৩০ আশ্বিন  ১৪২৬  শুক্রবার ১৮ অক্টোবর ২০১৯ 

Menu Logo পুজো ২০১৯ মহানগর রাজ্য দেশ ওপার বাংলা বিদেশ খেলা বিনোদন লাইফস্টাইল এছাড়াও বাঁকা কথা ফটো গ্যালারি ভিডিও গ্যালারি ই-পেপার

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ঝাঁ চকচকে মার্বেল মেঝের উপর হাই হিলের টকাটক শব্দ। পরনে পশ্চিমী ট্রাউজার্স, টপ আর ব্লেজার সদৃশ লাল রঙের একটা পোশাক, ফ্যাশন দুনিয়ায় যা আবায়া রোব বলে পরিচিত। খোলা বাদামি কেশরাশি ফুলিয়ে সিংহীর মতো যাচ্ছেন তিনি। না, সেলিব্রিটি কেউ নন। আবার অন্যদিক থেকে দেখলে, ইনি সেলিব্রিটিও। এই তরুণীই আরব দুনিয়ায় এনেছেন পোশাক বিপ্লব। পর্দানসীন মহিলামহলে খোলা হাওয়া নিয়ে এসেছেন সৌদি আরবের বছর তেত্রিশের মশিল-আল-জালোদ। সাদা-কালোর বোরখা, হিজাবের জায়গায় তিনি একেবারে রঙিন, পশ্চিমী পোশাকের ছোঁয়া।

[আরও পড়ুন: নীরব মোদির ভাই নেহালের বিরুদ্ধে রেড কর্নার নোটিস ইন্টারপোলের]

মশিল-আল-জালোদ। পেশায় তিনি মানবসম্পদ উন্নয়ন আধিকারিক। সম্প্রতি তিনি নারী স্বাধীনতার নিয়ে নিজের মতো করে আন্দোলনে নেমেছেন। হিজাব, বোরখা ছেড়ে শার্ট, ট্রাউজার্সেই তিনি রিয়াধের রাস্তায় নেমেছেন, অফিস যাচ্ছেন। আপাদমস্তক হিজাব পরিহিতা মহিলাদের মাঝে তিনিই ব্যতিক্রম। তাই রাস্তায় বেরলেই, সমস্ত আকর্ষণ কাড়েন জালোদ। অনেকে ডেকে জিজ্ঞেস করেন, ‘আপনি কি মডেল? নাকি বিখ্যাত কেউ?’ তাতে নির্মল হাসিতে ফেটে পড়ে জালোদ উত্তর দেন, ‘না, আমি সাধারণ সৌদি মহিলা।কিন্তু আমি স্বাধীনভাবে বাঁচতে চাই।কোনও নিষেধাজ্ঞা ছাড়া।আমি কী পরব না পর, তা কেউ ঠিক করে দিতে পারে না।’ এই ভাবনাতেই সাধারণের মাঝে তিনি অসাধারণ, ব্যতিক্রমী। তবে এসবের জন্য তাঁকে একাধিকবার হুমকির মুখেও পড়তে হয়েছে। পিছিয়ে যাননি জালোদ।

saudi-lady2
জালোদকে দেখে অনেক সৌদি মহিলাই এগিয়ে আসছেন পোশাক বিপ্লবে অংশ নিতে। তবে তাঁর মতো হয়ত এতটা আধুনিক পোশাক পরছেন না কেউ। তবে অন্যরকম পোশাকেও বেরচ্ছেন বাইরে। সেসব ছবি আবার সাহস করে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্টও করছেন। শুধু কি তাই? রূপচর্চাতেও আধুনিকতার ছোঁয়া লেগেছে নারীর জীবনে। বাড়ির বাইরে বেরিয়ে পার্লারে যাতায়াতও বেড়েছে।

[আরও পড়ুন: জঙ্গি তৈরিতে খরচ ৭ লক্ষ কোটিরও বেশি, অকপট স্বীকারোক্তি ইমরানের]

আসলে ইসলাম অধ্যুষিত মরু দেশটিতে সমাজ যতই গোঁড়ামি আঁকড়ে থাকুক না কেন, অন্তর থেকে মুক্ত চেয়েই নারীরা এভাবে এগিয়ে আসছেন। এতদিনের চাপিয়ে দেওয়া নিয়মের শিকল ভেঙে বেরিয়ে আসতে চাইছেন। যা অক্ষরে অক্ষরে বুঝে গিয়েছেন সৌদি যুবরাজ স্বয়ং। মহম্মদ বিন সলমন তাই আগেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে মহিলাদের হিজাব, বোরখা বাধ্যতামূলক আর রাখবেন না। এটুকু আশ্বাসেই ভরসা করে এগিয়ে এসেছেন জালোদ এবং তাঁর মতো আরও অনেকে। এভাবেই পোশাক বিপ্লবের মধ্যে দিয়ে ধীরে ধীরে নিজেদের জীবনযাত্রা পালটে ফেলতে চাইছে সৌদি নারীকুল।

আরও পড়ুন

আরও পড়ুন

ট্রেন্ডিং