দক্ষিণ কোরিয়ার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলের বিপদ আরও বাড়ল। উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ বাঁধানোর ষড়যন্ত্রে অভিযুক্ত ইউলকে ৩০ বছরের কারাদণ্ড দিল সেখানকার আদালত। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, ২০২৪ সালে দেশেজুড়ে মার্শাল ল ঘোষণার পাশাপাশি উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়ার যুদ্ধ বাঁধাতে কিমের দেশে ড্রোন পাঠিয়েছিলেন ইওল। এই ঘটনায় দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়।
শুক্রবার আদালতের তরফে রায় ঘোষণার সময় বলা হয়, ইওল উত্তর কোরিয়ায় ড্রোন পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন। যার উদ্দেশ্য ছিল, দুই দেশের নিরাপত্তাজনিত সমস্যা তৈরি করে এক রাজনৈতিক সংকটের মধ্যে নিয়ে যাওয়া, যাতে দেশে সামরিক আইন লাগু করার পরিস্থিতি তৈরি হয়। যা ক্ষমতার অপব্যবহার ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার সামিল। যদিও ইওল যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি দেশবিরোধী কোনও পদক্ষেপ করেননি। তবে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় প্রাক্তন প্রেসিডেন্টকে ৩০ বছরের কারাদণ্ড দেয় আদালত। এর আগে কোরিয়ার একটি আদালত সামরিক আইন জারি ও বিদ্রোহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের জন্য ইউলকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছিল।
আরও পড়ুন:
ইওল যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি দেশবিরোধী কোনও পদক্ষেপ করেননি। তবে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় প্রাক্তন প্রেসিডেন্টকে ৩০ বছরের কারাদণ্ড দেয় আদালত।
প্রাক্তন প্রেসিডেন্টের সাজা ঘোষণার পর বর্তমান প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং বলেন, ‘উনি যে কাণ্ড করেছিলেন তার কোনও প্রয়োজন ছিল না। এই ধরনের অপ্রয়োজনীয় সামরিক উত্তেজনা দেশের অর্থনীতির বিপুল ক্ষতি করে। তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে, উনি দায়িত্বে থাকাকালীন উত্তর কোরিয়ায় ড্রোন মোতায়েন করা হয়েছিল।’ এদিকে এই ইস্যুতে মুখ খুলেছে উত্তর কোরিয়াও। প্রেসিডেন্ট কিম জং উনের বোন কিম ইয়ো জং দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের বিবৃতিকে ‘বিচক্ষণ’ বলে উল্লেখ করেছেন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে নিজের দেশেই মার্শাল ল জারি করার ব্যর্থ চেষ্টা করেন ইওল। এরপরেই তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারিতেও বাধা দেন তিনি। যার জেরে তাঁকে প্রেসিডেন্টের পদ থেকে ইমপিচ করা হয়। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে আচমকা জারি করা মার্শাল লয়ের প্রভাব পড়ে দেশজুড়ে। এর বিরুদ্ধে পথে নামে দেশের সাধারণ মানুষ। মাত্র ছয় ঘণ্টার মধ্যে আইন বাতিল করতে বাধ্য হন ইউল। আইনপ্রণেতারা সর্বসম্মতিক্রমে সামরিক আইন প্রত্যাহারের পক্ষে ভোট দেন। ফলস্বরূপ জরুরি অবস্থা জারি করা হয়। তবে, এই ঘটনা দেশে একটি রাজনৈতিক সংকট সৃষ্টি করে। জানা যায়, উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে যুদ্ধেও লিপ্ত হতে চেয়েছিলেন ইওল। সামরিক আইন জারির জন্য বেশ কয়েকজন সামরিক কর্মকর্তাকেও দোষী সাব্যস্ত করা হয়।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
কলকাতায় হরিহরণের ‘উস্তাদ-এ-গজল’, সঙ্গীত জীবনের ৫০ বছর পূর্তিতে বিশেষ মেহফিল
-
আকাশছোঁয়া টিকিটমূল্য, বিশ্বকাপের ম্যাচে ফাঁকা স্টেডিয়াম, ‘ব্যর্থতা’ মানতে নারাজ ফিফা
-
মেসি গোল দিলেই ভক্তদের বিনামূল্যে বই! বিশ্বকাপ জ্বরে অভিনব ঘোষণা কলেজ স্ট্রিটের প্রকাশকের
-
ক্রমশ বিপদ বাড়ছে অভিষেকের, এবার ডিজে মন্তব্য মামলায় বাড়িতে সিআইডি
-
প্রেমের প্রস্তাবে ‘না’, চলন্ত বাসে কিশোরীর গলা কেটে খুন, কাটোয়ায় যুবকের যাবজ্জীবন