চুল পড়া কমাতে এবং মাথায় নতুন করে চুল গজাতে সোশাল মিডিয়ায় এখন বেশ জনপ্রিয় লেজার ক্যাপ (Hair Growth Laser Cap)। কেউ পরছেন লেজার হেলমেট, কেউ ব্যবহার করছেন রেড লাইট স্ক্যাল্প ডিভাইস। প্রচার দেখে মনে হতে পারে, মাথায় ক্যাপ পরলেই বুঝি পাতলা চুল ঘন হয়ে উঠবে। কিন্তু বিজ্ঞানের চোখে এই দাবি কতটা সত্যি? সত্যিই কি লেজার ক্যাপে ফিরতে পারে হারানো চুল?
বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্দিষ্ট ধরনের চুল পড়ার সমস্যায় এই প্রযুক্তি কিছুটা উপকার করতে পারে। তবে সব ধরনের চুল পড়ার চিকিৎসা করার ক্ষমতা লেজার ক্যাপের নেই।
আরও পড়ুন:
চুলের গোড়ায় আলো, কীভাবে কাজ করে?
লেজার হেয়ার-গ্রোথ ক্যাপে সাধারণত লো-লেভেল লেজার বা কম শক্তির আলো ব্যবহার করা হয়। এই পদ্ধতিকে লো-লেভেল লাইট থেরাপি (এলএলএলটি) বা রেড লাইট থেরাপি বলা হয়। নির্দিষ্ট তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলো মাথার ত্বকে প্রয়োগ করে চুলের গোড়ার কোষগুলির কার্যকলাপে প্রভাব ফেলার চেষ্টা করা হয়।
আরও পড়ুন:

ত্বকরোগ বিশেষজ্ঞদের কথায়, বংশগত চুল পড়া বা অ্যান্ড্রোজেনেটিক অ্যালোপেশিয়ার ক্ষেত্রে এই ধরনের থেরাপি কিছু মানুষের চুলের ঘনত্ব বাড়াতে সাহায্য করতে পারে। এতে চুলের গোড়ার কোষগুলির কার্যকলাপে পরিবর্তন ঘটানোই এই পদ্ধতির সম্ভাব্য কার্যপ্রক্রিয়ার অন্যতম ব্যাখ্যা। স্থানীয় রক্তসঞ্চালন এবং চুলের বৃদ্ধির চক্রের উপরও এর প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করা হয়। তবে এর সঠিক জৈবিক কার্যপ্রক্রিয়া এখনও গবেষণাধীন।
টাক পড়া মাথায় কি ফিরবে চুল?
লেজার ক্যাপ নিয়ে সবচেয়ে বড় প্রশ্নের উত্তর হল, কিছু মানুষের ক্ষেত্রে উপকার মিলতে পারে, কিন্তু এটি কোনও অলৌকিক চিকিৎসা নয়। বিভিন্ন ক্লিনিক্যাল গবেষণায় দেখা গিয়েছে, প্যাটার্ন হেয়ার লসের ক্ষেত্রে লো-লেভেল লাইট থেরাপি ব্যবহার করে কিছু মানুষের চুলের ঘনত্বে উন্নতি হতে পারে। তবে প্রত্যেকের ক্ষেত্রে ফল এক রকম হয় না।
এ ক্ষেত্রে চুলের গোড়ার অবস্থা গুরুত্বপূর্ণ। যে ফলিকলগুলি এখনও সক্রিয়, কিন্তু সেখান থেকে পাতলা বা দুর্বল চুল গজাচ্ছে, আলো-নির্ভর থেরাপি সেগুলির কার্যকারিতা বজায় রাখতে সাহায্য করতে পারে। কিন্তু কোনও ফলিকল স্থায়ীভাবে নষ্ট হয়ে গেলে সেখান থেকে ফের চুল গজানোর নিশ্চয়তা দিতে পারে না এই প্রযুক্তি। তাই লেজার ক্যাপকে চুল পড়ার একমাত্র সমাধান না ভেবে, প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসার একটি সম্ভাব্য অংশ হিসেবে দেখা উচিত।

ফল পেতে কতটা সময় লাগে?
ক্যাপ পরলেই কয়েক দিন বা কয়েক সপ্তাহের মধ্যে মাথা ভরে যাবে চুলে, এমন ধারণা ঠিক নয়। চুল গজানো ধীরগতির জৈবিক প্রক্রিয়া। ফলে এই ধরনের থেরাপিতে কোনও উন্নতি হলে তা সাধারণত কয়েক মাস সময় নিয়ে দেখা দিতে পারে।
নিয়মিত ব্যবহারও গুরুত্বপূর্ণ। প্রস্তুতকারকের নির্দেশ অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময় অন্তর ডিভাইসটি ব্যবহার করতে হয়। অনিয়মিত ব্যবহার করলে কাঙ্ক্ষিত উপকার পাওয়ার সম্ভাবনা কমতে পারে। চুল পড়ার কারণ ও তীব্রতা, বয়স, জিনগত বৈশিষ্ট্য এবং মাথার ত্বক ও চুলের গোড়ার স্বাস্থ্যের উপরও ফলাফল নির্ভর করে।

সব চুল পড়ার চিকিৎসা নয়
চুল পড়ার নেপথ্যে থাকতে পারে নানা কারণ। বংশগত সমস্যা, হরমোনের পরিবর্তন, পুষ্টির ঘাটতি, মানসিক চাপ, বিভিন্ন অসুস্থতা, কিছু ওষুধ বা মাথার ত্বকের রোগ, সবই চুল পাতলা হওয়ার কারণ হতে পারে।
লেজার ক্যাপ এই সব সমস্যার চিকিৎসা করতে পারে না। যেমন, আয়রনের ঘাটতি বা কোনও শারীরিক অসুস্থতার কারণে চুল পড়লে শুধুমাত্র লাইট থেরাপির উপর নির্ভর করে লাভ হবে না। প্রয়োজন হতে পারে চিকিৎসকের পরামর্শে পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং মূল সমস্যার উপযুক্ত চিকিৎসা।
কেনার আগে সতর্ক থাকুন
চুল পড়ছে বলেই সোশাল মিডিয়ার বিজ্ঞাপন দেখে লেজার ক্যাপ কিনে ফেলা ঠিক নয়। প্রথমেই জানা দরকার, চুল পড়ার কারণ কী। স্থায়ী ভাবে চুল গজানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া বিজ্ঞাপন থেকেও সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
মাতৃভাষায় শিক্ষাদান কোথায়? বন্ধ হস্টেল চালুর দাবিতে বাঁকুড়ায় বিক্ষোভ আদিবাসীদের, দাবি পৃথক সাঁওতালি বোর্ডের
-
কপালে তিলক, গলায় পবিত্র অঙ্গবস্ত্র, গণপতি আরাধনায় সর্বধর্ম সমন্বয়ের পাঠ ‘সেক্যুলার’ সলমনের
-
সংকটে পাশে নেই ‘প্রতারক পাকিস্তান’, হাউথির বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইজরায়েলের দ্বারস্থ সৌদি!
-
২০২৯ লোকসভায় প্রায় দেড়গুণ হচ্ছে বুথসংখ্যা! ইভিএম কিনতে বিপুল খরচ কমিশনের
-
ড্রোনাথন ২০২৬: শত্রুর ঘুম ছুটিয়ে পোখরানে প্রথমবার স্বদেশী ড্রোনের ঝলক তুলে ধরল বায়ুসেনা