Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
  • সোমবার
  • ১০ আগস্ট ২০২৬
তারুণ্য শিলিগুড়ি

পাঁচ টাকায় পোশাক, দুঃস্থদের কাছে কল্পতরু শিলিগুড়ির ‘তারুণ্য’ বিপণী

প্রতিদিন দুপুর ১২টা থেকে ১টা পর্যন্ত খোলা থাকছে এই দোকান।  

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: সেপ্টেম্বর ২০, ২০১৯, ১২:২২

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: সেপ্টেম্বর ২০, ২০১৯, ১২:২২

options
link
পাঁচ টাকায় পোশাক, দুঃস্থদের কাছে কল্পতরু শিলিগুড়ির ‘তারুণ্য’ বিপণী zoom
Advertisement

সংগ্রাম সিংহরায়, শিলিগুড়ি: পাঁচ টাকায়  স্বপ্নপূরণ। হ্যাঁ, স্বপ্নপূরণই বটে। কারণ, ওই টাকাতেই মিলছে জামা, প্যান্ট, গেঞ্জি, পাঞ্জাবি থেকে শাড়ি। এমনকী অন্যান্য পরিধেয়ও। এমন অভিনব সুযোগ মিলছে খাস শিলিগুড়ির বুকে। অবিশ্বাস্য হলেও এটাই বাস্তব। উদ্যোগী? ‘ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানো’ মানবিক উদ্যমী কয়েকজন তরুণ। আর তাই নিজেদের উদ্যোগের সঙ্গে মিলিয়ে বিপণীর নাম দিয়েছেন ‘তারুণ্য’। এমন অভিনব উদ্যোগের কারণ, দুঃস্থ মানুষদের মুখে হাসি ফোটানো। যাতে পুজোতে তারাও আর পাঁচ জনের মতোই ভাল জামা-কাপড় পরে বেড়াতে পারে। তাঁদের বিপণীর পোশাকে সেজে কয়েক হাজার মানুষ অন্তত প্রতিমাদর্শনে বের হতে পারবেন। আর এটাই উদ্যোগীদের মূল লক্ষ্য।

[আরও পড়ুন: শিল্পীর হাত ধরে এবার সোনায় মুড়বে উত্তর কলকাতার এই পুজো মণ্ডপ ]

তবে এসমস্ত পোশাক কিন্তু নতুন নয়, সবই আগে ব্যবহৃত। তাতে কী? অনেকের কপালে তো দু’মুঠো অন্নই জোটে না, পোশাক তো দূরের কথা! তবে ‘তারুণ্য’ উদ্যোগীদের কথায়, পুরনো হলেও প্রতিটি পোশাকই ভালো মানের। তা কোথায় মিলবে ৫ টাকা দামী ওই জামা-কাপড়? উত্তরকন্যা লাগোয়া কামরাঙাগুড়ি বাজারে প্রতিদিন দুপুর ১২টা থেকে ১টা পর্যন্ত এই দোকান খোলা থাকছে। তবে ১টা বেজে গেলেই কিন্তু সেদিনের মতো ঝাপ বন্ধ দোকানের। পরদিন আবার দোকান খুলবে ১২টায়। তবে নির্ধারিত সময়ের ঢের আগেই বহু লোকজন ভিড় করছেন দোকানে। সবাই যে কিনতে আসেন, এমনটা নয়। অনেকেই এই ধরনের উদ্যোগের কথা শুনে এমন অসম্ভব দোকান শুধুমাত্র চোখের দেখা দেখতে আসেন। ছবি তো তোলেনই, সঙ্গে সাধুবাদও জানিয়ে যান। মাত্র কয়েকদিনেই জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে শিলিগুড়ির ‘তারুণ্য’।

Advertisement

‘তারুণ্য’ উদ্যোগীদের নিজেদের যে বিশাল আর্থিক সঙ্গতি রয়েছে তা নয়, এদিক সেদিক থেকে অর্থ সংগ্রহ করে দুঃস্থদের পোশাক বিলি করেন তাঁরা। আগে বিনা পয়সাতেই দেওয়া হত। অনেকেই তা নিতে রাজি হত না। তাই যৎসামান্য টাকার বিনিময়ে এবার পোশাকের ব্যবস্থা করেছে তারুণ্য, জানালেন অন্যতম উদ্যোক্তা প্রিয়া রুদ্র। ‘তারুণ্য’র ডাকে সাড়া দিয়ে অনেকেই স্টলে দিয়ে যাচ্ছেন নতুন পোশাক। অনেকে  আবার অব্যবহৃত পোশাকও রেখে যাচ্ছেন। দিয়ে যাওয়া পোশাকগুলি অবশ্য ধুয়ে ইস্ত্রি করিয়ে তারপরই বিক্রি করা হচ্ছে। পছন্দ করে মাপসই জামা নিয়ে যাচ্ছেন অনেকেই।  দোকান বলতে একচিলতে আলমারির মতো তৈরি করা হয়েছে। তাই দোকান বন্ধ থাকলে পাশের একটি দোকানে রাখা হয় পোশাক। প্রতিদিন বিপণি খোলার দায়িত্ব সুদীপ্তর। আগামীতে শহরের বিভিন্ন প্রান্তে আরও এমন কয়েকটি দোকান খোলার পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান তাঁরা। 

[আরও পড়ুন: পুজোর মুখে জনসংযোগে জোর, ‘চায়ের আড্ডা’ই হাতিয়ার তৃণমূল ছাত্র পরিষদের ]

এর আগে চা বাগানে ঘুরে খাবার ও পোশাক বিলি করেছেন ‘তারুণ্য’র প্রিয়া, সুদীপ্তরা। ওসব দুঃস্থ মানুষগুলির মুখের হাসিই এমন অভিনব উদ্যোগ নিয়ে ‘তারুণ্য’র মতো বিপণী খুলতে উৎসাহ যোগায়, জানালেন প্রিয়া, রনিরা। তবে পোশাকের মূল্য হিসেবে যে ৫ টাকা নেওয়া হয়, তা দিয়ে আবার দুঃস্থ শিশুদেরই খাতা, কলম ও পড়াশোনার সামগ্রী কিনে দেওয়া হয়।

Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.