২ কার্তিক  ১৪২৬  রবিবার ২০ অক্টোবর ২০১৯ 

Menu Logo পুজো ২০১৯ মহানগর রাজ্য দেশ ওপার বাংলা বিদেশ খেলা বিনোদন লাইফস্টাইল এছাড়াও বাঁকা কথা ফটো গ্যালারি ভিডিও গ্যালারি ই-পেপার

সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়: শেয়ার বাজার গত সপ্তাহে নতুন উচ্চতা তৈরি করল। বম্বে সেনসেক্স সূচক এখন ৩৮০০০ অঙ্কের উপর। ব্যাংক নিফটি ঐতিহাসিক উচ্চতায় পৌঁছে গিয়েছে। মূলত বিদেশি লগ্নিকারীদের বিনিয়োগের প্রেক্ষিতেই বাজারে এই উচ্ছ্বাস। আমেরিকা এবং ইউরোপে এখন সুদের হার আপাতত বৃদ্ধি পাচ্ছে না। সুতরাং ওই সমস্ত দেশ থেকেও ভারতে বিনিয়োগ শুরু হয়েছে। গত শুক্রবার বিদেশি লগ্নি হয়েছে ৪৩০০ কোটি টাকা। এটাও অবশ্য ঠিক যে এই পর্যায় দেশি লগ্নিকারী সংস্থাগুলো শেয়ার বেচে দিয়ে মুনাফা তুলছে।

শেয়ার বাজারে উচ্ছাস অন্য একদিক থেকেও আসছে। মনে করা হচ্ছে বর্তমান সরকার হয়তো আবার ফিরে আসবে। শেয়ার বাজারের নিজস্ব একটা চিন্তা ভাবনা আছে। ২০১৪-তেও এমনটাই দেখা গিয়েছে। মনে হয়েছিল ত্রিশঙ্কু সরকার হবে। বাজার বলল, ‘না হবে না’। বাজার যা বলল, তাই হল। বাজারের সূচক ৬০০০ থেকে উপরে চলে গেল ১১০০০-এর উপর। আবার এখন সেই সাধারণ নির্বাচন। তাহলে কি গতবারের মতো ৬০০০ পয়েন্ট সূচক বৃদ্ধি পাবে? অর্থাৎ সূচক ১৬০০০ পয়েন্ট হয়ে যাবে? হতেও পারে, না-ও হতে পারে। তবে শুধু কোন সরকার আসবে তার উপর নির্ভর করে তা হতে পারে না। ব্যবসা ভাল হচ্ছে কি না দেখতে হবে। এই মুহূর্তে ব্যবসা ভাল হচ্ছে না।

[দিল্লির মসনদে মোদিকে পৌঁছে দিয়েছিলেন বন্ধু পারিকরই]

যেমন অটো সেক্টরে কিছু হচ্ছে না। গত ছ’মাস অটো সেক্টরের সূচক একই জায়গায় আছে। ২০১৮ সালে শুরুর দিকে যেখানে অটো সূচক ছিল তার থেকে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ নিচের দিকে আছে। সুতরাং অটো ভাল নয়। গাড়ির ব্যবসা যদি খারাপ থাকে বলা যায় যে অর্থনীতি ভাল নয়। এবার গাড়ির ব্যবসা যদি ভাল হতে শুরু করে তাহলে সূচক নিশ্চয়ই অনেকটা বৃদ্ধি পাবে। প্রশ্ন হচ্ছে, আপনারা কি মনে করেন গাড়ি বিক্রি আগামিদিনে বাড়বে? আমার তো মনে হয় বৃদ্ধি পাওয়া উচিত। বিক্রি কমেছে সেটা দেখা যাচ্ছে। তবে নির্বাচনের পর দু’চাকা ও চারচাকা গাড়ির বিক্রি বৃদ্ধি পাওয়া উচিত।দু’চাকার কোম্পানি বাজাজ অটোর শেয়ারের দাম সম্প্রতি ২৪০০ টাকা থেকে প্রায় ৩০০০ হয়ে গিয়েছে। এর থেকে বোঝা যাচ্ছে যে দু’চাকার বিক্রি বৃদ্ধি পাচ্ছে।

আবার উল্টোদিকে দু’চাকা প্রস্তুতকারক সংস্থা টিভিএস মোটরসের শেয়ারের দামে কোনও বৃদ্ধি নেই। সেখান থেকে বোঝা যাচ্ছে না যে কী হচ্ছে দু’চাকার ব্যবসায়। এখন এরকম অবস্থায় হয়তো আমাদের অপেক্ষা করতে হবে। মারুতি কোম্পানির শেয়ার ১০০০০ টাকা থেকে ৩০ শতাংশ নিচে ৭০০০-এ এসে দাঁড়িয়েছে। খুব একটা উপর-নিচ হচ্ছে না। সেখান থেকেও বোঝা যাচ্ছে যে গাড়ির বিক্রি এখনও ভাল নয়। অনিশ্চয়তার মধে্যই শুরু হয় লগ্নির ভাবনা। তবে লগ্নি হবে কিস্তিতে। অল্প অল্প করে। টাকা হাতে রাখতে হবে যদি দাম নিচে আসে এই ভাবনা মাথায় রেখে। এই যে এতক্ষণ অটো সেক্টর সম্পর্কে বললাম এই চিন্তাভাবনাকে ফান্ডামেন্টালের ভাষায় বলে ‘এইমস আপ’ পদ্ধতি। অর্থাৎ তলানি দামে চিন্তাভাবনা কীভাবে হওয়া উচিত।

চলতি সপ্তাহে টাইটান শেয়ারটির দিকে নজর রাখতে হবে। ১১০০ টাকায় দাম বন্ধ হয়েছে। এই দাম ঐতিহাসিক উচ্চতায়। সুতরাং আরও নতুন নতুন দাম হওয়া উচিত। এটাও ঠিক, যে দাম উপরে গিয়ে কখনও কখনও আটকাবে। কখনও কখনও সামান্য নিচে আসবে। আবার কখনও নতুন উচ্চতা তৈরি করবে। কেনার সঠিক জায়গা বোঝা মুশকিল। মোটামুটিভাবে, আপনার কাজ করতে হলে চোখ সরালে হবে না। এই মুহূর্তে যতক্ষণ ১০৭০ এর উপরে আছে সব ঠিকঠাক চলবে। সুতরাং সেটাই হবে স্টপলস। ৩০ টাকা নিচে স্টপ পছন্দ হবে কি না সেটা প্রথমে দেখে নিন। এইচডিএফসি শেয়ারটি খুবই উচ্চমানের। যতক্ষণ ১৯৭০-এর উপরে চলছে, উপরের দিকের যাত্রা। সুতরাং এই দামটাকে স্টপ করে কেনা চালাতে পারেন। সূচক নিফটি এখন ১১৪০০-১১৫০০-র মধ্যে আটকালে হয়তো সামান্য উপর-নিচেই সীমাবদ্ধ থাকবে। ১১৫৮০-র গণ্ডি পার হলে ১১৬৮০ হতে পারে। সেখানে নিশ্চয়ই ধাক্কা খাবে। যেদিন নিফটি ধাক্কা খাবে, শেয়ারের দামও নিচের দিকে গোত্তা খাবে। বাজারের টেকনিক্যাল ভাষায় ‘ওভারবট’ অর্থাৎ সংশোধনের সুযোগ।

[দেশের শীর্ষপদে বঙ্গসন্তান, ভারতের প্রথম লোকপাল পিনাকীচন্দ্র ঘোষ]

আরও পড়ুন

আরও পড়ুন

ট্রেন্ডিং