সিনেদুনিয়ার সাত দশকের প্রথা ভেঙে দিল্লির গণ্ডি পেরিয়ে এবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের আসর বসেছে গুজরাতে। মঙ্গলবার সকালেই গুজরাতের একতানগরে পৌঁছে গিয়েছেন ৭২তম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের বিজয়ীরা। তালিকায় রয়েছেন কার্তিক আরিয়ান, ধনুশ, মামুট্টি, ইয়ামি গৌতম, আদিত্য ধর, রণদীপ হুডা-সহ আরও অনেকেই। জুন মাসেই জানা গিয়েছিল যে, চলতিবারে জাতীয় মঞ্চে বাংলার প্রতিনিধিত্ব করতে চলেছে ‘চালচিত্র এখন’ এবং ‘অঙ্ক কী কঠিন’। মঙ্গলবার গুজরাতে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর হাত থেকে পুরস্কার গ্রহণ করলেন বাংলার শিল্পীরা।
“আমার কাছে সবথেকে বড় পাওনা হল, আমি আর নীল নিজেদের পয়সা দিয়ে এই সিনেমাটা করতে পেরেছি।…”
আরও পড়ুন:
সেরা বাংলা ছবি হিসেবে অঞ্জন দত্তের ‘চালচিত্র এখন’-এর ঝুলিতে এল জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। এহেন সম্মাননায় অঞ্জন জানালেন, “আমার কাছে সবথেকে বড় পাওনা হল, আমি আর নীল নিজেদের পয়সা দিয়ে এই সিনেমাটা করতে পেরেছি। এটা যদি অন্য কারও টাকায় হত, তাহলে এই পুরস্কার বা সম্মাননা অতটা বড় হত না। নিজেদের কষ্টার্জিত অর্থে তৈরি সিনেমার পুরস্কারপ্রাপ্তি আমার কাছে অনেক দামি। এই সিনেমা ঢাকা থেকে প্যারিস, মাদ্রিদ যেখানে গিয়েছে মানুষের মন জয় করেছে। অবশেষে জাতীয় পুরস্কার প্রাপ্তি অবশ্যই একটা বড় মাইলফলক। নীল আর আমি আজ দু’জনেই এখানে এসেছি। ও প্রযোজক হিসেবে আমি পরিচালক হিসেবে।”
“‘চন্দু চ্যাম্পিয়ন’-এর মাধ্যমে আমরা যে সফর শুরু করেছিলাম এবং এই ছবিটি অনেক মানুষকে, বিশেষ করে প্যারালিম্পিয়ানদের অনুপ্রাণিত করছে।…”

অন্যদিকে ‘চন্দু চ্যাম্পিয়ন’-এর জন্য প্রথমবার জাতীয় পুরস্কার জয়ের স্বাদ পেলেন কার্তিক আরিয়ান। সেরা অভিনেতা হিসেবে পুরস্কৃত হয়ে অভিনেতার মন্তব্য, “‘চন্দু চ্যাম্পিয়ন’ সিনেমার জন্য প্রথম জাতীয় পুরস্কার আমার হাতে উঠল। আমি সত্যিই অত্যন্ত আনন্দিত। আমার পুরো পরিবার এবং আমাদের পুরো টিম এই সাফল্যে উচ্ছ্বসিত। ‘চন্দু চ্যাম্পিয়ন’-এর মাধ্যমে আমরা যে সফর শুরু করেছিলাম এবং এই ছবিটি অনেক মানুষকে, বিশেষ করে প্যারালিম্পিয়ানদের অনুপ্রাণিত করছে। সেকথা মাথায় রেখেই আমাদের এই সিনেমাকে জাতীয় পুরস্কারে পুরস্কৃত করার জন্য জুরি সদস্য এবং আসমুদ্রহিমাচলের দর্শকের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।” উল্লেখ্য, ‘ব্রহ্মযুগনাম’ সিনেমার জন্য যৌথভাবে সেরা অভিনেতার পুরস্কার পেয়েছেন মামুট্টি। প্রবীণ দক্ষিণী তারকা মঞ্চে উঠে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর হাত থেকে পুরস্কার নিতেই উপস্থিত সকলে তাঁকে দাঁড়িয়ে সম্মান প্রদর্শন করেন।
পয়লাবারেই জাতীয় পুরস্কারের মঞ্চে ‘সেরা ডেবিউ পরিচালক’ হিসেবে পুরস্কৃত হলেন রণদীপ। ৭২তম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের মঞ্চে একাধিক বিভাগে পুরস্কৃত হয়েছে ‘আর্টিকল ৩৭০’।
উল্লেখ্য, ‘স্বতন্ত্র বীর সাভারকর’ ছবির সুবাদে প্রথমবার পরিচালক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছেন রণদীপ হুডা। আর পয়লাবারেই জাতীয় পুরস্কারের মঞ্চে ‘সেরা ডেবিউ পরিচালক’ হিসেবে পুরস্কৃত হলেন রণদীপ। ৭২তম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের মঞ্চে একাধিক বিভাগে পুরস্কৃত হয়েছে ‘আর্টিকল ৩৭০’। এই ছবির জন্য সেরা অভিনেত্রী হিসেবে পুরস্কৃত হলেন ইয়ামি গৌতম। অন্যদিকে সেরা ফিচার ফিল্ম বিভাগে জিতে পরিচালক হিসেবে পুরস্কার গ্রহণ করলেন ‘ধুরন্ধর’ পরিচালক আদিত্য ধর। তিনি অবশ্য এখন থেকেই পরেরবার ‘ধুরন্ধর ফ্র্য়াঞ্চাইজির জাতীয় পুরস্কার জয় নিয়ে আশাবাদী। এদিন অনুষ্ঠানের রেড কার্পেটে দাঁড়িয়ে তেমনটাই ইঙ্গিত দিয়েছেন পরিচালক। অতঃপর ইয়ামি-আদিত্যর ঘরে এবার জোড়া জাতীয় পুরস্কার জয়ের উচ্ছ্বাস। মঙ্গলবার দাদাসাহেব ফালকে সম্মানে ভূষিত হলেন অনন্ত নাগও।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
পড়ুয়াহীন স্কুলে কি তালা ঝুলবে? বিরোধীদের ‘অপপ্রচারের’ মধ্যে কী জানালেন মন্ত্রী
-
সুদিন নয়, দুর্দিনেরও বন্ধু! কঠিন সময়ে মাতৃহারা রানির পাশে থাকতে ছুটে গেলেন শাহরুখ
-
পুজোর আগে শিল্পা শেট্টির মতো ‘ফিট’ লুক চান? নিয়মিত করুন এই যোগাসন
-
‘দেশে ফিরছি ডিসেম্বরেই, জনতার কল্যাণে কারাবাসের মূল্য দিতেও রাজি’, হুঙ্কার হাসিনার
-
থার্ড আম্পায়ার ছাড়াই খেলা, ভারত-জাপান ম্যাচে নিজেই সিদ্ধান্ত বদলালেন আম্পায়ার, কী বলছে নিয়ম?