সঙ্গিনী যত আকর্ষণীয়, পুরুষের তত কন্ডোম ব্যবহারে অনীহা! কেন এই প্রবণতা?
সম্প্রতি একটি গবেষণায় উঠে এল আশ্চর্য তথ্য।
পুরুষদের কন্ডোম ব্যবহারের প্রবণতা নিয়ে সাউদাম্পটন বিশ্ববিদ্যালয় এবং ব্রিস্টল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা একটি সমীক্ষা করেন। যদিও সমীক্ষাটি বড় পরিসরের নয়। তবু স্বল্প পরিসরের সেই সমীক্ষাই বিস্মিত করে। সমীক্ষা বলছে, ১৯ থেকে ৬১ বছর বয়সি ৫১ জন বিষমকামী পুরুষের কাছে যৌনতা সম্পর্কিত কিছু প্রশ্ন করা হয়। আর তার ভিত্তিতেই প্রকাশিত হয় বিস্ময়কর ফলাফল।
আরও পড়ুন:
কী কী প্রশ্ন করা হয়েছিল? ২০ জন নারীর মুখের সাদাকালো ছবি দেখিয়ে তাঁদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল ছবিতে থাকা নারীদের আকর্ষণীয়তার মূল্যায়ন করতে। এবং সুযোগ পেলে এই নারীদের প্রত্যেকের সঙ্গে মিলিত হওয়ার ক্ষেত্রে তাঁরা কন্ডোম ব্যবহার করতেন কিনা। পাশাপাশি জানতে চাওয়া হয় ওই নারীদের যৌনবাহিত সংক্রমণ থাকার সম্ভাবনা কতটা।
সমীক্ষার ফলাফল থেকে দেখা গিয়েছে, একজন নারীকে গড়ে যতটা আকর্ষণীয় বলে মনে করা হয়েছে, অংশগ্রহণকারীদের তাঁর সঙ্গে যৌন মিলনে আগ্রহী হওয়ার সম্ভাবনা ততটাই বেশি দেখা গিয়েছে। আবার যৌনমিলনের সময় কন্ডোম ব্যবহারের ইচ্ছাও ততটাই কম! প্রথম সিদ্ধান্তটি সহজেই বোধগম্য হলেও দ্বিতীয় বিষয়টি ছিল অপ্রত্যাশিত। কিন্তু কেন এই অনীহা?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনেক পুরুষ অবচেতনে মনে করেন যে, আকর্ষণীয় নারীরা শারীরিকভাবে বেশি সুস্থ এবং তাঁদের যৌনবাহিত রোগ থাকার ঝুঁকিও কম। তাই তাঁরা কোনও সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন না। বলাই বাহুল্য, এটি সম্পূর্ণ একটি ভুল ধারণা। এছাড়াও আরও একটি কারণ রয়েছে। আকর্ষণীয় সঙ্গিনীকে উচ্চ সমাজের প্রতিনিধি মনে করেন পুরুষেরা। তাই অবচেতনে বংশবৃদ্ধির প্রবণতাও কাজ করে।
আরও পড়ুন:
কতটা ঝুঁকিপূর্ণ কন্ডোম ছাড়া মিলিত হওয়ার প্রবণতা? বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, অনিচ্ছাকৃত গর্ভধারণ এড়াতে এবং এইচআইভি বা সিফিলিসের মতো মারাত্মক রোগ প্রতিরোধে প্রতিবার সঠিক নিয়মে কন্ডোম ব্যবহার করা জরুরি। তাহলে যৌন আনন্দের সমান্তরালে সুরক্ষাও মিলবে পুরোপুরি। সুতরাং সামগ্রিক ভাবেই এই প্রবণতা যে অত্যন্ত ক্ষতিকর হতে পারে, তা মনে করিয়ে সতর্ক করছেন বিজ্ঞানীরা।