সামনেই রেজিনগর এবং নন্দীগ্রামে উপনির্বাচন। ভোটের মুখে পুলিশের জালে হুমায়ুন কবীরের দলের একের পর এক নেতা। এহেন পরিস্থিতিতে প্রচারের নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। রাস্তার প্রচার ছেড়ে এবার সমাজমাধ্যমকে হাতিয়ার করলেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান। পুলিশি হয়রানি ও কর্মীদের নিরাপত্তার অভিযোগ তুলে গত দু’দিন আগেই মাঠে নেমে প্রচার না করার ঘোষণা করেছিলেন তিনি। সেই মতো মঙ্গলবার থেকেই ছেলে রবিনের হয়ে ফেসবুকে ভোট প্রচার শুরু করে দিলেন হুমায়ুন।
রবিনের অভিযোগ, “কাশিপুরে প্রচারের সময় যুব সেলের আহ্বায়ক সোহেল মণ্ডল ও গোপালপুরের ব্লক নেতা আনিসুর রহমানকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। আমি কারও সঙ্গে হাত মেলালেই পুলিশ তাঁর ছবি তুলে নিচ্ছে। এভাবে প্রচার করা যায় না।”
প্রসঙ্গত, রেজিনগর উপনির্বাচনে আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রার্থী হুমায়ুন-পুত্র রবিন কবীর। তাঁর সমর্থনে নেতাদের প্রচারে বেরোলেই পুলিশ বেছে বেছে গ্রেপ্তার করছে বলে অভিযোগ। সোমবার বহরমপুর থানায় একটি মামলায় হাজিরা দিয়ে রেজিনগরে ফিরে দলীয় কর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেন হুমায়ুন। তারপরই সমাজমাধ্যমে একেবারে জোরদার প্রচার চালানোর সিদ্ধান্ত। আজ, মঙ্গলবার নিজের সোশাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে হুমায়ুন লেখেন, “এলাকার সার্বিক উন্নয়ন, সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষা এবং মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকার অঙ্গীকার নিয়ে আমরা ময়দানে নেমেছি। আপনাদের একটি সঠিক সিদ্ধান্তই পারে রেজিনগরের ভবিষ্যৎ বদলে দিতে।”
শুধু প্রচার পদ্ধতি বদল নয়, দলের প্রতীক বাতিল নিয়েও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন হুমায়ুন। তাঁর অভিযোগ, গত ৯ সেপ্টেম্বর রবিন ‘বাঁশি’ প্রতীক চেয়ে ফর্ম এ এবং বি জমা দেন। তখন কমিশন কোনও আপত্তি জানায়নি। তামিলনাড়ুর যে দল বাঁশি প্রতীকে জিতে ক্ষমতায় এসেছে, তারাও কোনও আপত্তি করেনি। অথচ লক্ষ লক্ষ টাকার ব্যানার-পোস্টার ছাপানোর পর হঠাৎ প্রতীক বাতিল করা হল। ফলে নতুন করে ভোটারদের প্রতীক চেনাতে হচ্ছে। যা কখনই মেনে নেওয়া যায় না।
এই প্রসঙ্গে হুমায়ুন আরও জানান, “আমি প্রচারে বেরোলেই কর্মীদের গ্রেপ্তার করছে পুলিশ। তাই সোশাল মিডিয়ায় প্রচারের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। প্রতিদিন এক-দুটি ভিডিও বার্তা দেব। ৪ অক্টোবর পর্যন্ত এই প্রচার চলবে। কমিশনের বাধা না থাকলে ৫ অক্টোবরও প্রচার করব।” যদিও ছেলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত ছেলের ওপরই ছেড়েছেন তিনি। তাঁর কথায়, রবিনের উচিত বাবার কথা শোনা, আবার প্রার্থী হিসেবে ভোটারের কাছে যাওয়াও উচিত। সোমবারও রবিন কাশিপুরে প্রচার করেছেন। তবে সূত্রের খবর, সোমবার রাতে আরও তিন কর্মী গ্রেপ্তার হওয়ায় রবিনও মাঠের প্রচার বন্ধের কথা ভাবছেন।
রবিনের অভিযোগ, “কাশিপুরে প্রচারের সময় যুব সেলের আহ্বায়ক সোহেল মণ্ডল ও গোপালপুরের ব্লক নেতা আনিসুর রহমানকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। আমি কারও সঙ্গে হাত মেলালেই পুলিশ তাঁর ছবি তুলে নিচ্ছে। এভাবে প্রচার করা যায় না।” পুলিশ সূত্রে খবর, পুরনো মামলায় শক্তিপুর থানা গ্রেপ্তার করেছে কাফারুল শেখ নামে আরও এক নেতাকে। সব মিলিয়ে রেজিনগর উপনির্বাচনের আগে হুমায়ুনের এই সোশাল মিডিয়া নির্ভর প্রচার নতুন মাত্রা যোগ করল।
সর্বশেষ খবর
-
নাবালক পুত্রের সঙ্গে নাবালিকার বিয়ে, পুত্রবধূ ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা! মুর্শিদাবাদে গ্রেপ্তার শ্বশুর
-
বৃদ্ধা খুনে ১৩ বছর পর সাজা, ঝাড়গ্রামে তৃণমূলের প্রাক্তন কাউন্সিলর-সহ ৮ জনের যাবজ্জীবন
-
বিহারের পর ওড়িশায় যুগলের পথ আটকে হেনস্তা, মারধর-অশ্লীল আচরণ, প্রকাশ্যে ভিডিও
-
মুকুন্দপুরে ধুন্ধুমার, বিজেপি-তৃণমূল সংঘর্ষে ডিমবৃষ্টি, পৌঁছল পুলিশ
-
‘এক বার জো ম্যায়নে কমিটমেন্ট’, সলমনের সংলাপে জাতীয় পুরস্কারের আসর মাতাল ‘অঙ্ক কি কঠিন’-এর খুদেরা