বাংলাদেশে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতিতে তৈরি জাদুঘর থেকে মোদিবিরোধী আন্দোলনের ছবি সরানো হয়েছে! এমনই বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন সংসদের বিরোধী দলের চিফ হুইপ ও এনসিপি-র আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবীর রিজভির অভিযোগ, এধরনের অপপ্রচার মাধ্যমে অনেকেই সরকারের কাজে বাধা দিচ্ছে। শনিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটে ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ৫ মাসের উন্নয়ন যাত্রা’ নামক গ্রন্থের মোড়ক উন্মচন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। রিজভির কথায়, ‘‘সরকারের যে কোনও গাফিলতি হলে শক্ত হাতে তার ব্যবস্থা নিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। আর জনগণের কাছে সরকার তার নিজের প্রতিশ্রুতি রক্ষার চেষ্টা করে যাচ্ছেন। এসব ষড়যন্ত্র বন্ধ হয়ে যাবে যখন তারেক রহমানের কাজের অংশগুলো দলিল হিসেবে জনগণের হাতে পৌঁছে যাবে।”
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘‘গত ১৬ বছরে বাংলাদেশে যে ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, তার সঙ্গে ভারত প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে বিভিন্নভাবে সম্পর্কিত ছিল। ভারতীয় আগ্রাসন এ দেশে ছিল, মোদি বিরোধী আন্দোলন – এই বিষয়গুলোকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। হয়ত সরিয়ে দিয়ে মনে করা হচ্ছে, এই সরকার ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো রাখতে পারবে। কিন্তু ভারতের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক ভালো বা মন্দের বিষয় নয়। সম্পর্কটা হওয়া উচিত মর্যাদাপূর্ণ।
আরও পড়ুন:

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বিকেল অবধি যে ভবনটি ছিল তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন অর্থাৎ গণভবন, পরে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে সেই ভবনই এখন জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণাগার গড়ে তোলা হয়েছে।শনিবার ঢাকার শের-ই-বাংলা নগরে স্মৃতি জাদুঘর ঘুরে দেখেন এনসিপি নেতারা। নাহিদ ইসলামের সঙ্গে ছিলেন এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন, মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম, যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার, এনসিপির নারী সংসদ সদস্য নুসরাত তাবাসসুম।

সেখানেই বর্তমান সরকার ভারতকে ভয় পাচ্ছে বলে মন্তব্য করে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘‘গত ১৬ বছরে বাংলাদেশে যে ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, তার সঙ্গে ভারত প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে বিভিন্নভাবে সম্পর্কিত ছিল। ভারতীয় আগ্রাসন এ দেশে ছিল, মোদি বিরোধী আন্দোলন – এই বিষয়গুলোকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। হয়ত সরিয়ে দিয়ে মনে করা হচ্ছে, এই সরকার ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো রাখতে পারবে। কিন্তু ভারতের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক ভালো বা মন্দের বিষয় নয়। সম্পর্কটা হওয়া উচিত মর্যাদাপূর্ণ।” নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, ‘‘এই সরকারের আপসকামী মনোভাবের কারণে আমরা দেখলাম, দিল্লিতে কনফারেন্স করে এখন অতীত স্বৈরাচারী শক্তি হুঙ্কার দিচ্ছে। আর সরকার শুধু একটি প্রেস রিলিজ দিয়ে তার দায়িত্ব শেষ করছে। ফলে এখানে আপসের কোনও সুযোগ নেই। আপস করে আমরা বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষা করতে পারব না।”

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রধান চরিত্র শহিদ আবু সাইদ-সহ অন্য শহিদদের স্মৃতিচিহ্ন আরও বিস্তৃতভাবে প্রদর্শনেরও দাবি জানান নাহিদ ইসলাম। তাঁর বক্তব্য, শহিদদের পরিবারের পক্ষ থেকে জাদুঘরে প্রদর্শিত স্মৃতিচিহ্নের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি স্মৃতিচিহ্ন দেওয়া হয়েছে। সেগুলো কীভাবে আরও শৈল্পিকভাবে প্রদর্শন করা যায়, সে বিষয়ে
উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
কবে ছাত্রভোট? ‘ফ্যাসিস্ট’ মমতা সরকারকে বিঁধে শুভেন্দুর দরবারে ঋতব্রতরা
-
১০ ঘণ্টা মেরাথন জেরা, ভবানী ভবন থেকে বেরিয়েই অভিষেকের বাড়ি ছুটলেন পিএ সুমিত
-
ভিডিওকলে স্বামীর পরকীয়া, ফোন ভেঙে দেওয়ায় স্ত্রীকে পুড়িয়ে মারল যুবক! হাড়হিম ঘটনা মালদহে
-
২৫ ফুটের ‘গামোছা’য় জুবিনের গান! শব্দে স্বর বুনে শ্রদ্ধার্ঘ্য অসমের তাঁতির
-
ডেকে অপমান! দু’ঘণ্টা অপেক্ষার পর রাজ ঠাকরের দেখা না পেয়ে ফিরলেন কমনওয়েলথ সোনাজয়ী