সোমনাথ পাল, বনগাঁ: সহকর্মীদের সঙ্গে পিকনিক করতে গিয়ে জলে ডুবে মারা গিয়েছেন এক্সাইড কর্তা অর্ঘ্য মুখোপাধ্যায়। ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করল গাইঘাটা থানার পুলিশ। ধৃতের সকলেই মৃতের সহকর্মী। তাঁদের মধ্যে দু’জনের বাড়ি বনগাঁয়। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার দিন প্রথমে বনগাঁয় এক সহকর্মীর বাড়িতে গিয়েছিলেন অর্ঘ্য। সেখান থেকে আরও বেশ কয়েকজনের সঙ্গে পিকনিক করতে যান গাইঘাটায়।
[ এমএ পাশ করেও মেলেনি চাকরি, কেরলে শ্রমিকের কাজ করতে গিয়ে মৃত্যু যুবকের]
উত্তর ২৪ পরগনার সোদপুরের ফ্ল্যাটে স্ত্রী, ছেলে ও বাবা-মাকে নিয়ে সংসার। সম্প্রতি পদোন্নতি পেয়ে এক্সাইড ব্যাটারি কোম্পানির ডেপুটি ম্যানেজার হয়েছিলেন বছর চৌত্রিশের অর্ঘ্য মুখোপাধ্যায়। তাঁর স্ত্রীও চাকরি করেন রাষ্টায়ত্ত ব্যাংকে। পরিবারের লোকেরা জানিয়েছেন, সোমবার সহকর্মীদের সঙ্গে গাইঘাটার সোনাটিকাটি গ্রামে পিকনিক করতে গিয়েছিলেন অর্ঘ্য। দিনভর আর তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি। সন্ধ্যেবেলায় বাড়িতে ফোন করে এক সহকর্মী জানান, হাসপাতালে ভরতি অর্ঘ্য। খবর পাওয়া পর তড়িঘড়ি বনগাঁ মহকুমা হাসপাতালে পৌঁছন তাঁর পরিবারের লোকেরা। কিন্তু, ততক্ষণে মারা গিয়েছে এক্সাইড কোম্পানির ওই পদস্থ আধিকারিক। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের মনে হয়েছিল, মদ্যপ অবস্থায় নৌকা চড়তে গিয়েই নদীতে পড়ে যান অর্ঘ্য মুখোপাধ্যায়। কিন্তু দুর্ঘটনার তত্ত্ব মানতে নারাজ মৃতের পরিবারের লোকেরা। মঙ্গলবার গাইঘাটা থানায় খুনের অভিযোগ দায়ের করেন তাঁরা।
অর্ঘ্য মুখোপাধ্যায়ের পরিবারের লোকেদের বক্তব্য, তিনি সাঁতার জানতেন। তাহলে কীভাবে জল ডুবে মারা গেলেন? তাঁদের অভিযোগ, দিন কয়েক আগে মণীশ নামে এক সহকর্মীকে টপকে এক্সাইড ব্যাটারি কোম্পানির ডেপুটি ম্যানেজার হয়েছিলেন অর্ঘ্য। তাঁকে পিকনিকে নিয়ে গিয়ে খুন করেছেন মণীশই। এদিকে বনগাঁ হাসপাতালের চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণার পরই মৃতদেহ নিয়ে কয়েকজন মদ্যপ যুবক পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন বলে জানা গিয়েছে। কিন্তু, হাসপাতালের কর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁদের ধরে ফেলেন। ঘটনায় অ্যাম্বুলেন্সের চালক-সহ তিনজনকে আটকও করে গাইঘাটার থানার পুলিশ। ফলে অর্ঘ্য মুখোপাধ্যায়ের মৃত্যু ঘিরে দানা বেঁধেছে রহস্য।
[ বাড়িতে ডেকে নিয়ে গিয়ে কিশোরীকে ধর্ষণ, ভিডিও ভাইরাল করার হুমকি]
বুধবার অর্ঘ্য মুখোপাধ্যায়কে খুনের অভিযোগে মনীশ দাস, অলোক চক্রবর্তী, শুভাশিস মুখোপাধ্যায় ও ইন্দ্রজিৎ বিশ্বাস নামে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, তাঁরা সকলেই মৃতের সহকর্মী। শুভাশিস ও ইন্দ্রজিতের বাড়ি বনগাঁয়। ঘটনার দিন প্রথমে বনগাঁয় এক সহকর্মীর বাড়িতে গিয়েছিলেন অর্ঘ্য। সেখান থেকে গাইঘাটায় পিকনিক করতে যান তিনি। মণীশের সঙ্গে আবার মনোমালিন্যও চলছিল অর্ঘ্যের।
[বিডিও-র উদ্যোগে কুশমণ্ডিতে গড়ে উঠল আদর্শ গ্রাম]
সর্বশেষ খবর
-
প্রেমিক বিবাহিত, সম্পর্ক মানেনি পরিবার! তরুণীর বিয়ের আগের দিন উদ্ধার যুগলের ঝুলন্ত দেহ
-
চলে এল আরেক সূর্যবংশী! বিধ্বংসী সেঞ্চুরি বৈভবের ১০ বছরের ভাইয়ের, উচ্ছ্বসিত রাজস্থান তারকা
-
‘বলিউডের পাকিস্তান প্রেম বেশি’, রণবীর সিংকে ‘কোণঠাসা’ করায় গর্জে উঠলেন কঙ্গনা
-
সরকারি কর্মীদের বাড়িতে বসাতেই হবে স্মার্ট মিটার, নির্দেশিকা নবান্নর
-
ট্রাম্পের বার্তার পরই প্যারাগুয়েকে ধ্বংস করে বিশ্বকাপ শুরু আমেরিকার, চর্চায় ভারের নতুন নিয়ম