এ যেন মরণবাঁচনের খেলা! প্রতিকূল আবহাওয়ার মাঝে দুর্গম পর্বতশৃঙ্গে উঠতে গিয়ে মৃত্যুবরণ করতে হল বাংলার তরুণ পর্বতারোহী ধ্রুবজ্যোতি গুহকে। কিন্তু ঠিক চার বছর আগে এই একই জায়গা অর্থাৎ নেপালের মানাসলু অভিযানে তুমুল তুষারঝড়ের মুখে পড়েও প্রাণে বেঁচে ফিরেছিলেন এলাকার আরেক আরোহী প্রশান্ত সিংহ। ভাগ্য সহায় ছিল তাঁর! আজ সেই কৃষ্ণনগরের বাসিন্দা, সতীর্থ ধ্রুবজ্যোতির মৃত্যুসংবাদ শুনে ভেঙে পড়েছেন প্রশান্ত। স্মরণ করেছেন নিজের সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথাও।
আরও পড়ুন:
২০২২ সালের সেপ্টেম্বর মাস। বিশ্বের অষ্টম উচ্চতম শৃঙ্গ নেপালের মানাসলু অভিযানে গিয়েছিলেন কৃষ্ণনগরের স্কুলশিক্ষক তথা পর্বতারোহী প্রশান্ত সিংহ। বসন্ত সিংহ রায়ের নেতৃত্বে ছ’জনের দলে ছিলেন তিনি। প্রশান্তবাবু জানান, অভিযানের সময় তীব্র তুষারপাত ও তুষারধসের কবলে পড়েন তাঁরা। ক্যাম্প ২ থেকে ক্যাম্প ৩-এর মধ্যবর্তী এলাকায় সেই দুর্যোগে দলের তিন শেরপার মৃত্যুও হয়।কিন্তু সময়মতো হেলিকপ্টার তাঁদের উদ্ধার করায় প্রাণে বাঁচেন তাঁরা। তুষারধসের পর তাঁদের তাঁবু এবং গ্যাস সিলিন্ডার খুঁজে পাওয়া যায়নি। বাধ্য হয়ে অভিযান স্থগিত রেখে ফিরে আসতে শুরু করে প্রশান্তদের দল। তিনি জানান, সেই সময় দলের সদস্যরা প্রায় গলা কিংবা কোমর পর্যন্ত বরফে ঢুকে গিয়েছিলেন। কোনও রকমে সেবার বেঁচে ফেরেন।পরবর্তী সময়ে প্রশান্ত সিংহ এবং দলের আরেক সদস্য রুম্পা দাস ফের অভিযানে যান। ক্যাম্প ৩ থেকে ক্যাম্প ৪-এর মাঝেও তুষারধস নামে। তাঁরা বেঁচে গেলেও অন্য একটি দলের এক শেরপার মৃত্যু হয়।

ধ্রুবজ্যোতির সঙ্গে প্রশান্তবাবুর পরিচয় অবশ্য তারও আগে। ২০১৫ সালে দার্জিলিংয়ের হিমালয়ান মাউন্টেনিয়ারিং ইনস্টিটিউট (এইচএমআই)-এ ২৮ দিনের প্রশিক্ষণে দু’জনে একই দলের সদস্য ছিলেন। একই রোপমেট হিসেবে দড়িতে বাঁধা অবস্থায় প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন তাঁরা। পেশাগত কারণে ধ্রুবজ্যোতি জার্মানিতে থাকলেও কৃষ্ণনগরে ফিরলে প্রশান্তবাবুর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ হত। কৃষ্ণনগরে এলে গভর্নমেন্ট কলেজের মাঠে দৌড়তে যেতেন ধ্রুবজ্যোতি। সেসময় ফোন করে প্রশান্তকে ডেকে নিয়ে দু’জনে গল্প করতেন। বেশি আলোচনা হতো পাহাড় নিয়ে। ধ্রুবজ্যোতির মৃত্যুতে শোকাহত প্রশান্তবাবু বলেন, ‘‘ছেলেটা খুবই ভাল ছিল। মানসিকতার দিক থেকে এবং সবদিক থেকে। খুব জেদি, অ্যাডভেঞ্চারপ্রিয় ছেলে ছিল। আমরা ওকে হারালাম।’’

বামুনপুকুর হাইস্কুলের ভূগোলের শিক্ষক তথা পর্বতারোহী প্রশান্তবাবু মাউন্ট গোরিচেন, রামঝাক শৃঙ্গ ও ব্ল্যাক পিক অভিযান করেছেন সফলভাবে। সাম্প্রতিক অভিযান নিয়ে তাঁর বক্তব্য, ‘‘প্রকৃতি কখনও বলে-কয়ে দুর্যোগ আনে না। তবে মানাসলু যাওয়ার পথে ক্যাম্প ৩ থেকে ক্যাম্প ৪-এর মাঝের যে ওয়াল, সেখান থেকে তুষারধস নামছে। আগামী দিনে যাঁরা যাবেন, তাঁদের এই জায়গা নিয়ে আরও সতর্ক হতে হবে।’’ মানাসলুর মতো দুর্গম শৃঙ্গে অভিযানের ক্ষেত্রে আবহাওয়ার পরিবর্তনকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলছেন তিনি। প্রশান্তবাবুর মতে, বেস ক্যাম্পেও তুষারধস নামার ঘটনা উদ্বেগের। হিমবাহ গলে যাওয়া ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এমনটা ঘটছে বলে মনে করছেন তিনি।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
‘যে ব্যাট করবে, সেই যদি আম্পায়ার ঠিক করে…’, নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ নিয়ে মুখ খুলল সুপ্রিম কোর্ট
-
ঘরে বউ রেখে গোপনে ‘প্রেমিকা’ কোমলরানিকে বিয়ে গোবিন্দার! স্ত্রী সুনীতার খোঁচা, ‘পশুদেরও অধম’
-
রাষ্ট্রসংঘে তোতাপাখির ভিড়, সকলের মুখে এক বুলি! ভিডিও পোস্টে আন্তর্জাতিক মঞ্চকে কটাক্ষ ইজরায়েলের
-
কেন আইএসএফের প্রতীক খাম হাতছাড়া? কমিশনের কাছে রিপোর্ট তলব হাই কোর্টের
-
মেরুকরণ হলেই সম্ভব! উত্তরপ্রদেশের ছকে রেজিনগর জয়ের অঙ্ক বিজেপির