স্টাফ রিপোর্টার: সরকারি সার্ভিস রুল অনুযায়ী পশ্চিম মেদিনীপুরের এসপি থেকে বারাকপুরের পুলিশ ব্যাটালিয়নে বদলি হতেই চাকরিতে ইস্তফা দিলেন ভারতী ঘোষ। ২৫ ডিসেম্বর তাঁকে নবান্নের তরফে এই বদলির সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু তার পরদিনই তিনি রীতি ভেঙে চারজন অফিসার ও ৮৬ জন কনস্টেবলকে ‘ইচ্ছানুযায়ী’ বদলি করিয়ে দেন। যাঁরা এতদিন তাঁর স্নেহভাজন ছিলেন বলে অভিযোগ। প্রশ্ন উঠেছে, নবান্নের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বদলির নির্দেশ কার্যকর হওয়ার পরেও একজন ‘তদারকি পুলিশ সুপার’ কীভাবে ৯০ জন পুলিশ কর্মীর ক্ষেত্রে নিজের সিদ্ধান্ত বহাল রাখলেন! স্বভাবতই ঘটনায় বেশ অসন্তুষ্ট হয় নবান্নের শীর্ষমহল। তা আঁচ করেছিলেন ভারতীও। তারই মধ্যে তিনি বুধবার রাজ্য পুলিশের ডিজি সুরজিৎ কর পুরকায়স্থর কাছে ইস্তফাপত্র পাঠিয়ে দেন।
[ভূত খুঁজতে কুখ্যাত বেগুনকোদরে রাত জাগা শুরু প্রশাসনের]
দীর্ঘদিন ধরেই তাঁর বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ উঠছিল নানা মহলে। একইসঙ্গে বদলি হওয়ার পরেও জেলা পুলিশে নানা সিদ্ধান্ত নেওয়ার ঘটনায় রাজ্য পুলিশের শীর্ষমহল যথেষ্ট অসন্তুষ্ট তা বুঝিয়ে দিচ্ছেন কর্তারা। বৃহস্পতিবার দুপুরে নবান্নসূত্রে খবর, মুখ্যসচিব মলয় দে তাঁর ইস্তফাপত্র গ্রহণ করার নির্দেশ দিয়েছেন। যদিও কেন এই ইস্তফা এবং তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা নানা অভিযোগ পুরো বিষয়টিই খতিয়ে দেখছে স্বরাষ্ট্র দপ্তর। তবে বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত তাঁর এই সিদ্ধান্ত নিয়ে স্বয়ং ভারতী ঘোষের কোনও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। গত সোমবার রাতে নবান্নের তরফে পাঁচ অফিসারের বদলির নির্দেশ জারি করা হয়। সেখানে ভারতীর নাম ছিল। তাঁর জায়গায় পশ্চিম মেদিনীপুরের পুলিশ সুপার পদে পাঠানো হয় অলোক রাজোরিয়াকে। এই সিদ্ধান্তই বুঝিয়ে দিয়েছিল ভারতীর উপর আর আস্থা রাখতে রাজি নয় নবান্ন। তাঁকে বারাকপুর তিন নম্বর ব্যাটালিয়নের কমান্ডার পদে নিযুক্ত করা হয়। কিন্তু সেই পদ যে তাঁর মনমতো হয়নি তা প্রথম থেকেই বুঝিয়ে দিচ্ছিলেন ভারতী। শোনা যায় মঙ্গলবার রাতেই তিনি মেদিনীপুর জেলা ছেড়ে বেরিয়ে আসেন। এর মধ্যেই জানা যায়, তিনি ইস্তফাপত্র দিয়েছেন। তিনি যে নতুন জায়গায় কাজে যোগ দেবেন না, তা নিশ্চিত করতে ইস্তফাপত্রের পাশাপাশি ৯০ দিনের ছুটিও চেয়েছেন বলে সূত্রের খবর। দীর্ঘদিন তিনি ঝাড়গ্রাম ও পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার পুলিশ সুপার ছিলেন। পশ্চিম মেদিনীপুরের বিদায়ী পুলিশ সুপারের এমন সিদ্ধান্তে প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। কী কারণে ভারতী এই সিদ্ধান্ত নিয়েছন, তা নিয়ে নানা মহলে নানা মত দেখা পাওয়া যাচ্ছে।
[এভাবেই জানুয়ারিতে টানা ৯ দিন ছুটি পেতে পারেন সরকারি কর্মীরা]
ভারতী ঘোষের ইস্তফাপত্রের পরই পূর্ব মেদিনীপুরের পুলিশ সুপার হিসাবে নিযুক্ত করা হয় ভি সলোমন নিশাকুমারকে। গত ২৫ ডিসেম্বর নবান্ন থেকে ভারতীর বদলির নির্দেশ যায়। এরপরই তিনি রাজ্য পুলিশের ডিজি সুরজিৎ কর পুরকায়স্থর কাছে নিজের পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দেন। একইসঙ্গে তিনি তিন মাসের ছুটির আবেদনও করেন। এদিকে এই ঘটনায় রাজ্য পুলিশের বিভিন্ন মহলে নানা চর্চা শুরু হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে একাধিক অভিযোগ উঠতে শোনা গিয়েছে পশ্চিম মেদিনীপুরে। অভিযোগ, তিনি নিজের কিছু পেটোয়া অফিসারকে নিয়ে একটা বৃত্ত তৈরি করেছিলেন। যখন তখন যাঁকে খুশি বদলি এবং কারও কারও পছন্দমতো পোস্টিং পাইয়ে দিতেন। যা খুশি তাই করতেন। আর তা যে ভালভাবে নেয়নি নবান্ন, ভারতীর সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তেই তা প্রমাণিত। নবান্নের সক্রিয়তা বুঝিয়ে দিয়েছে, একজন জেলা পুলিশ সুপার হিসাবে নিজের বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়ে ফেলেছেন ভারতী। অভিযোগ, তাঁর আস্থাভাজন পুলিশ কর্মীরা নানা সময়ে বিভিন্ন বেআইনি কাজে জড়িত হলেও তিনি কোনও ব্যবস্থা নেননি। তবে তাঁর বদলির সিদ্ধান্ত নিয়ে যত না চর্চা, তার থেকে অনেক বেশি জল্পনা তৈরি হয়েছে তাঁর চাকরিতে অব্যাহতি চাওয়ার সিদ্ধান্ত ঘিরে।
[জানেন কি, ১ টাকার ছোট কয়েন না নিলে হতে পারে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড?]
সর্বশেষ খবর
-
বারুইপুরে নাবালিকাকে ধর্ষণ করে খুন! রবি সকালে পুকুরে উদ্ধার দেহ, বিক্ষোভ জনতার
-
৩১৩ কোটি টাকা বরাদ্দ, চা শ্রমিকদের জন্য বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর
-
ইনস্টাগ্রামে যৌন নির্যাতন সংক্রান্ত কনটেন্ট! বিতর্কে মেটা
-
বিশ্বের শক্তিশালী পাসপোর্টের তালিকায় ফের পিছোল ভারত, কোথায় বাংলাদেশ-পাকিস্তান?
-
চুরি বন্ধ হতেই হু হু করে বাড়ছে রাম মন্দিরের আয়, দৈনিক কত অনুদান জমা পড়ছে দানবাক্সে?