সৌরভ মাজি, বর্ধমান: শনিবারই রায় বেরিয়েছে অযোধ্যা মামলার। পরেরদিনই সম্প্রীতির অনন্য নজির দেখা গেল বর্ধমান শহরে। তেঁতুলতলা বাজার এলাকায় মুসলিম ভাইরা বিলি করলেন লাড্ডু। জাতি, ধর্ম নির্বিশেষে সকলেই মিষ্টিমুখ করলেন। অযোধ্যা নিয়ে শীর্ষ আদালত যা রায় দিয়েছে তা শিরোধার্য। সেই রায়ের জন্য সম্পর্ক, সৌভ্রাতৃত্ব বা সম্প্রীতিতে কোনও আঁচড় পড়বে না, কার্যত এই বার্তাই উঠে এল এদিন।
পূর্ব বর্ধমান জেলা তথা বর্ধমান শহর সম্প্রীতির ক্ষেত্রে বিভিন্ন সময়ই নজির গড়েছে। মুসলিম শিল্পীকে দেখা গিয়েছে দুর্গা প্রতিমা গড়তে, কখনও আবার মন্দির গড়ার কাজে সহায়তা করতে। আবার মুসলিমদের ধর্মীয় অনুষ্ঠানেও সামিল হয়েছেন হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ। রবিবার ছিল মুসলিমদের নবী দিবস। সেই উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয় শহরে। বিশাল মিছিল বের হয় শহরে। শহরের তেঁতুলতলা বাজার এলাকার মুসললমান সম্প্রদায়ের ব্যবসায়ীরা লাড্ডু বিতরণ করেন এদিন। প্রায় ১০ হাজার মানুষের মধ্যে লাড্ডু বিতরণ করা হয়েছে এদিন। সকাল থেকে পথচলতি সকলের হাতে লাড্ডু তুলে দেন মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষেরা।
শনিবারই শীর্ষ আদালত অযোধ্যা মামলার রায় ঘোষণা করেছে। কিন্তু সেই রায় সম্প্রীতির বন্ধনে যে কোনও প্রভাবই ফেলেনি তা বুঝিয়ে দিয়েছে বর্ধমান। ব্যবসায়ী শেখ ইস্তিহার বলেন, “সুপ্রীম কোর্ট যে রায় দিয়েছে তা আমরা মেনে নিয়েছে। ওটা আমাদের মেনে নিতেই হবে। তার জন্য আমাদের সম্পর্কে কোনও প্রভাব পড়বে না।” ব্যবসায়ীরা জানান, গত ৫ বছর ধরে এই এলাকায় জলসার আয়োজন করা হচ্ছে। সকলকেই নিয়েই তাঁরা উৎসবে মাতেন। এদিন তাঁরা মিষ্টিমুখ করিয়ে সকলকেই সম্প্রীতির বার্তা দিয়েছেন। এদিন ওই এলাকা দিয়ে যাচ্ছিলেন সুশান্ত ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, “ধর্ম ধর্মের জায়গায় মনুষ্যত্ব মনুষ্যত্বের জায়গায়। সেখানে কোনও বিভেদ নেই। মুসলিম ভাইরা লাড্ডু দিলেন। আমরা খেলাম।”
ছবি: মুকুলেসুর রহমান
[আরও পড়ুন: ঢাল ম্যানগ্রোভ, সুন্দরীদের শিকড়ের জোরে বুলবুলের বড় ক্ষতি থেকে রক্ষা সুন্দরবনের]
সর্বশেষ খবর
-
১৪ বছর পর দলীপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার দোরগোড়ায় শামিরা, শেষ দিনে কার্যত নিয়মরক্ষার লড়াই
-
পুজোয় আমিষ নৈব নৈব চ, ফতোয়া না রীতি
-
‘দ্য ভিঞ্চি’ এল রুবিতে! কলকাতায় অস্ত্রোপচারে রোবটিকের নতুন চমক
-
বাড়িতে বানানো গোলাপ জলে পঞ্চমীর আগেই ত্বকে ফিরবে জেল্লা, রইল ২টি পদ্ধতি
-
যোগী সাক্ষাতে টিম ‘হনুমান অংশ’, ধর্মীয় আবেগকে অস্ত্র করে ভোটবাক্স ভরার ধান্দা! তোপ কং নেতার