বিসিসিআইয়ের নির্দেশে আইপিএল থেকে মুস্তাফিজুর রহমানকে ছাঁটাইয়ের পর এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে না আসার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ। এর জন্য নিরাপত্তাকে ইস্যু করে তারা। এরপর আইসিসি’র অনেক বোঝানোর চেষ্টা করলেও বরফ গলেনি। শেষ পর্যন্ত নিজেদের জেদের বশেই ভারত ও শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ। এই অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রকাশিত তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিশ্বকাপ বয়কটের সিদ্ধান্ত তৎকালীন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুলের ছিল। তদন্ত কমিটির সাংবাদিক সম্মেলনেও এ কথাই উঠে এসেছে। সবচেয়ে বড় কথা, প্রতিবেদন প্রকাশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ফেসবুকে পোস্ট করে সেই সিদ্ধান্তের দায় নিজেই স্বীকার করেছেন আসিফ।
তবে একই সঙ্গে এত দিন পর এই সিদ্ধান্ত নিয়ে তদন্ত এবং সেই প্রতিবেদন প্রকাশের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন প্রাক্তন ক্রীড়া উপদেষ্টা। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিশ্বকাপে বাংলাদেশের না খেলার কারণ খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। বুধবার জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে ২২ পৃষ্ঠার সেই তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেন কমিটির প্রধান, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রকের অতিরিক্ত সচিব ড. একেএম ওয়ালি উল্লাহ। কমিটির অন্য দুই সদস্য ছিলেন বাংলাদেশের প্রাক্তন অধিনায়ক এবং বর্তমান প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার ফয়সল দস্তগির।
আরও পড়ুন:
প্রতিবেদনে সরাসরি কার সিদ্ধান্তে বাংলাদেশ বিশ্বকাপ খেলেনি, তা উল্লেখ করা হয়নি। তবে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তদন্ত কমিটি জানায়, সিদ্ধান্তটি নিয়েছিলেন তৎকালীন ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। প্রতিবেদনের ১৯ নম্বর পৃষ্ঠায় বলা হয়েছে, এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত কোনও একজনের নেওয়া উচিত নয়। ‘একজন’ বলতে কাকে বোঝানো হয়েছে, প্রতিবেদনে স্পষ্ট করা না হলেও সাংবাদিক সম্মেলনে ফয়সল বলেন, তাঁরা তৎকালীন ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুলকেই বোঝাচ্ছেন। বিশ্বকাপে না খেলার মূল দায় কার, এই প্রশ্নের জবাবে ওয়ালি উল্লাহ বলেন, “এটা সরকারের সিদ্ধান্ত ছিল। এর বাইরে আর কী বলব!”

এর পরেই ফেসবুক পোস্টে আসিফ লেখেন, ‘ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ না খেলতে যাওয়ার সিদ্ধান্তটি তখনকার ক্রীড়ামন্ত্রী হিসাবে মূলত আমারই ছিল। আমি নিজেই এ কথা একাধিকবার প্রকাশ্যে বলেছি।’ একই সঙ্গে তাঁর প্রশ্ন, ‘এত দিন পর ক্রীড়া মন্ত্রক বিষয়টি ঘটা করে তদন্ত করে তা প্রকাশের কী এমন কারণ ঘটল বুঝলাম না।’ কী কারণে বিশ্বকাপ বয়কট, তা নিয়ে আসিফের দাবি, ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের নির্দেশে মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করেই পরিস্থিতির সূত্রপাত। তাঁর কথায়, “এর পরপরই আমরা নিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কা এবং বাংলাদেশের প্রতি অবমাননার প্রতিবাদে ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে যাওয়ার বিষয়ে অনীহা জানাই।”
নিরাপত্তা নিয়ে তাঁদের আশঙ্কার সমর্থনে আইসিসির একটি প্রতিবেদনের কথাও উল্লেখ করেছেন তিনি। আসিফ জানান, ওই প্রতিবেদনে বাংলাদেশ দল, সমর্থক এবং দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ঘিরে ভারতে নিরাপত্তা-আশঙ্কার কথা বলা হয়েছিল। ভারতের বদলে অন্য কোনও দেশে বিশ্বকাপ আয়োজন বা খেলার চেষ্টা হয়েছিল বলেও জানিয়েছেন তিনি। তাঁর মন্তব্য, ‘আমরা শেষ পর্যন্ত অন্য কোনও ভেন্যুতে বিশ্বকাপ খেলার জন্য বহু চেষ্টা করেছি। কোনও কোনও দেশ থেকে সমর্থনও পেয়েছিলাম। আমি মনে করি, আমরা সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। ছোট দেশ বলে কেউ আমাদের ইচ্ছেমতো অপমান করবে, আর আমরা সব সময় তা মুখ বুজে মেনে নেব, এমন প্রত্যাশা করা ঠিক নয়। আমি সমমর্যাদার ভিত্তিতে ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বে বিশ্বাসী। মাথা নত করে সব মেনে নেওয়াতে নয়।’
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
ধূমপায়ীদের পকেটে টান! একসঙ্গে দাম বাড়ল একাধিক সিগারেটের
-
বাড়ি ফিরতে চাননি! স্ত্রীর নাক কামড়ে ছিড়ে নিল স্বামী
-
ফের ডিম খেলেন মহুয়া! তেহট্টে চরম বিক্ষোভের মুখে কৃষ্ণনগরের সাংসদ
-
টি-টোয়েন্টির ক্রমতালিকায় মগডালে দুই ভারতীয়, এশিয়াডের দল থেকে বাদ পড়েও উন্নতি বরুণের
-
কই গো, হ্যান্ডেলের মা প্যান্ডেল! কৌশানীকে নিয়ে আইটেম গানে রোম্যান্স ‘সোনামুখো’ শিবপ্রসাদের