BREAKING NEWS

৩১ আশ্বিন  ১৪২৮  সোমবার ১৮ অক্টোবর ২০২১ 

READ IN APP

Advertisement

‘পর্ন ফিল্ম করলে বেশ করেছে’, ওয়েব সিরিজের নায়িকা শ্রীতমাকে জোরাল সমর্থন মায়ের

Published by: Bishakha Pal |    Posted: August 8, 2019 5:01 pm|    Updated: August 8, 2019 8:25 pm

Stand by my daughter on bold scene, says Sritama Dey's mother

ওয়েব সিরিজে তাঁর বোল্ড সিন নজর কেড়েছে। শ্রীতমা দে’র সঙ্গে কথা বললেন কোয়েল মুখোপাধ্যায়

টলিউডের উঠতি তারাদের মধ্যে আপনার নাম গোনা হচ্ছে। অল্প সময়েই যে সাফল্য পেয়েছেন, ক্রেডিট কাকে দেবেন?

শ্রীতমা: ইন্ডাস্ট্রিতে আমার গডফাদার নেই। বাবা-মা আমার সবচেয়ে বড় সাপোর্ট। ওয়েব সিরিজে যে ধরনের সাহসী কাজ করেছি, সেগুলো করার ইচ্ছে থাকলেও অনেকেই করতে পারে না। পরিবারের সাপোর্ট না থাকলে করা যায় না। তবে যে সাফল্যের কথা বলছেন, আমার চোখে সেগুলো ছোট ছোট কয়েকটা সিঁড়ি। এখন যেখানে দাঁড়িয়ে আছি, সেখান থেকেই আসল জার্নিটা শুরু। নিজেকে প্রমাণ করার এটাই সময়।

টলিউড বা বলিউড, অনেক অভিনেত্রী এখনও পর্দায় চুমু খাবেন না বা শয্যাদৃশ্যে অভিনয় করবেন না বলে আগাম শর্ত দিয়ে রাখেন। কিন্তু আপনার ‘চরিত্রহীন’ বা ‘ধানবাদ ব্লুজ’-  দু’টোই খোলামেলা দৃশ্যে ভরপুর।

শ্রীতমা: আমি যখন যে চরিত্রে অভিনয় করি, তাকে অনুভব করে, ভালবেসে করি। পর্দায় সে যা কিছু করছে, সেটা গল্পের জন্য কতটা দরকার, সেটা বুঝে করি। ‘চরিত্রহীন’-এ সৌরভের সঙ্গে (সৌরভ দাস) আমার যেটুকু অন্তরঙ্গ দৃশ্য, সেটা গল্পের স্বার্থে জরুরি ছিল বলেই করেছি। চরিত্রের স্বার্থে, গল্পের স্বার্থে প্রয়োজন হলে একশোবার সাহসী দৃশ্যে অভিনয় করব।

[ আরও পড়ুন: বলিউডের মোহে হাতের লক্ষ্মী পায়ে ঠেলব কেন: রণবিজয় সিং ]

অভিনয়ে এলেন কীভাবে?

শ্রীতমা: ইন্টিরিয়র ডিজাইনিংয়ে গ্র‌্যাজুয়েশন কমপ্লিট করি ২০১৫ সালে। প্রথমে মডেলিং ট্রাই করলাম। বিউটি প্যাজেন্টে পার্টিসিপেট করতাম। কিছু দিন পরে মনে হল, মডেলিংটা পোষাচ্ছে না। আমার আসল খিদে অভিনয়। এক বন্ধুর মাধ্যমে ছবি পাঠালাম কালার্স বাংলায়। পরদিনই ডাক আসে অডিশনের। তিন মাস পর ‘এ আমার গুরুদক্ষিণা’ ধারাবাহিকে অভিনয়ের সুযোগ পাই।

তারপরই কি ‘চরিত্রহীন’ ওয়েব সিরিজ?

শ্রীতমা: একদম। ২০১৮ সালে ‘এ আমার গুরুদক্ষিণা’ বন্ধ হয়ে যায়। তারপরই ‘চরিত্রহীন’-এর অফার আসে। কিছু দিন বাদে ‘ধানবাদ ব্লুজ’।

টাইপকাস্ট হয়ে যাওয়ার ভয় নেই?

শ্রীতমা: টাইপকাস্ট হতে চাই না। অনেকেই মনে করেন বোল্ড সিনে অভিনয় করা মানে শুধু ওই ধরনের ছবিতেই আমায় কাস্ট করা যাবে। কিন্তু তা নয়। ‘ধানবাদ ব্লুজ’ করার পর এক ধাঁচের অনেক ছবির অফার পেয়েছিলাম। সচেতনভাবে এড়িয়ে গিয়েছি। আর একটা কথা। দু’টো সিরিজ করার পর আমি অনেকের থেকে টেক্সট মেসেজ পেয়েছি। সকলেই আমার সাহসের প্রশংসা করেছেন।

কতটা সহজ ছিল ‘ধানবাদ ব্লুজ’-এ রজতাভ দত্তকে ওই রকম প্যাশনেটভাবে চুমু খাওয়া?

