চন্দ্রজিৎ মজুমদার, কান্দি: কথায় আছে কার কপাল কখন ফেরে কেউ জানে না। জানেন একমাত্র ভগবান। মুর্শিদাবাদের কান্দির খড়গ্রামের সাউন্দি গ্রামের বাসিন্দা ও লটারির টিকিট বিক্রেতা সত্যেন ঘোষ তার জ্বলন্ত উদাহরণ। লটারিতে কোটিপতি দুই বন্ধুর হাত ধরে লাখপতি হলেন সত্যেন। গত শনিবার লটারিতে ২ কোটি ২ লক্ষ টাকা পেয়ে বাবু বনে যান মুর্শিদাবাদের কান্দির খড়গ্রাম থানার বাসিন্দা দুই বন্ধু। একজন নগর গ্রামের সমীর শেখ অপর জন তুরি গ্রামের প্রেম সূত্রধর। কাঠের ব্যবসায়ী রাতারাতি কপাল ফিরে বনে গেলেন কোটিপতি। আর যার কাছে টিকিট কেটেছিলেন দুই বন্ধু ওই টিকিট বিক্রেতা সত্যেন ঘোষ হলেন লাখপতি। টিকিটের কমিশন হিসাবে একটি ১০ লক্ষ টাকার গাড়ি পাবেন তিনি।
[ঘূর্ণাবর্ত সরলেই চেনা মেজাজে ফিরবে শীত, কিন্তু কবে?]
এতদিন যার দিকে কেউ ফিরেও তাকাতেন না। একজন সামান্য টিকিট বিক্রেতা বলে সকলে এড়িয়ে যেতেন। এখন তাঁর বাড়িতেই পা রাখার জায়গা নেই। ওনার হাতের এক ঘর টিকিট কাটার জন্য লোকে অপেক্ষা করে থাকে। খুশি সত্যেন ঘোষের পরিবারের সকলে। খুশি সাউন্দি গ্রামের বাসিন্দারা। তবে টিকিট বিক্রেতা সত্যেন ঘোষের সাফ কথা। তিনি এই গাড়ি নেবেন না তার পরিবর্তে নগদ টাকা পেলে ভাল হয়। যাতে ধার দেনা শোধ করে ভালভাবে সংসার চালানো যায়। টিকিট বিক্রেতা সত্যেন ঘোষের কথায়, “ তিনি বোঝেন গরিব মানুষের জ্বালা কাকে বলে। কথায় আছে কার কপাল কখন ফেরে কেউ জানে না। জানেন একমাত্র ভগবান। ভগবান দিয়েছেন। আমি খুশি।” মুর্শিদাবাদের কান্দির খড়গ্রাম থানার সাউন্দি গ্রামের বাসিন্দা সত্যেন ঘোষ। একজন লটারির টিকিট বিক্রির কাজ করেন। দারিদ্রসীমার নিচের মানুষ বলেই পরিচিত। এক মেয়ে ও স্ত্রী নিয়ে অভাবের সংসার। মেয়ে সাউন্দি উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী। ছোট পরিবার হলেও সংসার চলে লটারির টিকিট বিক্রি করে। সত্যেন ঘোষের স্ত্রী মল্লিকা ঘোষের কথায়, “স্বামীর বুকে অস্ত্রোপচার হয়েছে সদ্য। যা জমি জায়গা ছিল সব বিক্রি করে অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। স্বামী ভারী কিছু কাজ করতে পারেন না। তাই টিকিট বিক্রি করেন। কিছু ধার দেনাও হয়েছে। লটারির ব্যবসাও এখন আর তেমন ভাল চলে না। এরই মধ্যে ঠাকুরের আশীর্বাদ পেয়ে আমরা খুশি।
[বিলের প্রতিবাদে দেশ জুড়ে চিকিৎসকদের কর্মবিরতি, রোগীদের ভোগান্তি]
প্রসঙ্গত, মুর্শিদাবাদের খড়গ্রাম থানার বাসিন্দা সমীর শেখ ও প্রেম সূত্রধর। একজন নগর গ্রামের সমীর শেখ অপর জন তুরি গ্রামের প্রেম সূত্রধর। দু’জনেই একে অপরের ভাল বন্ধু। দু’জনে এক সঙ্গে যেমন এলাকায় কাঠের ব্যবসা করেন। তেমনই সুখদুঃখে একে অপরের সঙ্গে থাকেন। সমীর শেখ খড়গ্রাম থানার নগর মীরপাড়ার বাসিন্দা। দারিদ্রসীমার নিচে বসবাসকারী পরিবার। শনিবার সকালে কাজে এসে দুজনে এক ঘর ৫০০ সেমের সিকিম লটারির টিকিট কাটেন সত্যেন ঘোষের কাছে। আর ওই টিকিট কপাল ফেরায় তিনজনের। এর আগেও সমীর লটারিতে ৩ লক্ষ টাকা পেয়েছিলেন। লটারির টিকিট কাটা ওদের দু’জনের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।
[লঘু হতে চলেছে খুদে পড়ুয়াদের বইয়ের ভার, জানালেন শিক্ষামন্ত্রী]
সর্বশেষ খবর
-
বারুইপুরে নাবালিকাকে ধর্ষণ করে খুন! রবি সকালে পুকুরে উদ্ধার দেহ, বিক্ষোভ জনতার
-
৩১৩ কোটি টাকা বরাদ্দ, চা শ্রমিকদের জন্য বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর
-
ইনস্টাগ্রামে যৌন নির্যাতন সংক্রান্ত কনটেন্ট! বিতর্কে মেটা
-
বিশ্বের শক্তিশালী পাসপোর্টের তালিকায় ফের পিছোল ভারত, কোথায় বাংলাদেশ-পাকিস্তান?
-
চুরি বন্ধ হতেই হু হু করে বাড়ছে রাম মন্দিরের আয়, দৈনিক কত অনুদান জমা পড়ছে দানবাক্সে?