Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩
  • মঙ্গলবার
  • ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Nabadwip

চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পুরস্কার, মিড ডে মিলে ৪০০ পড়ুয়াকে বিরিয়ানি খাওয়ালেন প্রধান শিক্ষক

এই আয়োজনের মাঝে আচমকা স্কুলে হাজির বিধায়ক।

স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার

শেষ আপডেট: সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬, ১৭:২৭

link
স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার

শেষ আপডেট: সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬, ১৭:২৭

options
link
চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পুরস্কার, মিড ডে মিলে ৪০০ পড়ুয়াকে বিরিয়ানি খাওয়ালেন প্রধান শিক্ষক zoom
নবদ্বীপের ওই স্কুলে বিরিয়ানি খাচ্ছে পড়ুয়ারা। নিজস্ব ছবি।
Advertisement

প্রতিশ্রুতি ছিল, চ্যাম্পিয়ন হলে বিরিয়ানি খাওয়াবেন। কথা রাখলেন প্রধান শিক্ষক। তবে শুধু প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া পড়ুয়াদের জন্য নয়, স্কুলের প্রায় ৪০০ ছাত্রের পাতে তুলে বিরিয়ানি তুলে দিলেন তিনি। ওয়াইপিসি-তে ব্লক স্তরে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার আনন্দ এবার ভাগ করে নিল গোটা স্কুল।

মঙ্গলবার নবদ্বীপ জাতীয় বিদ্যালয় (বালক)-এ মিড-ডে মিলের বিশেষ আয়োজনে তাই অন্য দিনের তুলনায় ছিল আলাদা আবহ। আর সেই আয়োজনের খবর পেয়েই এদিন সকালে কাউকে না জানিয়ে আচমকা স্কুলে হাজির হন নবদ্বীপের বিধায়ক শ্রুতি শেখর গোস্বামী। রান্না, খাবারের মান এবং মিড-ডে মিলের সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা খতিয়ে দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মদন মোহন মণ্ডল জানান, সম্প্রতি ওয়াইপিসি-তে ব্লক স্তরের প্রতিযোগিতায় স্কুল চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। প্রধান শিক্ষক পড়ুয়াদের কথা দিয়েছিলেন, চ্যাম্পিয়ন হতে বিরিয়ানি খাওয়াবেন। সাফল্য আসার পর প্রতিশ্রুতি পূরণের পালা। কিন্তু তখনই তাঁর মনে হয়, প্রতিযোগিতায় সাফল্যের আনন্দ থেকে বাকিরা কেন বঞ্চিত থাকবে? স্কুলের প্রত্যেক পড়ুয়াই তো এই সাফল্যের অংশ। সেই ভাবনা থেকেই শেষ পর্যন্ত জয়ী পড়ুয়াদের পাশাপাশি অন্যান্য ছাত্রদেরও আনন্দে সামিল করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

যেমন ভাবনা তেমন কাজ। স্কুলের প্রায় ৪০০ পড়ুয়ার জন্য বিশেষ মিড-ডে মিলের আয়োজন করেন প্রধান শিক্ষক। সাধারণ দিনের খাবারের বদলে পাতে আসে বিরিয়ানি। এই নিয়ে পড়ুয়াদের মধ্যে সকাল থেকেই ছিল উৎসাহ। নিজেদের স্কুলের সাফল্যকে কেন্দ্র করে এমন আয়োজন হওয়ায় আনন্দে সামিল হয় তারাও।

এই বিশেষ আয়োজনের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বিদ্যালয়ের কিচেন গার্ডেনও। প্রধান শিক্ষক জানান, স্কুলে একটি কিচেন গার্ডেন রয়েছে। সেখানে বিভিন্ন ধরনের সবজি উৎপাদন করা হয়। সেই সবজি মিড-ডে মিলে ব্যবহার করা হয়। ফলে বাজার থেকে সবজি কেনার খরচের একটি অংশ বেঁচে যায়। সেই সাশ্রয় হওয়া অর্থের কিছুটা কাজে লাগিয়েই বিশেষ এই মিড-ডে মিলের আয়োজন করা হয়েছে।

