ঘুম ভাঙার পর শরীর অবশ, চোখের সামনে অদ্ভুত ছায়া! আপনারও কি হয়েছে এই ভয়ংকর অভিজ্ঞতা?
ঘুম ভাঙল, কিন্তু শরীর নড়ছে না? চোখ খুলে চারপাশের সবকিছু বুঝতে পারছেন, কিন্তু হাত-পা নড়ছে না, কথা বলতে পারছেন না! কখনও মনে হতে পারে বুকের উপর কেউ চেপে বসে আছে বা ঘরে অন্য কেউ উপস্থিত। ভয় পাওয়ার মতো এই অভিজ্ঞতার নাম স্লিপ প্যারালাইসিস। সাধারণত কয়েক সেকেন্ড থেকে কয়েক মিনিট স্থায়ী হয় এবং নিজে থেকেই ঠিক হয়ে যায়।
কেন হয়? রেম (REM) স্লিপের সঙ্গে রয়েছে সম্পর্ক। স্বপ্ন দেখার সময় রেম স্লিপে মস্তিষ্ক শরীরের অধিকাংশ পেশির নড়াচড়া সাময়িকভাবে কমিয়ে দেয়। এর ফলে আমরা স্বপ্নের দৃশ্য বাস্তবে অভিনয় করে ফেলি না। কখনও মস্তিষ্ক আগে জেগে ওঠে, কিন্তু পেশির নিয়ন্ত্রণ তখনও পুরোপুরি ফিরে আসে না। এই দুই অবস্থার সাময়িক মিলন থেকেই হতে পারে স্লিপ প্যারালাইসিস।
আরও পড়ুন:
ছায়া, শব্দ, কারও উপস্থিতি! স্লিপ প্যারালাইসিসের সময় অনেকের অদ্ভুত অভিজ্ঞতা হয়। ঘরে কোনও ছায়ামূর্তি দেখা, কারও কণ্ঠ বা শব্দ শোনা বা মনে হতে পারে পাশে কেউ দাঁড়িয়ে আছে। এগুলি হ্যালুসিনেশন হতে পারে। কারণ, তখন স্বপ্নের ছবি ও জেগে থাকার সচেতনতা একসঙ্গে কাজ করে। ফলে মস্তিষ্কের তৈরি অনুভূতিগুলি অত্যন্ত বাস্তব বলে মনে হতে পারে।
মনে হয়, বুকের উপর কেউ বসে! স্লিপ প্যারালাইসিসে বুকের উপর চাপ বা ভারী কিছু চেপে থাকার অনুভূতি খুবই পরিচিত। শরীর নড়াতে না পারার কারণে স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাসও অস্বাভাবিক বা আটকে যাচ্ছে বলে মনে হতে পারে। একই সঙ্গে স্বপ্নের অনুভূতি বাস্তবের সঙ্গে মিশে গিয়ে মনে হতে পারে, সত্যিই কেউ বুকের উপর চাপ দিচ্ছে। এই অভিজ্ঞতা ভয় আরও বাড়িয়ে দেয়।
অনিয়মিত ঘুমে বাড়তে পারে প্রবণতা। পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়া, প্রতিদিন ঘুমের সময় বদলে যাওয়া, অতিরিক্ত মানসিক চাপ ও উদ্বেগ স্লিপ প্যারালাইসিসের সম্ভাবনা বাড়াতে পারে। রাতে দীর্ঘ সময় স্ক্রিন দেখার মতো অভ্যাসও ঘুমের স্বাভাবিক ছন্দে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। গবেষণা ও চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, চিৎ হয়ে ঘুমানোর সঙ্গেও কিছু মানুষের ক্ষেত্রে স্লিপ প্যারালাইসিসের সম্পর্ক থাকতে পারে।
আরও পড়ুন:
ভয় না পেয়ে নিজেকে শান্ত রাখুন। স্লিপ প্যারালাইসিস হলে প্রথমেই মনে রাখুন, এটি সাধারণত সাময়িক এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই কেটে যায়। ধীরে, স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নেওয়ার চেষ্টা করুন। পুরো শরীর নড়াতে না পারলেও হাতের বা পায়ের আঙুল নড়ানোর চেষ্টা করতে পারেন। নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুম এবং নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানোর অভ্যাস উপকারী। বারবার হলে বা ঘুমে সমস্যা তৈরি করলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।