Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩
  • রবিবার
  • ৯ আগস্ট ২০২৬
মেধাতালিকা

বেহাল পরিকাঠামো নিয়েই সাফল্য, সরকারি স্কুলে পড়ে মেধাতালিকায় পুরুলিয়ার কন্যা

অপর্যাপ্ত শিক্ষিকা নিয়েই পুরুলিয়া সরকারি উচ্চমাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে ছাত্রীদের বাড়তি যত্ন৷

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মে ২৭, ২০১৯, ২০:১০

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মে ২৭, ২০১৯, ২০:১০

options
link
বেহাল পরিকাঠামো নিয়েই সাফল্য, সরকারি স্কুলে পড়ে মেধাতালিকায় পুরুলিয়ার কন্যা zoom
Advertisement

সুমিত বিশ্বাস, পুরুলিয়া: সরকারি স্কুল৷ অথচ পরিকাঠামোগত একগুচ্ছ প্রতিবন্ধকতা৷ প্রায় ছ’বছর ধরে স্থায়ীভাবে স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা নেই। শিক্ষিকাদের শূন্যপদের সংখ্যা কমবেশি দশ। শিক্ষাকর্মী ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মীর সংখ্যাও কম। ফলে মাঝেমধ্যেই পড়ানো ছাড়া শিক্ষাকর্মীদের কাজও সামলাতে হয় শিক্ষিকাদের। এভাবেই হোঁচট খেতে খেতে এগিয়ে চলা পুরুলিয়া সরকারি উচ্চমাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে যেন সহসাই খুশির জোয়ার৷ এই প্রথম উচ্চমাধ্যমিকের মেধাতালিকায় জায়গা করে নিল এই স্কুল। ৪৮৭ নম্বর পয়ে নবম স্থানে রয়েছে এখানকার ছাত্রী অস্মিতা চট্টোপাধ্যায়৷

[আরও পড়ুন: বিজ্ঞান-কলাবিভাগে প্রথম বীরভূমের ২ পুত্র, নজিরবিহীন সাফল্যে উচ্ছ্বসিত জেলাবাসী]

১৯৫০ সালে পথচলা শুরু পুরুলিয়া সরকারি উচ্চমাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের। পিছিয়ে পড়া এই জেলায় নারীশিক্ষাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যেই তৈরি হয়েছিল স্কুলটি৷ তারপর পেরিয়ে গিয়েছে অনেক দিন। কিন্তু কখনোই মাধ্যমিক,উচ্চমাধ্যমিকের মেধাতালিকায় ঠাঁই করে নিতে পারছিল না এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ফলে আফশোসের শেষ ছিল না৷ ২০১৩ সালে প্রথম খরা কাটল৷ মাধ্যমিকের মেধাতালিকায় নাম তুলে ফেলে পুরুলিয়া উচ্চমাধ্যমিক সরকারি বালিকা বিদ্যালয়। কিন্তু উচ্চমাধ্যমিকের মেধাতালিকা যেন অধরাই ছিল। এবার সেই আক্ষেপও মিটে গেল৷ মিটিয়ে দিল অস্মিতা চট্টোপাধ্যায়৷

Advertisement

prl-school

সোমবার সকালে উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ মেধাতালিকা ঘোষণার সময় নবম স্থানে পুরুলিয়ার এই স্কুল এবং অস্মিতার নাম শুনেই আনন্দে নেচে ওঠে এই স্কুলের ছাত্রীরা। উচ্ছ্বাসে ভেসে যান শিক্ষিকারা। একের পর এক অভিভাবক থেকে শিক্ষাদপ্তরের ফোন আসে স্কুলে। আর অস্মিতা স্কুলে পা রাখতেই যেন উৎসব ছড়িয়ে পড়ে। স্কুলের সহ-শিক্ষিকা হাবিবা খানম বলেন, ‘সমগ্র স্কুল নানা সমস্যায় জর্জরিত। তার মধ্যেও আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। এই প্রথম উচ্চমাধ্যমিকের মেধা তালিকায় আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জায়গা করে নেওয়ায় আমরা যে সকলেই কত খুশি তা বোঝাতে পারব না।’ আর অস্মিতার প্রতিক্রিয়া, ‘সকলের নোটস যাতে একইরকম না হয়ে যায় সেই বিষয়টি নিয়েও শিক্ষিকারা ভীষণভাবে সচেতন৷ এই প্রথম উচ্চমাধ্যমিকে মেধা তালিকায় স্কুলের নাম উঠে আসায় আমরা ভীষন খুশি। আর তাতে আমার নাম থাকায় কী যে ভাল লাগছে তা বোঝানোর ভাষা খুঁজে পাচ্ছি না।’ তাই এদিন স্কুলেই চলে মিষ্টিমুখ।

[আরও পড়ুন: ফাঁস রুখতে নয়া উদ্যোগ সংসদের, আগামী বছর থেকে প্রশ্নপত্রেই উত্তর]

শিক্ষিকা কম থাকায় ‘স্কোরিং সাবজেক্ট’ অর্থাৎ এডুকেশন, নিউট্রিশন, মনোবিদ্যা, কম্পিউটার অ্যাপ্লিকেশনর মত বিষয়গুলি থেকে বঞ্চিত ছাত্রীরা। তারা বলছেন,  ‘ওই বিষয়গুলো পেলে ফল আমাদের আরও ভাল হত। আমরা বারবার শিক্ষা দপ্তরে বলেছি শিক্ষিকার শূণ্যপদ পূরণ করতে। কিন্তু তা হয়নি।’ শিক্ষিক সংকটের মধ্যেও স্মার্ট ক্লাস থেকে ছাত্রীরা দারুণভাবে উপকৃত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন অভিভাবকরা৷ তবে এবার পুরুলিয়া সরকারি উচ্চমাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় থেকে মেধাতালিকায় নাম উঠে আসায় কর্তৃপক্ষ ফের আশায় বুক বাঁধছে, তাদের সমস্যার সমাধান এবার ঠিক হয়ে যাবে৷

prl-school-n

ছবি: সুনীতা সিং৷

Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.