অর্থাৎ, পড়ুয়াদের জন্য বিশেষ খাবারের ব্যবস্থা করতে আলাদা কোনও বড়সড় আয়োজনের প্রয়োজন হয়নি। বিদ্যালয়ের নিজস্ব ব্যবস্থাপনাতেই নিয়মিত মিড-ডে মিল চালানোর পাশাপাশি কিছুটা সাশ্রয় করে সেই অর্থ ফের পড়ুয়াদের খাবারের পিছনেই ব্যবহার করা হয়েছে। প্রধান শিক্ষকের বক্তব্যে উঠে এসেছে সেই ব্যবস্থাপনার কথাই।

তবে নবদ্বীপ জাতীয় বিদ্যালয়ে এ ধরনের বিশেষ খাবারের আয়োজন একেবারে নতুন নয়। প্রধান শিক্ষক জানান, বিভিন্ন অনুষ্ঠান বা বিশেষ উপলক্ষে পড়ুয়াদের জন্য পনির, রসগোল্লা-সহ নানা খাবারের ব্যবস্থা করা হয়। চিকেনও দেওয়া হয়। মাসে এক দিন করে চিকেন দেওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে বলে জানান তিনি। বিশেষ দিনগুলিকে পড়ুয়াদের কাছে স্মরণীয় করে তুলতেই এমন আয়োজন করা হয়।

এই পুরো ব্যবস্থাপনার পিছনে শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং শিক্ষাকর্মীদের ভূমিকা রয়েছে বলে জানান প্রধান শিক্ষক। তাঁর কথায়, মিড-ডে মিল শুধু রাঁধুনিদের দায়িত্ব নয়। শিক্ষকরা নিজেরাও গোটা ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত থাকেন। রান্না থেকে পরিবেশন, খাবারের মান—সবকিছুর দিকেই নজর রাখা হয়। এদিনের বিরিয়ানির আয়োজনেও সমস্ত শিক্ষক সহযোগিতা করেছেন। তাঁর কথায়, ‘‘আমার একার পক্ষে এত বড় আয়োজন করা সম্ভব নয়। সবাই মিলে এই মিড-ডে মিলটা চালাই।’’

এদিকে, এদিনের বিশেষ আয়োজনের খবর পেয়েই সকালে স্কুলে পৌঁছে যান বিধায়ক শ্রুতি শেখর গোস্বামী। তবে আগে থেকে স্কুল কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে নয়, সারপ্রাইজ ভিজিট করেন তিনি। বিধায়কের বক্তব্য অনুযায়ী, মিড-ডে মিলের বাস্তব পরিস্থিতি নিজের চোখে দেখতেই তিনি আচমকা স্কুলে পৌঁছন। নিজে গিয়ে রান্নার জায়গা এবং খাবারের ব্যবস্থা দেখেন। খাবার কীভাবে তৈরি হচ্ছে, তার মান কেমন—সবটাই দেখেন বিধায়ক। এরপরই স্কুলে মিড-ডে মিলের ব্যবস্থাপনা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।

বিধায়কের বক্তব্য, স্কুলে ঢোকার পর রান্নার গন্ধ পেয়েই তাঁর মনে হয়েছিল খাবারের ব্যবস্থা ঠিকঠাক হচ্ছে। পরে নিজে গিয়ে দেখে আরও নিশ্চিত হন। তাঁর দাবি, মিড-ডে মিলের মান বজায় রাখার ক্ষেত্রে বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা নজর রাখছেন। বিধায়ক বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর উদ্যোগে চলা মিড-ডে মিল প্রকল্পের সুফল যাতে পড়ুয়াদের কাছে পৌঁছয়, সে বিষয়ে শিক্ষকরা নজর রাখছেন। রান্না, রাঁধুনিদের কাজ এবং সামগ্রিক পরিবেশ দেখে তিনি খুশি। তাঁর কথায়, খাবারের মান ‘‘একদম এক নম্বর’’। বিধায়কের এই আচমকা পরিদর্শন নিয়ে স্কুলের প্রধান শিক্ষকও সন্তোষ প্রকাশ করেন। তাঁর দাবি, বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা, খাবারের মান, রাঁধুনিদের কাজ এবং শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সহযোগিতা দেখে বিধায়ক খুশি হয়েছেন।

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.