সোমনাথ রায়, নয়াদিল্লি: মিছিল, সভার পর এবার ‘আজাদি’ স্লোগানে সরগরম সংসদও। সোমবার লোকসভা অধিবেশনের শুরুতেই কংগ্রেস সাংসদরা হাতে CAA-NRC বিরোধী পোস্টার নিয়ে বিক্ষোভে শামিল হন। মূহুর্মূহু স্লোগান উঠতে থাকে – ‘NRC সে আজাদি, CAA সে আজাদি।’ নেতৃত্বে ছিলেন অসমের কোলিয়াবরের সাংসদ গৌরব গগৈ। জামিয়া মিলিয়া, শাহিনবাগে পরপর হামলার ঘটনা নিয়েও সরব হন তাঁরা। এসবের জেরে অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বের পর আর লোকসভার কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি। দিনের প্রথমার্ধ্ব অধিবেশন মুলতুবি হয়ে যায়। রাজ্যসভায় অবশ্য বিরোধীদের হইহট্টগোলের জেরে এদিন কোনও কাজই শুরু করা যায়নি।
তরুণ বামনেতা কানহাইয়া কুমারের হাত ধরে দেশবাসী শুনেছিলেন ‘আজাদি’ স্লোগান। NRC-CAA নিয়ে উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে দিল্লির রাজপথ থেকে তা ছড়িয়ে পড়েছে দেশের সর্বত্র। কেন্দ্রের বিরোধিতায় এখন সর্বত্রই কানহাইয়ার স্বর প্রতিধ্বনিত হচ্ছে। তবে নজিরবিহীনভাবে এবার আন্দোলনের সেই ধারালো স্লোগান ঢুকে পড়ল সংসদের অভ্যন্তরে। সবচেয়ে বড় বিরোধী দল কংগ্রেস সাংসদরাই এবার তুললেন ‘আজাদি’ স্লোগান। সোমবার অধিবেশনের শুরুতেই লোকসভা কক্ষ মুখর হয়ে উঠল – ‘NRC সে আজাদি, CAA সে আজাদি’ – এই বাক্যবন্ধে। জামিয়া, শাহিনবাগে ঘনঘন গুলিচালনার ঘটনা নিয়েও প্রতিবাদে ফেটে পড়েন তাঁরা। যার জেরে প্রথমার্ধ্বে লোকসভার কাজ কিছুটা ব্যাহত হয়।
[আরও পড়ুন: হিন্দু মহাসভার সভাপতির খুনিকে ধরতে মরিয়া পুলিশ, প্রকাশ্যে সন্দেহভাজনদের ছবি]
তবে কংগ্রেসের প্রতিবাদের তালিকা আরও লম্বা। এক ঘণ্টার প্রশ্নোত্তর পর্বে আজ ছিল অর্থ বিষয়ক আলোচনা। তাতে গরহাজির ছিলেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ। তাঁর অনুপস্থিতিতে প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছিলেন অর্থ প্রতিমন্ত্রী অনুরাগ ঠাকুর। কিন্তু যতবারই অনুরাগ বলার জন্য উঠে দাঁড়াচ্ছিলেন, ততবারই স্লোগান তুলে তাঁকে বক্তব্য পেশ করতে বাধা দিচ্ছিলেন কংগ্রেস সাংসদরা।
কিছুক্ষণ এসব চলার পর শাসকদলের সাংসদরা পালটা নিন্দায় মুখর হন। বলা হয়, যাঁরা গণতন্ত্র বাঁচানোর কথা বলছেন, তাঁরাই আলোচনায় বাধা দিয়ে গণতন্ত্রকে বিপন্ন করে তুলছেন। তাঁদের উচিত, জনপ্রতিনিধি হিসেবে নিজেদের কর্তব্য ঠিকমতো পালন করা। এদিকে, লাগাতার বিক্ষোভের জেরে প্রশ্নোত্তর পর্বের সময় শেষ হয়ে যাওয়ায় প্রশ্ন করতে পারেননি হায়দরাবাদের সাংসদ আসাদউদ্দিন ওয়েইসি। তাতে তিনি ক্ষিপ্ত হন। সংসদের বাইরে বেরিয়ে জামিয়ার পড়ুয়াদের সমর্থন করে বলেন, ”ছেলেমেয়েদের আন্দোলনের পাশে আছি।” উল্লেখ্য, NRC-CAA বিরোধিতায় এমনিতে সবচেয়ে বেশি সরব হলেও, এদিন সংসদে কংগ্রেসের সঙ্গে বিক্ষোভে শামিল হননি তৃণমূল সাংসদরা।
[আরও পড়ুন: অসমে তেলের পাইপলাইনে বিস্ফোরণ, নদীবক্ষে দাউদাউ করে জ্বলছে আগুন]
সর্বশেষ খবর
-
একশোর বদলে পাঁচশোর নোটের টোপ! কমিশনের লোভে ব্যবসায়ী পেলেন সাদা কাগজের টুকরো
-
তৃণমূল জমানায় অবহেলা! দুর্যোগ-বিধ্বস্ত উত্তরবঙ্গকে স্বমহিমায় ফেরাতে আড়াইশো কোটি বরাদ্দ শুভেন্দুর
-
নিজের গড় রেজিনগরেই হারের ভয়! উপনির্বাচনে বাম-কংগ্রেস-তৃণমূল মহাজোট চাইছেন হুমায়ুন
-
আপত্তি শুধু ‘সেক্যুলার’ কংগ্রেসের! নিয়ম মেনে বন্দে মাতরম পুরোটা দাঁড়িয়ে সম্মান আবদুল্লাদের
-
নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে প্রার্থীই দিতে পারবে না তৃণমূল? সর্বদলীয় বৈঠকে গড়হাজিরায় উঠছে প্রশ্ন