দেবত্রী ঘোষ: ‘গান্ধারী’- মহাভারতে তাঁর পরিচয় গান্ধারের রাজকন্যা, কুরুবংশের অন্ধ রাজা ধৃতরাষ্ট্রের জায়া রূপে। বিবাহের পর স্বামী চোখে দেখতে পান না বলে, আজীবনের মতো দু’চোখ কাপড় দিয়ে বেঁধে ফেলেছিলেন তিনি। তবে এমন নয়, যে গোটা কাহিনি জুড়ে তিনি সব অন্যায়ের প্রতি চোখ ফিরিয়ে থেকেছেন। তাঁকে রূপক হিসেবে ব্যবহার করে বিভিন্ন লেখালিখি ও অন্যান্য কাজ হয়েছে পরবর্তীকালে। দেবাশিস মাখিজা পরিচালিত ছবিতে অবশ্য মূল চরিত্রের এই অন্ধত্ববরণ স্বেচ্ছায় নয়। ট্রেনে করে বেড়াতে যাওয়ার সময়।
ক্ষণিকের অন্যমনস্কতায় হঠাৎই মেয়েকে কেউ একজন তুলে নিয়ে যাচ্ছে দেখে তাকে ধাওয়া করে বাণী (তাপসী পান্নু)। আঘাত লেগে তার চোখের দৃষ্টি চলে যায় সাময়িকভাবে। কাল্পনিক শহর জয়পুরা, যেখানে বিগত কিছু মাসে বেশ কিছু বাচ্চার অপহরণ ঘটে গিয়েছে, কিন্তু অলস পুলিশবাহিনীর বিশেষ মাথাব্যথা নেই। এহেন শহরে ছয় বছরের মেয়ে মিষ্টিকে হারিয়ে দিশেহারা বাণী আর তার স্বামী গোকুল (ইশওয়াক সিং)। জয়পুরা এমন এক শহর যেখানে বহুরূপীদের অস্তিত্ব এর শিকড়ের সঙ্গে জড়িত। সেই শহর গোপন সুড়ঙ্গে ভর্তি। সেখানকার বাসিন্দারা ওপর ওপর উপকারী হলেও, ভেতরে তাদের অন্যরূপ। আর সেই সঙ্গে রয়েছে মা চৌমুখী ও মগ্রাসুরের গল্প। এত কিছুর মধ্যে লেখিকা কনিকা ধিলোঁ এনে ফেলেছেন শিশুদের পাচারের গল্প ও মূল চরিত্রের অতীতের অন্ধকার।
আরও পড়ুন:

এমন থিমের গল্প বলিউডে নতুন নয়। এমনকী নারীপাচারের গল্পও পর্দায় দেখা গিয়েছে আগে অনেকবার। কিন্তু ‘গান্ধারী’র ক্ষেত্রে প্রতিশোধের কাহিনি বেশ কিছু ক্ষেত্রে হোঁচট খেয়েছে। কখনও পরিস্থিতির ধূসর দিক, আবার কখনও সাংঘাতিক কিছু অ্যাকশন দৃশ্য গল্পটাকে কোথাও থিতু হতে দেয়নি।
একমাত্র মা-ই পারে সব অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়ে গিয়ে মেয়েকে উদ্ধার করে আনতে, এমন থিমের গল্প বলিউডে নতুন নয়। এমনকী নারীপাচারের গল্পও পর্দায় দেখা গিয়েছে আগে অনেকবার। কিন্তু ‘গান্ধারী’র ক্ষেত্রে প্রতিশোধের কাহিনি বেশ কিছু ক্ষেত্রে হোঁচট খেয়েছে। কখনও পরিস্থিতির ধূসর দিক, আবার কখনও সাংঘাতিক কিছু অ্যাকশন দৃশ্য গল্পটাকে কোথাও থিতু হতে দেয়নি। এমনকী, এই ছবি দেখতে দেখতে বেশ কিছু জায়গায় ‘মর্দানি’ বা ‘দিল্লী ক্রাইম’-এর আভাসও মেলে। তাপসী পান্নু ও কণিকা ধিলোঁ জুটির বেশ কিছু ছবি দর্শক আগেও দেখেছে – ‘মনমর্জিয়া’, ‘হাসিন দিলরুবা’ ইত্যাদি। এই ছবির প্রযোজকও কণিকাই। তবে লেখিকা যে গল্পটা বলতে চেয়েছেন, পরিচালক দেবাশিস মাখিজার কাজে সেটা সম্পূর্ণ ফুটে ওঠেনি। একটা ছবি যার প্রেক্ষিত বাংলার কোনও এক শহর (সে কাল্পনিকই হোক না কেন), সেখানে পাঞ্জাবি আবহসংগীতের ব্যবহারও বেশ বেমানান।

ছবিতে বাণীই মূল চরিত্র। তাপসী মন দিয়ে অভিনয় করেছেন। বিশেষ করে অ্যাকশন দৃশ্যে তাঁর অভিনয় আরও দৃঢ়। সহ অভিনেতা ইশওয়াক সিং থেকে ছায়া কদম, মিতা বশিষ্ট বা স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায় তাঁকে যোগ্য সঙ্গত দিলেও তাঁদের চরিত্রগুলোর প্রতি চিত্রনাট্য মনোযোগী হয়নি। ফলে মনে হবে, তাঁরা যেন এই ছবিতে কেবল তাপসীকে সঙ্গ দেওয়ার জন্যই আছেন। একথা নিঃসন্দেহে বলা যায় যে ভারতের মতো দেশে সমাজের এই কুরূপগুলো বারবার তুলে ধরা আবশ্যিক। সেখানে ‘গান্ধারী’ সিনেমা হিসেবে প্রাসঙ্গিক বটে। কিন্তু গল্পের বাঁধুনি আলগা হলে এবং একাধিক ঘটনা একসঙ্গে কম সময়ে বলে ফেলতে চাইলে, দর্শকের ওপর তার বিশেষ প্রভাব পড়ে না। তাতে পৌরাণিক চরিত্রের রূপক থাকুক বা না থাকুক।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
তারাতলাকাণ্ডে ধৃত কলকাতা পুরসভার সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার, ভূমিকা খতিয়ে দেখছে পুলিশ
-
‘জোড়াফুলেই লড়ব’, প্রতীক-যুদ্ধে ঋতব্রতর ‘বাপের সম্পত্তি’র পালটা মমতাপন্থী সাংসদ কল্যাণের
-
ন্যাশনাল ক্রাশ! কেন ইচ্ছা থাকলেও বিয়ে করতে পারেননি প্রেসিডেন্ট মুর্মুর প্রাক্তন এডিসি ঋষভ?
-
তৃণমূলের প্রতীক কার, কালীঘাট ও ঋত শিবিরের বক্তব্য শুনে কোন সিদ্ধান্তের পথে কমিশন?
-
‘আমরা কি বৈভবের মতো প্রতিভা তৈরি করতে পেরেছি?’, পাক ক্রিকেটের বেহাল দশায় ক্ষুব্ধ আক্রম