সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: যতদূর চোখ যায় ধূঁ ধূঁ করছে রাস্তা। মাথার উপর চাঁদি ফাটা রোদ। সবকিছুকে উপেক্ষা করে হেঁটে চলেছেন বাংলার ২৩ জন পরিযায়ী শ্রমিক। গন্তব্য পশ্চিমবঙ্গের মালদা।
লকডাউনের জেরে চাকরি হারিয়েছেন ভিন রাজ্যে কাজ করতে যাওয়া দেশের লক্ষাধিক পরিযায়ী শ্রমিক (Migrant Labour)। কেউ সব হারিয়ে লকডাউনের শুরুর দিকেই ফিরে এসেছেন বাড়িতে। কেউ অপেক্ষা করেছেন ভিন রাজ্যেই, কেউ বা অপেক্ষা করে লং মার্চ শুরু করেছেন বাড়ি ফেরার উদ্দেশ্যে। তবে হেঁটে আসার পথেই দুর্ঘটনার জেরে স্বপ্ন ভঙ্গও হয়েছে প্রচুর মানুষের। দিল্লির নয়ডা থেকে ২৩জন পরিযায়ী শ্রমিক ৯৫০ কিলোমিটার হেঁটে ফিরছেন মালদায়। বিগত কয়েকদিনেই তাঁরা ৪০০ কিলোমিটার পথ হেঁটেই পৌঁছেছেন লখনউ-আগ্রা জাতীয় সড়কে। মালদার পরিযায়ী শ্রমিক বিমল জানান, “ট্রাক বা বাস ভাড়া করার মত আমাদের সামর্থ্য নেই। সরকারও বাড়ি পৌঁছে দিতে টাকা চাইছে। আমরা পুলিশের কাছে সাহায্য চেয়েছিলাম, একটা বাসের জন্য। কিন্তু বাসচালকও বেশ কিছুটা নিয়ে আসার পর আমাদের টাকা না থাকায় গাড়ি থেকে নামিয়ে দেয়। আমরা জানি যে হেঁটে এতটা পথ অতিক্রম করতে অনেকদিন সময় লাগবে। কিন্তু এছাড়া আমাদের কাছে আর কোনও উপায় নেই। তবে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে এরপর আর নিজেদের শহর ছেড়ে কখনও বাইরে কাজ করতে যাব না।”
[আরও পড়ুন:বিপদের বাড়বাড়ন্ত, ক্যানসারের চিকিৎসায় মুম্বই গিয়ে করোনা আক্রান্ত মা-ছেলে]
আরেক শ্রমিক মঙ্গল দাসের কথায়, “আমার জানি না মালদা পৌছেই বা কী করব ।আমরা শুধু জানি পরিজনেদের সঙ্গে দেখা হবে। তাঁদের কাছে থাকতে পারব। সরকার আমাদের কোনও সাহায্য করছে না। তবে রাস্তায় মাঝে মাঝে কিছু মানুষ খাবার বিলি করছেন তাঁদের দয়ায় খেতে পাচ্ছি। তাঁরা না থাকলে খাবারও পেতাম না। অনেকদিন ধরে ভিন রাজ্যে আটকে রয়েছি। জানি না কবে পরিস্থিতি আবার আগের মত স্বাভাবিক হবে।” কথার ফাঁকেই ছলছল করে ওঠে মঙ্গল দাসের চোখ। ভারী হয়ে যায় গলার স্বর। বোঝা যায় না সেটা অনিশ্চিত ভবিষ্যতের উৎকন্ঠায় নাকি বুক চাপা কান্নায়। গলায় জড়ানো গামছা দিয়ে মুখ মুছে ফের তাঁরা হাঁটতে শুরু করেন অজানা ভবিষ্যতের লক্ষ্যে।
[আরও পড়ুন:বিয়ের অনুষ্ঠানে বাতিল মদ, লকডাউনে নয়া নির্দেশিকা কর্ণাটক সরকারের]
সর্বশেষ খবর
-
একশোর বদলে পাঁচশোর নোটের টোপ! কমিশনের লোভে ব্যবসায়ী পেলেন সাদা কাগজের টুকরো
-
তৃণমূল জমানায় অবহেলা! দুর্যোগ-বিধ্বস্ত উত্তরবঙ্গকে স্বমহিমায় ফেরাতে আড়াইশো কোটি বরাদ্দ শুভেন্দুর
-
নিজের গড় রেজিনগরেই হারের ভয়! উপনির্বাচনে বাম-কংগ্রেস-তৃণমূল মহাজোট চাইছেন হুমায়ুন
-
আপত্তি শুধু ‘সেক্যুলার’ কংগ্রেসের! নিয়ম মেনে বন্দে মাতরম পুরোটা দাঁড়িয়ে সম্মান আবদুল্লাদের
-
নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে প্রার্থীই দিতে পারবে না তৃণমূল? সর্বদলীয় বৈঠকে গড়হাজিরায় উঠছে প্রশ্ন