বর্ষা যেমন গরম থেকে স্বস্তি এনে দেয়, তেমনই সঙ্গে নিয়ে আসে নানা ধরনের সংক্রমণের ঝুঁকি। বাতাসে আর্দ্রতা বেড়ে যাওয়া, দূষিত জল, জীবাণুর দ্রুত বিস্তার এবং আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণে এই সময়ে সর্দি-কাশি, জ্বর, পেটের সংক্রমণ, ত্বকের রোগসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যসমস্যা অনেকটাই বেড়ে যায়। তাই মাঝেমধ্যে অসুস্থ হওয়া স্বাভাবিক হলেও, যদি অল্প সময়ের ব্যবধানে বারবার একই ধরনের সংক্রমণে ভুগতে হয়, তবে সেটি শরীরের ইমিউনিটি (Monsoon Weak Immunity) বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বলের ইঙ্গিত হতে পারে।
আরও পড়ুন:
বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীর অনেক সময় আগেভাগেই কিছু সংকেত দিতে শুরু করে। সেই লক্ষণগুলো সময়মতো বুঝতে পারলে বড় ধরনের অসুস্থতার ঝুঁকি কমানো সম্ভব।
আরও পড়ুন:

১. ঘন ঘন সর্দি-কাশি বা ভাইরাল সংক্রমণ
প্রায়ই সর্দি-কাশি হওয়া, দীর্ঘদিন কাশি না কমা বা বারবার জ্বরে আক্রান্ত হওয়া ইঙ্গিত দিতে পারে যে শরীর ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়তে পারছে না। বর্ষাকালে এই সমস্যা আরও বেশি দেখা দেয়।
২. সব সময় ক্লান্ত ও অবসন্ন লাগা
পর্যাপ্ত ঘুমের পরও যদি সারাক্ষণ ক্লান্ত লাগে, কাজে মন না বসে বা শরীর ভারী মনে হয়, তাহলে সেটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বলের লক্ষণ হতে পারে। সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে শরীর অতিরিক্ত শক্তি ব্যয় করে, যার প্রভাব পড়ে দৈনন্দিন কাজে।
৩. ক্ষত শুকতে অস্বাভাবিক দেরি
সামান্য কাটা-ছেঁড়া বা আঁচড় অনেক দিনেও না শুকানো, ক্ষতস্থানে লালভাব, ফোলা বা ব্যথা থেকে যাওয়া ভালো লক্ষণ নয়। রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা দুর্বল হলে নতুন টিস্যু তৈরি এবং সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের প্রক্রিয়া ধীর হয়ে যায়।

৪. বারবার পেটের সমস্যা
ডায়রিয়া, বদহজম, পেটব্যথা, গ্যাস বা হজমের গোলমাল যদি বারবার দেখা দেয়, তবে সেটি শুধু খাবারের সমস্যা নয়, দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতারও ইঙ্গিত হতে পারে। কারণ শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার একটি বড় অংশ অন্ত্রের সঙ্গে জড়িত।
৫. ঘন ঘন মাথাব্যথা
বর্ষায় বারবার মাথাব্যথা হলে তার পেছনে সাইনাসের সংক্রমণ, জলশূন্যতা বা ভাইরাল অসুস্থতা দায়ী হতে পারে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকলে এসব সমস্যা সহজেই শরীরে প্রভাব ফেলে।
৬. গলা ব্যথা বারবার ফিরে আসা
গলায় খুসখুসে ভাব, ব্যথা বা অস্বস্তি যদি বারবার হয়, তবে তা ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের লক্ষণ হতে পারে। শরীর সংক্রমণ পুরোপুরি দূর করতে না পারলে এই সমস্যা বারবার ফিরে আসে।

৭. ত্বকে সংক্রমণ বা র্যাশ
বর্ষার স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধির জন্য অনুকূল। তাই ঘন ঘন চুলকানি, র্যাশ, লালচে দাগ বা ফাঙ্গাল ইনফেকশন হলে তা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হওয়ার ইঙ্গিত হতে পারে।
৮. খিদে কমে যাওয়া
কয়েক দিন ধরে খাবারে অনীহা বা খেতে ইচ্ছা না করলে সেটিকে হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। শরীরে সংক্রমণ বা রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার ভারসাম্য নষ্ট হলে এমনটি হতে পারে।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভালো রাখতে কী করবেন?
বর্ষাকালে নিরাপদ ও টাটকা খাবার খাওয়া, পরিশোধিত জল পান, পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত শরীরচর্চা, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং প্রয়োজনীয় পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি। পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে যদি উপরের একাধিক লক্ষণ দেখা যায়, তবে নিজে ওষুধ না খেয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ সিদ্ধান্ত।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
মিলবে ৫০ শতাংশ এরিয়ার! রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্তে পেনশনভোগীদের জন্য বিরাট সুখবর
-
‘আকাশ’ থেকে ‘মনোজ’, আত্মসমর্পণের পথে না হেঁটে নতুন নামে আড়াল খুঁজছেন মাওবাদী নেতা
-
রোগ সারাতে বাংলাদেশিদের ভরসা কলকাতাই! দেড় লক্ষ ভিসা আবেদনে মেডিক্যাল ট্যুরিজমে জোয়ার
-
মেসির গায়ে শুকোচ্ছে লেপ-কাঁথা-কম্বল! বিশ্বকাপের মাঝে এ কী অবস্থা সেই ‘বিখ্যাত’ মূর্তির
-
‘আরএন রবি বলছি’, রাজ্যপালের নামে অগ্নিমিত্রা-দুধকুমারকে ফোন, বালি থেকে যুবককে ধরল পুলিশ