারপর বিদেশমন্ত্রকের তরফ থেকে বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়, বৈঠক ফলপ্রসূ হয়েছে। তবে চিনা বিদেশমন্ত্রকের সঙ্গে বৈঠকের আগেই সেদেশের সরকারি সংবাদপত্রে এই প্রসঙ্গে প্রচ্ছন্ন হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়। বলা হয়, এই বৈঠক ফলপ্রসূ না হলে পরিস্থিতি নাকি আরও ভয়ংকর হয়ে উঠবে। এখন দেখার বৈঠকের পর আগামিদিনে সীমান্ত সমস্যা মেটে না তা আরও জটিল হয়ে ওঠে?