উৎসব বা যে কোনও আনন্দ অনুষ্ঠানের সাজ মানেই নতুন পোশাক, গয়না, আর মেহেন্দিতে হাত রাঙানো। উৎসবের আগে তাই পার্লার থেকে রাস্তার স্টল, সর্বত্রই মেহেন্দির চাহিদা বাড়ে। বিশেষ করে গাঢ়, প্রায় কালো রঙের মেহেন্দি অনেকেরই পছন্দ। কম সময়ে রং গাঢ় হয়, দেখতেও নজরকাড়া।
আরও পড়ুন:
কিন্তু এই দ্রুত কালো হয়ে যাওয়া রঙের পিছনে সবসময় শুধুই প্রাকৃতিক হেনা থাকে না। ত্বক বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা, কিছু ‘ব্ল্যাক মেহেন্দি’ (Black Mehendi)-তে থাকা রাসায়নিক থেকে সংবেদনশীল ত্বকে দেখা দিতে পারে অ্যালার্জি, ফোসকা, এমনকী ত্বকের রঙেও দীর্ঘস্থায়ী পরিবর্তন।
আরও পড়ুন:
উৎসবের সাজে কালো মেহেন্দির টান
প্রাকৃতিক হেনার রং সাধারণত কমলা, লালচে-বাদামি থেকে গাঢ় বাদামি হয়। মেহেন্দি লাগানোর পর সময়ের সঙ্গে সঙ্গে রং আরও গাঢ় হতে থাকে। কিন্তু মেহেন্দি লাগানোর পর অস্বাভাবিক দ্রুত কালো হয়ে গেলে মেহেন্দির উপাদান সম্পর্কে সতর্ক হওয়া দরকার।
ত্বকরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, অস্বাভাবিক দ্রুত গাঢ় হয়ে যাওয়া মেহেন্দি দেখলে তার উপাদান সম্পর্কে খোঁজ নেওয়া জরুরি। কারণ কিছু ‘ব্ল্যাক মেহেন্দি’-তে দ্রুত গাঢ় রং পাওয়ার জন্য প্যারাফেনিলিনডায়ামিন (পিপিডি) থাকতে পারে।

কালো রঙের নেপথ্যে পিপিডি
পিপিডি মূলত হেয়ার ডাইয়ে ব্যবহৃত একটি রাসায়নিক। দ্রুত ও গাঢ় রং তৈরি করার ক্ষমতার কারণে কিছু পণ্যে এটি ব্যবহার করা হতে পারে। কিন্তু পিপিডি একটি পরিচিত ত্বক-সংবেদনশীল রাসায়নিক। সংবেদনশীল ত্বকের ক্ষেত্রে এর সংস্পর্শে অ্যালার্জিক কনট্যাক্ট ডার্মাটাইটিস হতে পারে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, এই প্রতিক্রিয়া সবসময় সঙ্গে সঙ্গে দেখা দেয় না। মেহেন্দি লাগানোর কয়েক ঘণ্টা পরে, এমনকী কয়েক দিন পরেও উপসর্গ শুরু হতে পারে।
চুলকানি থেকে ফোসকা
পিপিডি-যুক্ত মেহেন্দিতে অ্যালার্জি হলে মেহেন্দি লাগানো জায়গায় তীব্র চুলকানি, জ্বালা, লালচে ভাব, ফোলা বা ত্বকে জ্বালাপোড়া হতে পারে। কারও ক্ষেত্রে দেখা দিতে পারে ফোসকা, ত্বক থেকে জলের মতো তরল নিঃসরণ বা তীব্র প্রদাহ। গুরুতর প্রতিক্রিয়ায় চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে। প্রদাহ কমে যাওয়ার পরেও কিছু মানুষের ত্বকে সাময়িক বা দীর্ঘস্থায়ী রঙের পরিবর্তন দেখা দিতে পারে।
