BREAKING NEWS

১৭  আষাঢ়  ১৪২৯  রবিবার ৩ জুলাই ২০২২ 

READ IN APP

Advertisement

Advertisement

নির্ভেজাল ভালবাসা, অ্যাসিড আক্রান্ত বাঙালি যুবতীকে বিয়ে উত্তরাখণ্ডের যুবকের

Published by: Soumya Mukherjee |    Posted: February 17, 2020 9:14 pm|    Updated: February 17, 2020 9:14 pm

an acid victim lady from Tehatta is doing a love marriage

মমতা ও লাকি

রমণী বিশ্বাস, তেহট্ট: অ্যাসিড (Acid) আক্রান্ত বাংলার যুবতীকে ভালবেসে বিয়ে করছেন ভিন রাজ্যের এক যুবক। আগামী মার্চ মাসের ১০ তারিখে তাঁদের বিয়ের অনুষ্ঠান হওয়ার কথা। ওই প্রেমিক যুগল হলেন তেহট্টের মমতা সরকার ও দেরাদুনের লাকি সিং।

অ্যাসিড আক্রান্ত হওয়ার পর কীভাবে ঘুরে দাঁড়ানো তা নিয়ে ভাবিয়ে তুলত আক্রান্ত মহিলাকে। তবে এখন সমাজের আর পাঁচটা মেয়ের মতো যে পথ চলা যায় তা সমাজকে শিখিয়েছেন তেহট্টের বিনোদ নগরের মেয়ে মমতা সরকার। তেহট্টের মহকুমা কার্যালয়ে ক্যাজুয়াল কর্মী হিসেবে চাকরি করেন তিনি। আর তাঁকে যে বিয়ে করবেন সেই পাত্র হল উত্তরাখণ্ডের দেরাদুনের ছেলে লাকি সিং।

[আরও পড়ুন: ‘ছেলেকে সঙ্গে আনাই কাল হল’, আক্ষেপ ফরাক্কার দুর্ঘটনায় নিহত ইঞ্জিনিয়ারের বাবার ]

 

মমতার পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০০৪ সালের ১৯ এপ্রিল পারিবারিক অশান্তির জেরে মমতার এক নিকট আত্মীয় তাঁর মুখে অ্যাসিড ছুড়ে মারে। সবে তিনি মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়েছেন। কিন্তু, আচমকা ওই ঘটনার পর ঠিকভাবে আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেননি। পড়াশোনাও আর হয়ে ওঠেনি। মুখের আকৃতির পরিবর্তন হওয়ায় মানুষের কাছ থেকে নিজেকে সরিয়ে ঘরবন্দি হয়ে পড়েন। সেখানে থেকে চালিয়ে ছিলেন ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই। এর জন্য রাত জেগে ভেবেছেন তিনি। ২০০৯ সালে নিজের মনকে ঠিক করে সমাজে মাথা উঁচু করে বাঁচতে আবার পড়াশোনা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন মমতা। ২০১০ সালে উচ্চমাধ্যমিকও পাশ করেন।

এপ্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘২০০৪ সালে পারিবারিক অশান্তির জেরে এক আত্মীয় মুখে অ্যসিড ছুঁড়ে মারে। তারপর মুখের আকৃতি পালটে যায়। অবস্থা খুবই খারাপ ছিল। প্রথম প্রথম কয়েক বছর চোখ নিয়ে সমস্যা ছিল। এখন কিছুটা ভাল আছে। ভেবেছি এই ঘটনার পর বাড়িতে বসে থেকে কী হবে, মেয়ে মানেই তো বাড়িতে বসে থাকা নয়, মেয়েরাও পারে। এই সমস্ত কথা ভাবনা চিন্তা করেই ৬ বছর পর আবার পড়াশোনা শুরু করি। ২০১০ সালে উচ্চমাধ্যমিক দিয়ে কোনও কোম্পানিতে কাজ করার চেষ্টা চালাই। পরের বছর সেই স্বপ্ন সফল হয়। দুর্গাপুরে একটি কোম্পানিতে চাকরি পাই। সেখানে বেশ কয়েক বছর কাটিয়েছি। সেখানেই দেখা হয় লাকি সিংয়ের সঙ্গে। বন্ধুর মতো আমরা ছিলাম। পরে লাকি আমাকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। প্রথমে আমি রাজি হয়নি, কেন না আমি ভেবেছিলাম ছেলেটি আমাকে নিয়ে খুশি থাকতে পারবে না। এছাড়াও ছেলেটিকে আমি চিনিও না জানিও না। তাই প্রথমে বিয়েতে রাজি হয়নি। কিন্তু পরে আমরা একে-অপরকে বুঝেছি, তারপরই বিয়ের জন্য রাজি হই। বাড়িতে বলার পর বাবা, মা ও দাদা প্রত্যেকেই বিয়েতে রাজি হন।’

[আরও পড়ুন: তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে ফের রণক্ষেত্র কোচবিহার, চলল গুলি ]

 

বাবা প্রফুল্ল সরকার ও মা অবলা সরকার বলেন, ‘মেয়ে যখন নিজেকে সামলে সমাজের চলার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। তখন মেয়ের ভালর জন্য আমরাও বিয়েতে রাজি। ২০১৭ সালে দুর্গাপর থেকে বাড়ি ফিরে স্থানীয় কোনও জায়গায় কাজ খোঁজে মমতা। অবশেষে তেহট্ট মহকুমা দপ্তরে কাজ মেলে। বর্তমানে সেখানেই কর্মরত। বিয়ের পর কৃষ্ণনগরে লাকি ও মমতা একসঙ্গে থাকার ব্যবস্থা করেছে।’

এপ্রসঙ্গে লাকি সিং ফোনে জানান, ‘দুর্গাপুরে একটি কোম্পানিতে একসাথে কাজ করতে গিয়ে মমতাকে দেখে প্রথমে আমার দুঃখ লেগেছিল। তারপর ওর সঙ্গে বন্ধুত্ব করি। এরপর ধীরে ধীরে একে অপরের সঙ্গে সময় কাটাতে থাকি। তারপর দুটি মন এক হয়ে যায়। যদিও এই সম্পর্ক মানতে চায়নি আমার পরিবার। তিন বছরের প্রেম ও এই সম্পর্কের কথা বাড়িতে জানানো হলে মা-বাবা মেনে নিতে চাননি। এই নিয়ে ভীষণ ঝামেলা হয়। মা-বাবা স্পষ্ট জানিয়ে দেন বিয়ে করলে করতে পার। কিন্তু, পরিবারের সঙ্গে আর সম্পর্ক রাখা যাবে না। তাই আর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখিনি। কারণ আমি মমতাকে বিয়ে করে সুখে থাকতে চাই।’

Sangbad Pratidin News App: খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
নিয়মিত খবরে থাকতে লাইক করুন ফেসবুকে ও ফলো করুন টুইটারে