৩০ আশ্বিন  ১৪২৬  শুক্রবার ১৮ অক্টোবর ২০১৯ 

Menu Logo পুজো ২০১৯ মহানগর রাজ্য দেশ ওপার বাংলা বিদেশ খেলা বিনোদন লাইফস্টাইল এছাড়াও বাঁকা কথা ফটো গ্যালারি ভিডিও গ্যালারি ই-পেপার

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক:  ছবির মুক্তি আসন্ন। কিন্তু মূল সমস্যা, কিছুতেই পাওয়া যাচ্ছে না প্রেক্ষাগৃহ। অতঃপর শিরে সংক্রান্তি! এই প্রথমবার অবশ্য বাংলা সিনেমা এমন সমস্যার সম্মুখীন হয়নি। আগেও সিনেমা হল না পাওয়ার সমস্যা দেখা দিয়েছে বহুবার। কিন্তু এবার একেবারে ‘অ্যালার্মিং সিচুয়েশন’, বলছেন সিনে বিশেষজ্ঞরা। দোর গোড়ায় কড়া নাড়ছে বাংলা সিনেমার শোচনীয় পরিস্থিতি। দুন্দুভি অবশ্য অনেক আগেই বেজেছিল। তবে গুটি কজন পরিচালকের হাত ধরে প্রেক্ষাগৃহমুখো হয়েছেন বাঙালি সিনেদর্শকরা। তবে পরিস্থিতির যে খুব একটা হেরফের হয়েছে এমনটা কিন্তু নয়! আর ঠিক এমনই একটি সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছে প্রদীপ্ত ভট্টাচার্যের ‘রাজলক্ষ্মী ও শ্রীকান্ত’ ছবিটিকে। সর্বসাকুল্যে মোটে ৪ থেকে ৫টি সিনেমা হলের শ্লট জুটেছে।

[আরও পড়ুন:  মিড ডে মিল রাঁধুনি ‘খিচুড়ি আন্টি’ই এবার কেবিসি’র কোটিপতি]

অবাক হচ্ছেন তো? হওয়ার মতোই কথা। তবে বলে রাখি, এই সিনেমা হলের তালিকায় কিন্তু খাস কলকাতার একটি প্রেক্ষাগৃহের নামও নেই। প্রথম সারির সিনেমা হলগুলির নাম তো বাদই দিন, নেই মধ্যমমানের হলগুলিও। জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত একজন পরিচালকের সিনেমাকেও মুক্তি পেতে গিয়ে বেগ পেতে হচ্ছে। যার জন্য মাথায় হাত পড়েছে অনেকেরই। ধুকছে বাংলা সিনে ইন্ডাস্ট্রি, বলছেন সিনে বিশেষজ্ঞরা। প্রসঙ্গত, ‘রাজলক্ষ্মী ও শ্রীকান্ত’র মতো ‘১৭ সেপ্টেম্বর’, ‘ভাল মেয়ে খারাপ মেয়ে’ ছবি ২টিরও সিনেমা হল পাওয়া নিয়ে সমস্যা দেখা দিয়েছিল।

জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত পরিচালকের ছবির মুক্তি পেতে যদি এমন অবস্থার সম্মুখীন হতে হয়, তাহলে স্বল্প বাজেটের ইন্ডিপেন্ডেন্ট ফিল্মমেকার কী হবে! সেই ভাবনায় যে শুধু বাংলা সিনেমহলের মাথাতেই চিন্তার ভাঁজ পড়েছে, এমনটা নয়! সুদূর মুম্বই থেকেও বাংলা ছবিকে সমর্থনের দাবীতে সরব হয়েছেন বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।

অতিপরিচিত মুখ ঋত্বিক চক্রবর্তী, রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়, অপরাজিতা ঘোষ দাস অভিনয় করেছেন ‘রাজলক্ষ্মী ও শ্রীকান্ত’ ছবিতে। ছবির গানও ইতিমধ্যে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে, তবুও এই হাল! প্রশ্ন কিন্তু উঠছেই। আঞ্চলিক ভাষার সিনেমাগুলি যেন আরও প্রাধান্য পায়, সে জন্য মহারাষ্ট্র সরকারের তরফে প্রাইম টাইমের শোয়ের শ্লটে অন্তত একটি আঞ্চলিক ছবি দেখানো আবশ্যিক করে দেওয়া হয়েছিল। উল্লেখ্য, গত বছর পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তরফেও বিবেক কুমার এক প্রেস বিবৃতিতে জানিয়েছিলেন, রাজ্যের প্রত্যেকটি প্রেক্ষাগৃহে এবং মাল্টিপ্লেক্সগুলিতে প্রাইম টাইমে অন্তত একটি বাংলা সিনেমা দেখানো আবশ্যিক করা হল। অন্তত ১২০ দিনের জন্য দেখাতেই হবে! কিন্তু তারপরও প্রদীপ্ত ভট্টাচার্যের ছবি ‘রাজলক্ষ্মী ও শ্রীকান্ত’কে মুক্তির আগে ধুকতে হচ্ছে!

[আরও পড়ুন:  মুম্বই মেট্রোকে সমর্থন করে রোষানলে অমিতাভ, ‘জলসা’র সামনে বিক্ষোভ পরিবেশপ্রেমীদের ]

কারণ, ২০ সেপ্টেম্বর ‘গোয়েন্দা জুনিয়র’ এবং ‘১৭ সেপ্টেম্বর’ ২টি বাংলা ছবি মুক্তির সঙ্গে সঙ্গে আরও ২টি বড় বলিউড ছবি সঞ্জয় দত্তের ‘প্রস্থানম’ এবং সোনম কাপুরের ‘দ্য জোয়া ফ্যাক্টর’ও রয়েছে মুক্তির তালিকায়। আর সেখানেই বোধহয় হারিয়ে গিয়েছে ‘রাজলক্ষ্মী ও শ্রীকান্ত’র নাম।

উল্লেখ্য, একটি ছবি মুক্তি পাওয়ার আগে ফিল্ম ডিস্ট্রিবিউটর, প্রেক্ষাগৃহ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা বেশ কয়েকটা পদ্ধতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়। কিন্তু শূন্যতাটা কোথায় রয়ে গিয়েছে, সেটা অজানা। সময় থাকতেই সতর্ক হওয়া উচিত, নতুবা ‘এক দেশ এক ভাষা’র চক্রের শিকার কিন্তু আঞ্চলিক ভাষা-সংস্কৃতিগুলিও বিলুপ্ত হতে বেশি সময় নেবে না, মত সিনেবিশেষজ্ঞদের। আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর মুক্তি পাওয়ার কথা ‘রাজলক্ষ্মী ও শ্রীকান্ত’র।

আরও পড়ুন

আরও পড়ুন

ট্রেন্ডিং