দু’ চাকার গাড়ি, এমনকি ফ্রিজ থাকলেও বন্ধ হয়ে যাবে রেশন! সোশাল মিডিয়া এনিয়ে জোর গুঞ্জন, নেটিজেনদের টেনশন। এনিয়ে আলোচনাকে স্রেফ ‘ভাঁওতাবাজি’ ও ‘গুজব’ বলে জানালেন রাজ্যের খাদ্য ও সরবরাহ বিভাগের মন্ত্রী অশোক কীর্তনীয়া। শনিবার আচমকা তিনি জঙ্গলমহল পুরুলিয়ায় ‘সারপ্রাইজ ভিজিট’ করেন। সেখানে জানান, ‘‘কারা গণবণ্টনের সুবিধা পাবেন সে বিষয়টি এখনও চূড়ান্ত হয়নি। খুব শীঘ্রই দপ্তর একটি এসওপি বার করবে। যেসব কথা বলা হচ্ছে তা ভাঁওতাবাজি, গুজব। সেই সঙ্গে সরকারকে বদনাম করার চেষ্টা।” তবে যারা সরকারি পদে চাকরি করেন, তাঁদের প্রতি খাদ্যমন্ত্রীর আহ্বান, যেমনভাবে অবস্থাপন্ন মানুষজন গ্যাসের ভর্তুকি থেকে বেরিয়ে গিয়েছেন। তেমনই সরকারি চাকরি করেন এমন মানুষজনকে দেশ, রাজ্য ও উন্নয়নের স্বার্থে রেশন ব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।
আরও পড়ুন:
এদিন আচমকা পরিদর্শনে পুরুলিয়া শহরে পুরুলিয়া ১ ব্লকের জন্য খাদ্য পরিবেষক পি ডি ঝুনঝুনওয়ালা
এমআর ডিস্ট্রিবিউটরের কাছে গিয়ে রেশনের চাল নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন খাদ্যমন্ত্রী। সেই চালের নমুনা সংগ্রহ করে তার মান পরীক্ষা বা কোয়ালিটি টেস্টের জন্য পাঠান। যতদিন না রিপোর্ট আসবে ওই চাল সরবরাহ না করার নির্দেশ দিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী। বিগত সরকারের আমলে ধানের প্রক্রিয়াকরণে যারা অ্যাকাউন্ট ভাড়া দিয়েছিলেন, তারাও আইনের আওতায় আসবেন বলে এদিন সাফ জানিয়ে দেন তিনি। ইতিমধ্যেই উত্তর চব্বিশ পরগনা ও বর্ধমানের খাদ্যশস্যের মান কেমন, তা ঘুরে দেখার পর শুক্রবার রাতে তিনি পুরুলিয়া আসেন। রবিবার তাঁর সারপ্রাইজ ভিজিট রয়েছে বীরভূমে।
শুধু পরিবেশক বা রেশন ডিলারের কাছে গিয়ে রেশনের চাল-গমের গুণগত মান নয়। কুড়মি ও আদিবাসী অধ্যুষিত গ্রামগুলিতে একেবারে ঘরে ঘরে গিয়ে চাল এবং গমের নমুনা দেখেন। তাঁরাই খাদ্যমন্ত্রীকে জানান, চাল ও গমের মান ভীষণই ভালো। আগে চালের মান খারাপ ছিল, আটা খাওয়া যেত না। হাঁস-মুরগি-গরু- ছাগলকে খাইয়ে দিতে হতো।

এদিন পুঞ্চা ব্লকের পিঁড়রা গ্রাম পঞ্চায়েতের ওই গ্রামে গিয়ে কাশীনাথ গঙ্গোপাধ্যায় নামে এক উপভোক্তার বাড়িতে যান মন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘‘এখন চাল বেশ ভালো। আগে আটা খাওয়া যেত না। হাঁস-মুরগিকে খাইয়ে দিতে হতো। এখন আমরা যে গম পাচ্ছি তার গুণগত মান একেবারে সঠিক।” এরপর ওই গ্রাম সন্নিহিত পাঞ্জনগোড়া আদিবাসী গ্রামে যান মন্ত্রী। এখানেও একেবারে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ঘরের দাওয়াই বসে ফুলমনি মান্ডি, বাবুলাল হেমব্রম, চৌধুরি মুর্মুর মত রেশন উপভোক্তাদের সঙ্গে কথা বলেন। সকলেই জানান, “বর্তমানে যে চাল এবং গম দেওয়া হচ্ছে তা নিয়ে কোন প্রশ্ন নেই। সবই খুব ভালো ।”
একাধিক রেশন ডিলারের কাছে গিয়ে সেভাবে কোনও বেনিয়ম দেখেননি তিনি। তবে পুরুলিয়া শহরে পুরুলিয়া ১ ব্লকের জন্য পি ডি ঝুনঝুনওয়ালার গোডাউনে রেশনের চাল দেখে তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন। মন্ত্রী বলেন, ‘‘চালের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠাতে বলেছি। যতদিন না পরীক্ষার রিপোর্ট আসছে ততদিন ওই চাল সরবরাহ বন্ধ থাকবে।” এদিন বিভিন্ন রেশন ডিলারদের কাছে গিয়ে মন্ত্রী স্পষ্টভাবে জানান, রেশন পণ্য নিম্নমানের হলে তা নেবেন না। ফেরত দিয়ে দেবেন।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
ভক্তের লাইনে দীর্ঘ অপেক্ষার পর গণপতি দর্শন, চেক বাউন্সকাণ্ডে ‘পাপমোচন’ রাজপালের!
-
সরকারি কর্মীদের জন্য সুখবর! অক্টোবরে অগ্রিম বেতন, পাবেন বর্ধিত ডিএ
-
পুজোয় শাড়ির থেকেও নজর কাড়বে ব্লাউজ! ৫ অন্যধারার ডিজাইনে হয়ে উঠুন অনন্যা
-
‘শ্বাসরোধে’ই মৃত্যু নিঠারি কাণ্ডের সুরেন্দ্র কোলির, ময়নাতদন্তের রিপোর্টে খারিজ খুনের জল্পনা
-
ইস্টবেঙ্গলের জন্য সুখবর, ১০ দিনের মধ্যে শহরে এফিয়ং