রিংকি দাস ভট্টাচার্য: ঐতিহ্যবাহী হেয়ার স্কুলের সামনে ফের বিক্ষোভে বসলেন অভিভাবকরা। তাঁদের দাবি, যত শীঘ্র সম্ভব স্কুলে পর্যাপ্ত শিক্ষক নিয়োগ করতে হবে। এর আগে ১৭ জুলাই এই একই দাবি নিয়ে স্কুলের সামনে রাস্তা অবরোধ করেছিলেন তাঁরা। কিন্তু সেদিনের সেই বিক্ষোভে ফল হয়নি। এখনও পর্যন্ত পর্যাপ্ত শিক্ষক নেই হেয়ার স্কুলে। তাই আজ ফের স্কুলের সামনে কলেজ স্ট্রিটে বিক্ষোভে বসেন অভিভাবকরা। স্কুল ছুটি হওয়ার পর পড়ুয়ারাও এই বিক্ষোভে শামিল হয়। ঘটনার খবর পেয়ে প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের চেয়ারম্যান ঘটনাস্থলে যান। আগামিকাল থেকে পূর্ণ সময়ের জন্য অস্থায়ী ৫ জন শিক্ষক নিয়োগের আশ্বাস দেন তিনি। এরপরই উঠে যায় অবরোধ।
বর্তমানে ৫০০ জন ছাত্রের জন্য মাত্র ৮ জন শিক্ষক রয়েছেন হেয়ার স্কুলে। এর ফলে পড়াশোনা প্রায় হচ্ছে না বলে অভিযোগ। ছাত্রদের কথা ভেবেই বিক্ষোভে শামিল হয়েছেন বলে জানান অভিভাবকরা। বুধবার সকাল প্রায় ৭টা ১০ মিনিট থেকে শুরু হয় অবরোধ। প্রায় পাঁচ ঘণ্টা চলে অবরোধ। অভিভাবকদের অভিযোগ, শিক্ষকের অভাবে স্কুলে ক্লাস প্রায় হয় না বললেই চলে। আগে তবু দু’টো পিরিয়ড হত। এখন একটা পিরিয়ডের পরই স্কুল ছুটি হয়ে যায়। একাধিকবার স্কুল কর্তৃপক্ষকে শিক্ষক নিয়োগের কথা বলেছেন তাঁরা। কিন্তু কাজের কাজ কিছু হয়নি। এখনও শিক্ষক সংকটে ভুগছে হেয়ার স্কুল।
[ আরও পড়ুন: হেয়ার স্কুলে শিক্ষক নিয়োগের দাবি, কলেজ স্ট্রিটে অবরোধ অভিভাবকদের ]
কিন্তু কলেজ স্ট্রিটের ব্যস্ত অঞ্চলে অভিভাবকরা অবস্থান বিক্ষোভে শামিল হওয়ায় সমস্যায় পড়েছেন অফিসযাত্রীরা ও স্কুল-কলেজের ছেলেমেয়েরা। কারণ, এখানেই রয়েছে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়। এছাড়া মহাত্মা গান্ধী রোড দিয়েও অনেক অফিসযাত্রী যাতায়াত করেন। তার চেয়েও বড় কথা, কাছেই রয়েছে মেডিক্যাল কলেজ। সেখানে রোগীদের যাতায়াত নিয়েও সমস্যা হচ্ছে। তাই পরিস্থিতি যাতে তাড়াতাড়ি আয়ত্ত্বে আসে, সেই চেষ্টা করে পুলিশ। কিন্তু অভিভাবকেরা নিজেদের দাবিতে অনড়। ফলে এখনই অবরোধ ওঠার কোনও সম্ভাবনা নেই।
অভিভাবকদের দাবি, অবিলম্বে এই ঘটনায় শিক্ষা দপ্তরকে হস্তক্ষেপ করতে হবে। গত মাসে একজন শিক্ষক অবসর নিয়েছেন। সেপ্টেম্বরে স্কুলের টিচার-ইন-চার্জ তনুশ্রী নাগের অবসর নেওয়ার কথা। ফলে শিক্ষকের সংখ্যা আরও কমে যাবে। এরপর স্কুল চলবে কী করে? তাঁরা চান, স্কুলে পরবর্তী যিনি টিচার-ইন-চার্জ হবেন, তিনি যেন প্রথম থেকেই বিষয়টি জেনে কাজ শুরু করতে পারেন। নাহলে ছাত্রদের ভবিষ্যৎ প্রশ্নের মুখে পড়ে যাবে। শেষে অবশ্য প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের চেয়ারম্যানের হস্তক্ষেপে সমস্যা মেটে। আগামিকাল থেকে পূর্ণ সময়ের জন্য অস্থায়ী ৫ জন শিক্ষক নিয়োগের আশ্বাস দেন তিনি। এরপরই উঠে যায় অবরোধ।
[ আরও পড়ুন: গণপিটুনি রুখতে কড়া দাওয়াই রাজ্যের, বিধানসভায় আসছে বিল ]
সর্বশেষ খবর
-
স্বাস্থ্যবিমা বাড়ল আড়াই গুণ! পুজোর আগে সরকারি কর্মীদের জন্য বিশেষ উপহার নবান্নের
-
এবার বন্দে ভারতে চড়েই প্রতিমা দর্শন, পুজোর বাংলায় নয়া চমক
-
‘কলকাতা’কে ধাক্কা মেরে সোজা ‘হাসপাতালে’ পাক রণতরী! ‘আমরা মারলে…’, কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা
-
৩০ বলে ১০০! আফগান বোলিং নিয়ে ‘ছেলেখেলা’ করে টি২০-তে দ্রুততম শতরানের রেকর্ড অভিষেকের
-
বঙ্গে এল বিশ্বকর্মা! খরা কাটিয়ে শিল্পের জোয়ার রাজ্যে, ‘নেগেটিভ সরকার’কে দুষে কী বললেন শুভেন্দু?