মহাজোট তুলে ধরতে গিয়েও ধাক্কা, রাহুলের ডাকা ইফতারে নেই দুঁদে নেতারা

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: বিরোধীদের মহাজোট তুলে ধরে বিজেপির সামনে আয়না ধরতে চেয়েছিলেন কংগ্রেস সভাপতি। দিল্লিতে তাই ডাক দিয়েছিলেন ইফতার পার্টির। কিন্তু ‘কাঁচা’ রাজনীতিককে ফের ধাক্কাই খেতে হল। কেননা ইফতারে হাজির হলেন না ‘দুঁদে’রা। ফলে বিরোধী ঐক্যের প্রদর্শন করতে গিয়ে খানিকটা হেয় হতে হল রাহুল গান্ধীকে।

[  কেন্দ্রের উদ্বেগ বাড়িয়ে গত চার মাসে সর্বোচ্চ মুদ্রাস্ফীতির হার ]

বুধবারই মহাজোটের পক্ষে সওয়াল করেন রাহুল। বলেন প্রধানমন্ত্রী যেভাবে দেশের সংবিধানকে আক্রমণ করছেন, তা মানুষ ভালভাবে নিচ্ছে না। বিরোধীদের যে মহাজোট তৈরি হচ্ছে তা মানুষের স্বাভাবিক আবেগের প্রকাশ। বললেন বটে, কিন্তু জোটের ঐক্যের ছবি তুলে ধরতে পারলেন কই! ইফতার পার্টির জন্য দেশের প্রায় সব বিরোধী নেতাকেই ডাক পাঠিয়েছিলেন রাহুল। আমন্ত্রিতদের তালিকায় ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, মায়াবতী, অখিলেশ যাদব, সীতারাম ইয়েচুরি, শরদ যাদব প্রমুখ নেতারা। আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছিলেন প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়, উপরাষ্ট্রপতি হামিদ আনসারির মতো বিশিষ্টরা। মনে করা হচ্ছিল এই মঞ্চ থেকেই বিরোধী মহাজোটের পূর্ণাঙ্গ রূপটি সকলের সামনে তুলে ধরবেন তিনি। পাশাপাশি বিরোধীদের মধ্যে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে যে ধোঁয়াশা আছে তাও কাটিয়ে দেবেন। কিন্তু বাস্তবের মঞ্চে রাহুলের উদ্যোগ কার্যত ‘ফ্লপ শো’। জানা যাচ্ছে ব্যক্তিগত কারণের জন্য রাহুলের ইফতারে যেতে পারছেন না মমতা, মায়াবতী। অন্যদিকে অখিলেশ যাদব বা কুমারস্বামীর মতো নেতারাও থাকছেন না বলেই খবর। প্রত্যেকেই লৌকিকতার খাতিরে পাঠিয়েছেন নিজেদের প্রতিনিধিদের।

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মত, প্রত্যেকেই ব্যক্তিগত কারণ দেখালেও, আঞ্চলিক দলগুলির রাহুল অনীহা এতে স্পষ্ট হল। এদিকে আঞ্চলিক দলগুলির হাতে হাত রাখলেই যে বিজেপিকে ধাক্কা দেওয়া সম্ভব, উপনির্বাচনগুলির ফলাফলে তা স্পষ্ট। কিন্তু যে ফেডারেল ফ্রন্ট তৈরি হওয়ার কথা, তাতে কংগ্রেসের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে অনেকেই সন্দিহান। কাংগ্রেসের মতো জাতীয় দলের উপস্থিতি মানেই আঞ্চলিক দলের প্রভাব ক্ষুণ্ণ হওয়া। এবারের কর্ণাটক নির্বাচনে অবশ্য তার ব্যতিক্রম দেখা গিয়েছে। কিন্তু সাধারণ নির্বাচনেও যে তেমনটা হবে এর কোনও মানে নেই। ফলে রাহুলের বিরোধী মঞ্চে দাঁড়ানোর আগে ধরি মাছ না ছুঁই পানি পন্থা অবলন্বন করলেন অনেকেই, মত বিশেষজ্ঞদের। এরপরও কি রাহুল আঞ্চলিক দলগুলির উপর ভরসা করবেন? নাকি নির্বাচনে ‘একলা চলো’র সিদ্ধান্ত নেবেন? আপাতত সময়ের হাতেই তোলা সে উত্তর।

[  ‘জয় শ্রী রাম’ না বলায় ইমামকে মারধর, তদন্তে পুলিশ ]

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *