১১ অগ্রহায়ণ  ১৪২৭  শনিবার ২৮ নভেম্বর ২০২০ 

Advertisement

তুর্কি হানাদার বাহিনীকে রুখতে চিরশত্রু আসাদের সঙ্গে হাত মেলাল কুর্দ বিদ্রোহীরা

Published by: Monishankar Choudhury |    Posted: October 16, 2019 8:27 am|    Updated: October 16, 2019 10:03 am

An Images

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: কুর্দদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে তুরস্কের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামল সিরিয়ার সরকারি সেনাবাহিনী। তুরস্কের বাহিনীর লাগাতার বোমাবর্ষণের মুখে কার্যত দিশাহারা হয়ে পড়েছিল কুর্দরা। গত এক দশক ধরে ইসলামিক স্টেটের বিরুদ্ধে লড়াই করে প্রচুর সৈন্য ক্ষয় হয়েছে কুর্দদের। এবার কুর্দদের বিরুদ্ধে বড় বিপদ হয়ে দেখা দিয়েছেন তুরস্কের কট্টর ইসলামপন্থী প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়িপ এরদোগান। তিনি কুর্দদের কবজায় থাকা সিরিয়ার বিশাল এলাকা দখল করতে পালটা সেনা অভিযানের নির্দেশ দিয়েছেন।

[আরও পড়ুন: জঙ্গিদের সাহায্য বন্ধ না করায় ‘আরও বেশি ধূসর’ তালিকাভুক্ত হতে পারে পাকিস্তান]

কুর্দদের হয়ে এ বার তাই তুরস্কের সঙ্গে মুখোমুখি হতে চলেছে সিরিয়ার সেনাবাহিনী। দামাস্কাসের সঙ্গে কুর্দদের চুক্তি হয়েছে, সিরিয়ার সেনারা তাদের রক্ষা করবে। এর বিনিময়ে তাদের দখলে থাকা শহরগুলির আধিপত্য সিরিয় প্রশাসনের হাতে তুলে দেবে তারা। রবিবার রাতেই সেই চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে বলে সূত্রের খবর। আর তার পরেই কুর্দদের দখলে থাকা এলাকাগুলিতে ঢুকতে শুরু করেছে সিরিয়ার সেনা। আমেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স জানিয়েছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতিমধ্যেই তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়িপ এরদোগানকে ফোন করে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার দাবি করেছেন। সূত্রের খবর, সিরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে তুরস্কের বিমান হামলা এবং স্থল অভিযানের পর কুর্দ বাহিনীর সঙ্গে প্রেসিডেন্ট বাশার-আল-আসাদের চুক্তির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সিরিয়ার সেনাবাহিনী মানবিজ শহরে বিশাল সেনা শিবির করেছে। তুরস্কের সীমান্তে পজিশন নিয়েছে সিরিয়ার সেনা ট্যাঙ্ক ও সাঁজোয়া গাড়িগুলি।

রাশিয়ার সমর্থনপুষ্ট সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার-আল-আসাদ ২০১২ সালের পর এই অঞ্চলে সেনা পাঠিয়েছেন। অন্যদিকে তুর্কি প্রেসিডেন্ট এরদোগান অধিকৃত অঞ্চলগুলোকে সন্ত্রাসমুক্ত করে তা জমির মালিকের কাছে হস্তান্তরের দাবি করেছেন। মানবিজ শহর কুর্দমুক্ত করার ঘোষণা করেন তিনি। যদিও সেই দাবি উড়িয়ে দিয়েছে সিরিয়া ও কুর্দরা।

কুর্দদের উপর হামলার কারণে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলি ন্যাটো সদস্য তুরস্কের প্রতি নিন্দা জানানোর পাশাপাশি পণ্য রপ্তানি কমিয়ে দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছে। অন্যদিকে তুরস্ক থেকে প্যাট্রিয়ট মিসাইল ব্যাটারি প্রত্যাহারের হুমকি দিয়েছে স্পেন। গত সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট সিরিয়া থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণার পর তুরস্ক সিরিয়ায় শরণার্থীদের জন্য নিরাপদে আশ্রয় দেওয়া শুরু করে। তুরস্ক গত চার দিন ধরে টানা গোলাবর্ষণ করে চলেছে। যুদ্ধবিমান নিয়মিত এসে বোমা ফেলে গিয়েছে সিরীয় সীমান্তে কুর্দ দখলে থাকা এলাকায়। সেই চাপে, কার্যত অসহায় হয়ে কুর্দ নেতারা সিরীয় প্রশাসনের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরে বাধ্য হয়েছেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, নয় বছর ধরে চলতে থাকা সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে এর পর নতুন জটিলতা তৈরি হচ্ছে। ভারত সরকার আগেই তুরস্কের বিরুদ্ধে সিরিয়াকে সমর্থন জানিয়েছে। কারণ তুরস্ক এতদিন ধরে কাশ্মীর ইস্যুতে আগ বাড়িয়ে ভারতের বিরুদ্ধে পাকিস্তানকে সমর্থন জানিয়েছে। তার বদলা নিতেই ভারতও সিরিয়া এবং কুর্দদের সমর্থন করেছে।

[আরও পড়ুন: বাঙালির বিশ্বজয়, অমর্ত্য সেনের পর ফের অর্থনীতিতে নোবেল অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের]

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement