১২ জ্যৈষ্ঠ  ১৪২৬  সোমবার ২৭ মে ২০১৯ 

Menu Logo নির্বাচন ‘১৯ দেশের রায় LIVE রাজ্যের ফলাফল LIVE বিধানসভা নির্বাচনের রায় মহানগর রাজ্য দেশ ওপার বাংলা বিদেশ খেলা বিনোদন লাইফস্টাইল এছাড়াও ফটো গ্যালারি ভিডিও গ্যালারি ই-পেপার

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: বাংলার সংগীত জগতে ইন্দ্রপতন। চলে গেলেন লোকগানের কিংবদন্তি শিল্পী অমর পাল। তাঁর বয়স হয়েছিল ৯৮ বছর। মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের জন্য ভর্তি ছিলেন এসএসকেএম হাসপাতালে। শনিবার বিকেল সাড়ে পাঁচটা নাগাদ হাসপাতালেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই প্রবাদপ্রতীম শিল্পী। স্ত্রী পুতুল রানী পাল প্রয়াত হয়েছেন অনেক আগেই।

[আরও পড়ুন:  ভূতের ছবির শুটিং করতে গিয়ে হাড় ভাঙল ভিকি কৌশলের, গালে ১৩টি সেলাই]

অবিভক্ত বাংলাদেশে ১৯২২ সালের ১৯ মে জন্মগ্রহণ করেন অমর পাল। বর্তমানে যেই জায়গা বাংলাদেশের ব্রাহ্মণবেড়িয়া নামে পরিচিত। পিতার নাম মহেশ চন্দ্র পাল এবং মাতা দুর্গাসুন্দরী পাল। ১০ বছর বয়সেই বাবাকে হারিয়ে গোটা সংসারের দায়ভার তুলে নিয়েছিলেন নিজের কাঁধে। তবুও, গান ছাড়েননি তিনি। তিনি বলতেন, গানের মধ্যেই তাঁর জীবন। অমর পালের লোকসংগীত শিক্ষার হাতেখড়ি হয়েছিল মা দুর্গাসুন্দরীর কাছেই। এরপর আরেকটু বেড়ে উঠে মায়ের কাছে লোকগীতের পাঠ নেওয়ার পাশাপাশি উচ্চাঙ্গ সংগীতের তালিম নেন শ্রদ্ধেয় ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ সাহেবের ছোট ভাই জনাব আয়েৎ আলি খাঁয়ের কাছ থেকে। ১৯৪৮ সালে অমরের সঙ্গে আলাপ হয় আকাশবাণীর গীতিকার শচীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্যের। সেই সূত্রেই কলকাতায় পাড়ি দেন।

কলকাতায় এসে অধ্যাপক মণি চক্রবর্তী, সুরেন চক্রবর্তী, ননীগোপাল বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে পুনরায় লোকগান শিক্ষা শুরু করেন। এইভাবেই একদিন আকাশবাণীর গ্রেডের শিল্পী সম্মান লাভ করেন। তারপর থেকে আর ফিরে তাকাতে হয়নি এই প্রভাতী শিল্পীকে। তাঁর নিজস্ব গানের রেকর্ড প্রকাশিত হওয়ার পাশাপাশি শুরু করেন চলচ্চিত্রের সংগীতে কণ্ঠ প্রদান করে। খাস অর্থে যাকে প্লে-ব্যাক বলে। প্রথম প্লে-ব্যাক করেন ‘হীরক রাজার দেশে’ ছবিতে।

[আরও পড়ুন: সিনেমাও ভোটে প্রভাব ফেলতে পারে, মোদির বায়োপিক ইস্যুতে মন্তব্য বিশাল ভরদ্বাজের]

দেবকী কুমার বসু, সত্যজিৎ রায়, ঋতুপর্ণ ঘোষের মতো পরিচালকদের ছবিতে তাঁর গাওয়া গান বিশেষভাবে শ্রোতাদের মন ছুঁয়ে গিয়েছিল। সত্যজিৎ রায়ের ‘হীরক রাজার দেশে’ ছবিতে সেই বিখ্যাত গান ‘কতই রঙ্গ দেখি দুনিয়া’র কথা এক্ষেত্রে বিশেষভাবে উল্লেখ্য। প্লে-ব্যাক সিঙ্গার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন এই গান দিয়েই। ভারত সরকারের সংগীত-নাটক অ্যাকাডেমি পুরস্কার-সহ রাজ্য সরকারের লালন পুরস্কার এবং সংগীত মহাসম্মানও অর্জন করেছেন তিনি। ডি লিট পেয়েছিলেন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। প্রভাতী এবং ভাটিয়ালি গানে অমর পালের মতো দ্বিগ্বিজয়ী দ্বিতীয়টি খুঁজে পাওয়া দায়। এই মহান সংগীত শিল্পীর প্রয়াণে শোকস্তব্ধ গোটা বাংলার সংগীত জগৎ। টুইটারে শোকপ্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। 

Saddened at the passing away of well-known folk singer Amar Pal. I recall his contribution to films like Hirak Rajar Deshe and Nimantran. My condolences to his family and admirers

— Mamata Banerjee (@MamataOfficial) April 20, 2019

আরও পড়ুন

আরও পড়ুন

ট্রেন্ডিং