সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ফেসবুক লাইভে কোভিড (COVID) হাসপাতালের অব্যবস্থার ছবি তুলে ধরায় মন্ত্রীর সচিবের ‘রোষে’র মুখে করোনা আক্রান্ত। জানা গিয়েছে, ফেসবুক লাইভটি ডিলিট করার জন্য ওই যুবতীকে লাগাতার চাপ দেওয়া হয়েছে। এমনকী হাসপাতাল সুপার কেড়ে নিয়েছেন ওই তরুণীর মোবাইল। শাস্তি স্বরূপ দেওয়া হয়নি ওষুধও!
জানা গিয়েছে, হাওড়ার (Howrah) সালকিয়ার বাসিন্দা ওই যুবতীর পরিবারের ৪ সদস্যই করোনা আক্রান্ত। বাবা হাওড়ার সঞ্জীবনী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। মা ও ভাইয়ের চিকিৎসা চলছে বাড়িতেই। ৭ দিন আগে টিএল জয়সওয়াল হাসাপাতালে ভরতি করা হয় ওই তরুণীকে। সোমবার সকাল থেকে প্রবল শ্বাসকষ্ট শুরু হয় তাঁর। অভিযোগ, তিনি আর্তনাদ করতে থাকলেও কেউ সহযোগিতার হাত বাড়াননি। কোনও চিকিৎসক বা নার্সের দেখা মেলেনি। এরপর ওইদিন সন্ধেয় অসুস্থ অবস্থায় ফেসবুক লাইভ করেন ওই আক্রান্ত। সেখানেই হাসপাতালের অব্যবস্থার ছবি তুলে ধরেন। এর কিছুক্ষণ পরই মন্ত্রী লক্ষ্মীরতন শুক্লার (Laxmi Ratan Shukla) সচিব হাসপাতালে ফোন করে রোগীর অক্সিজেনের ব্যবস্থা করেন।
[আরও পড়ুন: করোনায় মৃতকে দেখতে হলে দিতে হবে ৫১ হাজার টাকা! শ্মশান কর্মীদের আচরণে ক্ষুব্ধ পরিবার]
ওই আক্রান্তের অভিযোগ, ফেসবুক লাইভটি করার পর থেকে একাধিকবার ফোনে তাঁকে ‘হুমকি’ দিয়েছেন মন্ত্রীর সচিব। লাইভটি ডিলিট করার জন্য চাপ দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ। এই ঘটনায় রীতিমতো ক্ষুব্ধ ওই তরুণী। যদিও এ বিষয়ে মন্ত্রীর তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। উল্লেখ্যে, তরুণীর বক্তব্য অনুযায়ী, ওই কোভিড হাসপাতালে রোগীদের যে খাবার দেওয়া হয় তা অত্যন্ত নিম্নমানের। রয়েছে প্রবল জলের সমস্যা। এমনকী রোগীদের দিয়েই নার্সরা একে অন্যের প্রেসার মাপান বলেও অভিযোগ করেন তিনি। প্রসঙ্গত, এর আগেও রাজ্যের একাধিক হাসপাতালের অব্যবস্থার বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন রোগীর ও তাঁদের পরিবার। আবার উলটো ছবিও দেখা গিয়েছে এই বাংলাতেই।