Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ১ আশ্বিন ১৪৩৩
  • শুক্রবার
  • ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Shantipur

চলন্ত ট্রেনের কামরায় বিশ্বকর্মার আরাধনা! ২০ বছরে পা দিল শান্তিপুর-শিয়ালদহ লোকালের পুজো

২৯ বছর ধরে ধানবাদ-হাওড়া কোলফিল্ড এক্সপ্রেসে একই ভাবে বিশ্বকর্মাপুজোর আয়োজন করেন নিত্যযাত্রীরা।

স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার

শেষ আপডেট: সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬, ১৩:৫৬

link
স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার

শেষ আপডেট: সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬, ১৩:৫৬

options
link
চলন্ত ট্রেনের কামরায় বিশ্বকর্মার আরাধনা! ২০ বছরে পা দিল শান্তিপুর-শিয়ালদহ লোকালের পুজো zoom
চলন্ত ট্রেনের কামরায় চলছে বিশ্বকর্মা পুজো। নিজস্ব ছবি।
Advertisement

পুজোর মণ্ডপে নয়, কোনও কারখানার চৌহদ্দিতেও নয়—এখানে দেবশিল্পীর আরাধনা হয় ছুটন্ত ট্রেনের কামরায়। লোহার চাকায় ভর করে প্রতিদিন যে ট্রেন হাজার হাজার মানুষকে কর্মস্থলে পৌঁছে দেয়, সেই ট্রেনের কামরাই বিশ্বকর্মা পুজোর দিন হয়ে ওঠে এক অভিনব মন্দির। ডাউন শান্তিপুর-শিয়ালদহ লোকালের প্রথম কামরার দ্বিতীয় গেটের নিত্যযাত্রীদের উদ্যোগে আয়োজিত এই ভ্রাম্যমাণ বিশ্বকর্মা পুজো এবার পা দিল কুড়িতম বর্ষে। অন্যদিকে, ২৯ বছর ধরে ধানবাদ-হাওড়া কোলফিল্ড এক্সপ্রেসে একই ভাবে বিশ্বকর্মাপুজোর আয়োজন করেন নিত্যযাত্রীরা।

প্রায় ২০ বছর আগে মাত্র ৩০ জন নিত্যযাত্রীকে নিয়ে শুরু হয়েছিল এই উদ্যোগ। বর্তমানে সেই পরিবারের সদস্য সংখ্যা বেড়ে ১৭৫ ছাড়িয়েছে। চাকরিজীবী থেকে ব্যবসায়ী, হকার—পেশা আলাদা হলেও ট্রেনের কামরায় তাঁদের সম্পর্ক যেন এক পরিবারের। তাঁদের জীবিকা, কর্মস্থলে পৌঁছনো এবং প্রতিদিনের যাতায়াতের অন্যতম ভরসা এই রেলপথ। তাই বিশ্বকর্মার আরাধনাও তাঁরা করেন নিজেদের চলন্ত বাহনকে ঘিরেই।

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

পুজোর দিন সকাল থেকেই শান্তিপুর স্টেশনে শুরু হয় সাজসজ্জা। ফুলের মালা ও কলাগাছ দিয়ে সাজানো হয় কামরা। স্টেশন মাস্টার ও আরপিএফ কর্মীদের মিষ্টি বিতরণ করে শুরু হয় যাত্রা। ট্রেন চলতে শুরু করলেই কামরার ভিতরে চলে নৈবেদ্য সাজানো ও পুজোর প্রস্তুতি।

রানাঘাটে পুরোহিত পুজোয় বসেন। শ্যামনগর পৌঁছনোর পর সম্পন্ন হয় আরাধনা। এরপর ব্যারাকপুর পর্যন্ত চলে প্রসাদ বিতরণ। শিয়ালদহ পৌঁছে যাত্রীরা কর্মস্থলের পথে বেরিয়ে গেলেও, বিশ্বকর্মা থেকে যান সেই কামরাতেই। রাতের শেষে কারশেডে প্রতিমা নামিয়ে পরেরদিন হবে বিসর্জন। বিশ্বাস, ভক্তি আর নিত্যযাত্রার সম্পর্ক—এই তিনের মেলবন্ধনেই লোহার চাকায় ছুটতে ছুটতে প্রতি বছর পূর্ণতা পায় এই অভিনব বিশ্বকর্মা পুজো।

অন্যদিকে, ধানবাদ-হাওড়া কোলফিল্ড এক্সপ্রেসের ডেইলি প্যাসেঞ্জারদের কাছে বিশ্বকর্মা পুজো মানেই এক অন্যরকম আবেগ। বছরের পর বছর একই ট্রেনে যাতায়াত করতে করতে যাত্রীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে আত্মিক সম্পর্ক। কেউ আসানসোলের, কেউ বরাকরের, কেউ ধানবাদের, আবার কেউ দুর্গাপুরের। কিন্তু ট্রেনের কামরায় উঠলেই যেন দূরত্ব মুছে যায়। সকলেই হয়ে ওঠেন একই পরিবারের সদস্য। বিশ্বকর্মা পুজোর প্রায় এক সপ্তাহ আগে থেকেই শুরু হয়ে যায় প্রস্তুতি। নিত্যযাত্রীরাই নিজেদের মধ্যে চাঁদা তোলেন। সেই টাকাতেই চলে পুজোর যাবতীয় আয়োজন। কে কী করবেন, কীভাবে পুজোর ব্যবস্থা হবে, কোথায় প্রতিমা বসানো হবে সবকিছু নিয়েই শুরু হয় ব্যস্ততা। পুজোর দিন নির্দিষ্ট কামরায় বসানো হয় বাবা বিশ্বকর্মার মূর্তি। চলন্ত ট্রেনের মধ্যেই নিয়ম মেনে হয় পুজো অর্চনা। যাত্রাপথের মধ্যেই ভক্তিভরে বিশ্বকর্মার আরাধনায় সামিল হন নিত্যযাত্রীরা। পুজো শেষে হয় প্রসাদ বিতরণ। সঞ্জয় চট্টোপাধ্যায় নামের এক প্যাসেঞ্জার বলেন,”২৯ বছর ধরে ট্রেনের ভেতরে এইভাবে বিশ্বকর্মার পুজো হয়। পুজো শেষে সমস্ত যাত্রীদের খাওয়ানো হয় প্রসাদ। এই পুজো মিলন উৎসবে পরিণত হয়।”

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.