শ্রীতমা: সহজ ছিল না একেবারেই। (হাসি) তবে সিনটা কিন্তু ওয়ান শট ওকে ছিল! আর সিনটা হওয়ার পর রনিদা (রজতাভ দত্ত) পিঠ চাপড়ে দিয়ে বলেছিল, ‘খুব ভাল’!

‘চরিত্রহীন’ এবং ‘ধানবাদ ব্লুজ’ আপনার বাবা-মা দেখেছেন?

শ্রীতমা: দেখেছেন।

আপনারা একসঙ্গে বসে দেখেছেন?

শ্রীতমা: না, একসঙ্গে বসে দেখা হয়নি। আমি বহরমপুরের মেয়ে। কাজের সূত্রে কলকাতায় থাকি, দাদার সঙ্গে। বাবা-মা খড়গপুরে থাকেন। ওঁরা ওখানেই দু’টো সিরিজ দেখেছেন।

দেখার পর তাঁদের প্রতিক্রিয়া?

শ্রীতমা: ‘ধানবাদ ব্লুজ’-এর অন্যতম প্রধান বিষয় ছিল পর্ন ফিল্মমেকিং। আমার এক আত্মীয় সেটাকে ব্লু ফিল্ম ভেবে ভুল করেছিলেন। তিনি মা-কে ফোন করে বলেন, “বউদি, পায়েল (আমার ডাকনাম) এটা কী করেছে? পর্ন ফিল্ম করেছে?” মা তখন জবাব দিয়েছিল, “হ্যাঁ, খুব ভাল করেছে তো! তোমার দাদাও বলল, মেয়ে খুব ভাল কাজ করেছে।” শুনে খুব অবাক হয়েছিলাম। মা এটা বলতে পেরেছে! পাশাপাশি ভালও লেগেছিল ভেবে, বাবা-মা আমার কাজকে সাপোর্ট করে। সকলের এমন ভাগ্য হয় না!

[ আরও পড়ুন: উপোসেই হয়ে উঠুন রূপসী, পুজোর আগে মেদ ঝরাতে রইল টিপস ]

বাস্তবেও কি আপনি এতটাই সাহসী?

শ্রীতমা: রিয়েল লাইফেও আমি বরাবরের ঠোঁটকাটা।  

অঞ্জন দত্তর ‘সাহেবের কাটলেট’-এ অভিনয়ের সুযোগ কীভাবে এল?

শ্রীতমা: গ্রিনটাচ প্রোডাকশন হাউস থেকে অডিশনে ডাকা হয়েছিল। তখন জানতাম না ‘সাহেবের কাটলেট’-এর অডিশন। ওখানে পৌঁছে দেখি, অঞ্জন স্যর অপেক্ষা করছেন। যখন মেকআপ নিচ্ছি, স্যর রুমে এলেন। একটু কথা বললেন, লুকের ছবি তোলা হল।  তারপর বললেন, “একটা সিচুয়েশন দিচ্ছি। ক্যামেরার সামনে যেমন খুশি রিঅ্যাক্ট করো।” ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। যেমন মনে হল, করলাম। হয়ে যাওয়ার পর স্যর দুটো কাঁধ ধরে ঝাঁকিয়ে বলেছিলেন, “ভেরি নাইস!” (হাসি) কস্টিউম চেঞ্জ করে আসার পর জানালেন, প্রধান চরিত্রের জন্য আমাকে ভাবছেন। আমার তখনও বিশ্বাস হচ্ছিল না! ভাবতাম, অঞ্জন দত্তর মতো পরিচালক তাঁর ছবিতে আমার মতো নতুন মুখ আদৌ নেবেন? তা-ও লিড রোলে? তারপর বেশ কয়েকটা ওয়ার্কশপ হল, ফাইনাল লুক টেস্ট হল, মহরত হল। তারপর বিশ্বাস হল কাজটা আমিই করছি!

ছবিতে নাকি গানও গাইছেন?

শ্রীতমা: হ্যাঁ। আমি নিজে তো জানি কী বিচ্ছিরি গান গাই! গান গাইতে হবে জেনেই নীলদার (সুরকার নীল দত্ত) শরণাপন্ন হয়েছিলাম। নীলদা বলল, “পারবি।” আল্টিমেটলি খুব সুন্দর রেকর্ডিং হয়েছে। ছবির সব অভিনেতা-অভিনেত্রীই গানটা গেয়েছে।

শ্রীতমা দে’র জীবনে কি বিশেষ কেউ আছেন?

শ্রীতমা: এই মুহূর্তে প্রেমই বলুন আর ভালবাসা, দু’টোই আমার কাছে অভিনয়।

Sangbad Pratidin News App: খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
নিয়মিত খবরে থাকতে লাইক করুন ফেসবুকে ও ফলো করুন টুইটারে

Advertisement

Advertisement