শিশু এবং যাঁদের ত্বক সংবেদনশীল, তাঁদের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। আগে হেয়ার ডাই, প্রসাধনী বা একই ধরনের কোনও পণ্যে অ্যালার্জি হয়ে থাকলেও মেহেন্দি ব্যবহারের ক্ষেত্রে সাবধান হওয়া জরুরি।
রং নয়, আগে নিরাপত্তা
পুজো, বিয়ে বা কোনও আনন্দ অনুষ্ঠানের আগে মেহেন্দি কেনার সময় শুধু কতটা কালো হবে বা কতক্ষণ রং থাকবে, তা দেখলেই চলবে না। মেহেন্দি যত দ্রুত কালো হয়ে যায়, তার উপাদান সম্পর্কে তত বেশি সতর্ক হওয়া দরকার। নির্ভরযোগ্য উৎসের পণ্য বেছে নিন এবং প্যাকেট বা পণ্যে উপাদানের তালিকা স্পষ্টভাবে দেওয়া আছে কি না দেখে নিন।

অজানা উৎসের মেহেন্দি, উপাদানবিহীন কোণ বা ‘ইনস্ট্যান্ট ব্ল্যাক’ রঙের প্রতিশ্রুতি দেওয়া পণ্য এড়িয়ে চলাই নিরাপদ। শুধু দেখতে কালো বলেই কোনও মেহেন্দি নিরাপদ, এমন নিশ্চয়তা নেই। বাড়িতে তৈরি হলেও উপাদানের পরিমাণ ও মিশ্রণ সম্পর্কে নিশ্চিত না হলে সেটিও ত্বকে ব্যবহার করা ঠিক নয়।
ত্বকে আগে থেকেই কাটা, ক্ষত, জ্বালা বা প্রদাহ থাকলে সেখানে মেহেন্দি লাগাবেন না। মেহেন্দি লাগানোর পর তীব্র চুলকানি, জ্বালা, ফোলা, লালচে ভাব বা ফোসকা দেখা দিলে বিষয়টি হালকা ভাবে নেবেন না। জায়গাটি আলতো করে ধুয়ে ফেলুন এবং প্রয়োজন হলে ত্বকরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। প্রতিক্রিয়া হওয়ার পরও একই পণ্য ব্যবহার করতে থাকলে ত্বকের প্রদাহ আরও বাড়তে পারে।
উৎসবের সাজে মেহেন্দির রং অবশ্যই নজর কাড়ুক। কিন্তু কয়েক দিনের গাঢ় রঙের জন্য এমন রাসায়নিকের ঝুঁকি নেওয়া ঠিক নয়, যার উপস্থিতি বা পরিমাণ সম্পর্কেই আপনি নিশ্চিত নন। উৎসবের আনন্দে হাত রাঙানোর আগে তাই মেহেন্দির রং নয়, তার নিরাপত্তার দিকটাও দেখুন। কারণ উৎসবের সাজ বদলে যাবে কয়েক দিনেই, কিন্তু ত্বকের অ্যালার্জির দাগ থেকে যেতে পারে দীর্ঘসময়।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
পরণে লাল বেনারসি, ছেলেমেয়ে নিয়ে মুর্শিদাবাদ থেকে জাপানে পাড়ি উমার
-
অ্যাজমা রোগীরা সাবধান! অক্টোবর পর্যন্ত থাকতে হবে সতর্ক, কেন জানেন?
-
মোদির জন্মদিনে অকাল দিওয়ালি, ৯ লক্ষ প্রদীপের বরাতে হাওড়ার স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের মুখে হাসি
-
গিলে খাচ্ছে ‘রাক্ষুসে’ গঙ্গা, মানুষ যেন জলের পোকা! ভূতনির চরে শুধুই হাহাকার
-
দলগত নয়, তাঁর একার সিদ্ধান্তেই ভারতে বিশ্বকাপ বয়কট বাংলাদেশের! স্বীকার করলেন ‘নাটের গুরু’