Asthma

অ্যাজমা রোগীরা সাবধান! অক্টোবর পর্যন্ত থাকতে হবে সতর্ক, কেন জানেন?

সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে অক্টোবর পর্যন্ত সময়টায় বাড়তে পারে অ্যাজমার উপসর্গ এবং ফ্লেয়ার-আপের আশঙ্কা।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬, ১৮:৪২

options
link
অ্যাজমা রোগীরা সাবধান! অক্টোবর পর্যন্ত থাকতে হবে সতর্ক, কেন জানেন?
সেপ্টেম্বরের শেষেই অ্যাজমার ‘অ্যালার্ম’?

বর্ষার শেষ, শরতের শুরু। বদলাচ্ছে বাতাসের তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা, বাতাসে ভাসছে নানা ধরনের পরাগরেণু। তারই মধ্যে বাড়তে শুরু করছে সর্দি-কাশির ভাইরাসের দাপট। ঋতু পরিবর্তনের এই পর্বটাই অ্যাজমায় আক্রান্তদের জন্য হয়ে উঠতে পারে বেশ সংবেদনশীল। বিশেষ করে সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে অক্টোবর পর্যন্ত সময়টায় বাড়তে পারে অ্যাজমার উপসর্গ এবং ফ্লেয়ার-আপের আশঙ্কা।

Advertisement

তাপমাত্রা, আর্দ্রতা এবং বাতাসে থাকা পরাগরেণুর পরিবর্তন শ্বাসনালির প্রদাহকে প্রভাবিত করতে পারে। আর অ্যাজমার ক্ষেত্রে শ্বাসনালির এই প্রদাহই সমস্যার অন্যতম মূল কারণ। তাই ‘আবহাওয়া বদলেছে’ বলেই বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। চিকিৎসকদের মতে, গ্রীষ্ম থেকে শরতে যাওয়ার এই সময়টি অ্যাজমার রোগীদের জন্য বিশেষভাবে সংবেদনশীল।

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

একসঙ্গে কাজ করে নানা কারণ
ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে অ্যাজমার সমস্যা বাড়ার পিছনে একটি নয়, একাধিক কারণ একসঙ্গে কাজ করে। প্রথমেই আসে তাপমাত্রার পরিবর্তন। অ্যাজমায় আক্রান্তদের শ্বাসনালি আবহাওয়ার এই পরিবর্তনে তুলনামূলক বেশি সংবেদনশীল হয়ে উঠতে পারে।

Advertisement
Asthma Flare-Ups in Autumn: Why September and October Are Risky
ঋতু পরিবর্তনে বাড়ে অ্যাজমার ঝুঁকি। ছবি: সংগৃহীত

এর পাশাপাশি শরৎকালে বিভিন্ন শ্বাসযন্ত্রের ভাইরাসের সংক্রমণ বাড়তে শুরু করে। সাধারণ সর্দি-কাশির ভাইরাসও এই সময় বেশি ছড়াতে পারে। আর ভাইরাসজনিত সংক্রমণ অ্যাজমার উপসর্গ বাড়িয়ে দিতে পারে।

বাতাসে পরাগরেণুর উপস্থিতিও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ কিছু আগাছা ও ফুলের পরাগরেণু এই সময় সমস্যা তৈরি করতে পারে। মাটিতে জমে থাকা পচা পাতার স্তর থেকেও মোল্ড বা ছত্রাকের বৃদ্ধি শুরু হয়। পরাগরেণু ও মোল্ড, দুটিই সংবেদনশীল ব্যক্তির শ্বাসনালিতে প্রদাহ ও অ্যাজমার উপসর্গ বাড়িয়ে দিতে পারে। অর্থাৎ, শুধু ঠান্ডা পড়া নয়। তাপমাত্রার ওঠানামা, ভাইরাস, পরাগরেণু ও মোল্ড মিলেই তৈরি করে অ্যাজমার অনুকূল পরিবেশ।

সেপ্টেম্বরের শেষটা গুরুত্বপূর্ণ
সেপ্টেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহের পর থেকে অক্টোবর পর্যন্ত সময়টায় বছরের অন্য সময়ের তুলনায় অ্যাজমার ফ্লেয়ার-আপ বেশি দেখা যেতে পারে। বছরের পর বছর ধরে অ্যাজমার প্রবণতা বিশ্লেষণ করলেও এই সময়টাকে বিশেষভাবে সংবেদনশীল বলে দেখা যায়।

তাই এই সময় উপসর্গের সামান্য পরিবর্তনকেও গুরুত্ব দেওয়া দরকার। কাশি, শ্বাসকষ্ট, বুকে চাপ লাগা বা শ্বাস নেওয়ার সময় বাঁশির মতো শব্দের মতো পরিচিত উপসর্গ বাড়ছে কি না, সেদিকে নজর রাখা জরুরি।

Asthma Alert: Why Symptoms May Worsen During Seasonal Changes
সমস্যা বাড়লে চিকিৎসকের পরামর্শ মতো ওষুধ জরুরি। ছবি: সংগৃহীত

‘ভালো আছি’ বলে ওষুধ বন্ধ নয়
অ্যাজমার উপসর্গ কম থাকলেও নিজের মতো করে চিকিৎসা বন্ধ করা ঠিক নয়। চিকিৎসকদের পরামর্শ, উপসর্গ কতটা ঘনঘন হচ্ছে তা নয়, চিকিৎসকের নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী অ্যাজমার ওষুধ নেওয়াটাই গুরুত্বপূর্ণ।

যাঁদের খুব কম উপসর্গ হয় এবং প্রয়োজনমতো রেসকিউ ইনহেলার ব্যবহার করেন, তাঁদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি রেসকিউ ইনহেলার ব্যবহার করা গুরুত্বপূর্ণ। এতে ইনহেলড স্টেরয়েড থাকতে পারে, যা শ্বাসনালির প্রদাহ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

আর যাঁদের তুলনামূলক ঘনঘন উপসর্গ হয় এবং প্রতিদিন মেইনটেন্যান্স ইনহেলার নিতে হয়, তাঁদের সেটিও নির্ধারিত নিয়মে চালিয়ে যেতে হবে। ওষুধ ফুরিয়ে যাওয়ার আগেই নতুন করে সংগ্রহ করে রাখা জরুরি।

ঋতু বদল আটকানো সম্ভব নয়। কিন্তু এই পরিবর্তনের সঙ্গে অ্যাজমার উপসর্গ বাড়তে পারে, সে সম্পর্কে সচেতন থাকা যায়। বিশেষ করে সেপ্টেম্বরের শেষ থেকে অক্টোবর, অ্যাজমা থাকলে নিজের শ্বাসের দিকে একটু বাড়তি নজর রাখার সময়।

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.