২৭ আশ্বিন  ১৪২৬  মঙ্গলবার ১৫ অক্টোবর ২০১৯ 

Menu Logo পুজো ২০১৯ মহানগর রাজ্য দেশ ওপার বাংলা বিদেশ খেলা বিনোদন লাইফস্টাইল এছাড়াও বাঁকা কথা ফটো গ্যালারি ভিডিও গ্যালারি ই-পেপার

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: গোরক্ষায় কাজ করেছেন আজীবন৷ ভিনদেশি হয়ে ভারতের চিরন্তন ঐতিহ্যের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিয়েছেন৷ রাস্তায় ঘুরে বেড়ানো গরুদের আশ্রয় দিতে জার্মান মহিলা ফ্রেডরিক ইরিনা ব্রুনিং মথুরায় তৈরি করে ফেলেছিন একটি গোশালা৷ এমন এক ব্যতিক্রমী অবদানের জন্য ইরিনা ব্রুনিংকে ‘পদ্মশ্রী’ সম্মানে ভূষিত করেছিল ভারত সরকার৷ কিন্তু এসব সুখের স্মৃতি অচিরেই তিক্ত হয়ে গেল তাঁর কাছে৷ অপমানিত হয়ে ‘পদ্মশ্রী’ ফেরাতে চাইছেন ইরিনা ব্রুনিং তথা সুদেবী দাসী৷

[আরও পড়ুন : ‘চোখের সামনে দুজনের মৃত্যু দেখলাম’, বিভীষিকার সাক্ষী এভারেস্ট জয়ী]

মথুরায় ‘সুরভি গোশালা নিকেতন’ নামে একটি গোশালা চালান বছর একষট্টির ইরিনা, ভারতে এসে যাঁর নতুন পরিচয় সুদেবী দাসী হিসেবে৷ রাস্তা থেকে অসুস্থ গরুদের তুলে এনে নিজের গোশালায় আশ্রয়ে দেন৷ শুশ্রূষা করে তাদের সুস্থ করে তোলেন৷ এলাকায় যত রাস্তার গরু আছে, সকলের আশ্রয়স্থল সুদেবী দাসীর গোয়ালঘর৷ এই কাজ তিনি করছেন দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে৷ মথুরায় সম্ভবত তাঁর পরিচালিত গোশালাটিই এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড়৷ সেখানে অন্তত ৬০ জন কাজ করেন৷ গোপালন, কর্মীদের বেতন, খাওয়াদাওয়ার খরচ বাবদ মাসে ৩৫ লক্ষ টাকা ব্যয় করেন সুদেবী দাসী৷ সুরভি গোশালা নিকেতনের এখন সদস্য সংখ্যা ১৮০০টি গরু৷ এছাড়া পাশে আরও একটি ঘর আছে, যেখানে থাকে অন্ধ গরুরা৷ এদের বিশেষ চিকিৎসা দরকার বলে আলাদা করে রাখা হয়৷

বছরভর ভিসা নিয়েই কাজ করেন সুদেবী দাসী৷ মেয়াদ উত্তীর্ণ হলে, ফের আবেদন করেন মেয়াদবৃদ্ধির জন্য৷ এভাবেই চলছে৷ এবারও ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর জন্য আবেদন করেছিলেন ইরিনা ব্রুনিং৷ কিন্তু বিদেশমন্ত্রক সেই আবেদনে সাড়া দেয়নি৷ আর তাতেই বিপাকে পড়েছেন বিদেশি এই গোপালিকা৷ বলছেন, ‘কেন এমনটা হল, আমি বুঝতে পারছি না৷ ভিসার মেয়াদ না বাড়ালে আমাকে দেশ ছেড়ে চলে যেতে হবে৷ আর তাতে গরুগুলো বেশি বিপদে পড়বে৷ ওরা আমার দেওয়া ওষুধ খেয়েই সুস্থ হয়ে উঠছে৷ এখন কে দেখবে ওদের?’

[আরও পড়ুন : দেশ ছেড়ে ‘পালানোর চেষ্টা’, বিমানবন্দরে সস্ত্রীক আটক জেট এয়ারওয়েজের কর্ণধার]

এই ঘটনায় বেশ ক্ষুব্ধ সুদেবী দাসী৷ প্রতিবাদে তিনি ‘পদ্মশ্রী’ সম্মান ফিরিয়ে দিতে চান৷ বলছেন, যেখানে সেবা করার সুযোগ থেকে তাঁকে বঞ্চিত করা হচ্ছে, সেখানে তাঁর কোনও সম্মান রাখার প্রয়োজন নেই৷ তাই তিনি জার্মানি থেকে ভারত সরকারের দেওয়া ‘পদ্মশ্রী’ ফিরিয়ে নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন৷ সুদেবী দাসীর এই কাহিনি সত্যি বেশ কিছু প্রশ্ন তুলে দিল৷ সেবাকারীকে সেবার সুযোগ না দেওয়া আদৌ কতটা সম্মান করা, সে বিষয় তৈরি হচ্ছে সংশয়৷

আরও পড়ুন

আরও পড়ুন

ট্রেন্ডিং